পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন হিন্দুস্তান পার্ক সর্বজনীনের পুজো প্রস্তুতি৷
শুভময় মণ্ডল: কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক। মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।’ যে কালো অন্ধকারের প্রতীক। কিন্তু আঁধার আছে বলেই না আলোর এত মহিমা। আঁধারের মাঝে আলো, কালোর মাঝে সাদা, কুৎসিতের মাঝে সুন্দর খোঁজে রূপতাপস মানুষের মন। জগতে যদি আঁধার না থাকতে তবে আলোর মর্ম কে বুঝত? কিন্তু উৎসবে-পার্বণে এই কালোই ব্রাত্য। সেখানে শুধুই রঙের বিচ্ছুরণ। আলোক উদ্ভাসিত। আঁধারের কোনও প্রবেশ নেই। কিন্তু এই ধরাধামেই আঁধারেরও একটা স্বতন্ত্রতা আছে। কালো মানুষ রয়েছে, তাঁদের সংস্কৃতি রয়েছে। বর্ণের দোহাই দিয়ে তাঁদের হয়তো আলোর পথের দিশারি হতে বাধা দেওয়া যায়, কিন্তু তা চিরতরে নয়। তাঁদেরও উৎসব আছে, আঙ্গিক আছে। সেই আঙ্গিকই এবার ফুটে উঠবে হিন্দুস্তান পার্ক সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে। থিম শিল্পী অনির্বাণ দাসের সৃজনে দক্ষিণ কলকাতার এই ক্রাউডপুলার পুজোয় আঁধার-আলোর সংমিশ্রণে সেজে উঠবে মণ্ডপ। ৮৭তম বর্ষে থিমের পোশাকি নাম- মিলে গেছে আঁধার আলোয়।

যা আপাত কদর্য তার অন্তর্লীন মাধুরী, যা বহিরঙ্গে বর্বর তার ভিতরের নিখাদ অভিব্যক্তি ধরা দেয় শিল্পীর মননে। ফেলে দেওয়া অনাদরের বস্তু হয়ে ওঠে মনগ্রাহী। শারদোৎসবে যেখানে শুধুই লাল-হলুদ নানান রঙের সমাহার। সেখানে এই মণ্ডপের সব উপকরণই কালো। কালো অশুভ শক্তিরই প্রতীক। কিন্তু আঁধার যখন আলোয় মেলে তা নেয় অন্য রূপ। সেই বিষয়টিকেই এবার ভাবনায় ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী। টায়ার-টিউবের অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম। হিন্দু দেবদেবীদের টায়ার-টিউব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে রয়েছে অভিনবত্ব। সেই দেবদেবীদের মূর্তিগুলির আদল আলাদা। আদিবাসী-উপজাতিদের কল্পনার আদলে তৈরি হচ্ছে সেগুলি। মণ্ডপসজ্জার মধ্যে দিয়ে সমাজের কালোর প্রতি অনীহাকে দূর করার বার্তা দিতে চান শিল্পী। তাই এমন ভাবনা। যেমনটা কবিগুরু কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। অন্ধকারেরও যে একটা অন্যরকম সৌন্দর্য আছে তাই এবার ভাবনায় ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পী। শুভাশুভের চিরায়ত দ্বন্দ্ব তাঁর হাত ধরে। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী নবকুমার পাল।

গতবছর এই অনির্বাণ দাসের সৃজনে ঠাকুরমার স্মৃতি রোমন্থণ করেছিল হিন্দুস্তান পার্ক। এবারও ফের অনির্বাণ। গতবারের নান্দনিকতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। আঁধার-আলোর মিলিয়ে দেওয়ার ভাবনা পুজোপ্রেমীদের কতটা মনে ধরে এখন তাই দেখার।

কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিওয়-
সর্বশেষ খবর
-
পেট্রলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের পরিণাম কী? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র বলল, ‘সবটাই পরীক্ষার স্তরে’
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?
-
চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী! চক্ষুদান করবেন? কী জানাল ক্লাব
-
রাষ্ট্রপতি সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, অভিযুক্ত আমলাকে ‘রিলিজ’ নবান্নের
-
প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সিএবি’তে, পঙ্কজ-পুত্রের পালটা, ‘সব অপপ্রচার’