Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
রোবট সোফিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অকৃত্রিম ভালবাসায় কলকাতার মন জয় করল যন্ত্রমানবী সোফিয়া

'৬৬টি দেশে ঘুরেছি, কোথাও কাগজ দেখাতে হয়নি', নাগরিকত্ব নিয়ে মন্তব্য যন্ত্রমানবীর।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০, ২১:৪৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০, ২১:৪৭

options
link
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অকৃত্রিম ভালবাসায় কলকাতার মন জয় করল যন্ত্রমানবী সোফিয়া zoom

শুভময় মণ্ডল ও মণিশংকর চৌধুরি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়ে শহর কলকাতার মন জয় করে ফেলল যন্ত্রমানবী সোফিয়া। মঙ্গলবার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের উদ্যোগে শহরে পা রাখে বিশ্বের প্রথম রোবট নাগরিক। নজরুল মঞ্চে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের পরিচয়ে সে বলে, ‘‌আমার নাম সোফিয়া। আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট। মানুষের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে দুনিয়াটাকে বদলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করতে চাই।’‌

২০১৬ সালে ‘অ্যাক্টিভেট’ বা প্রাণদান করা হয় সোফিয়ার ধাতব শরীরে। হংকংয়ের ‘হ্যানসন রোবটিক্স’ সংস্থার তৈরি এই যন্ত্রমানবীকে নাগরিকত্ব দিয়েছে সৌদি আরব। প্রাচীন মিশরের রানি নেফারতিতির আদলে গড়া মুখে প্রায় ৬০ রকমের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে সোফিয়া। এদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়, কলকাতা এসে কেমন লাগছে? উত্তরে খানিকটা চিন্তা করে সে বলে, ‘ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতা। এই শহর নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।’ তাঁর এই উত্তরে তুমুল হাততালিতে ফেটে পড়ে সভাগৃহ।

Advertisement

এদিন বঙ্গললনার ধাঁচে তাঁতের শাড়ি পরে ছাত্রদের সঙ্গে রীতিমতো আলোচনায় মেতে ওঠে সোফিয়া। প্রশ্নোত্তর পালা চলাকালীনই একটি অত্যন্ত ইঙ্গিতবহ কথা বলে সে। ওই যন্ত্রমানবী বলে, ‘আমি ৬৬টি দেশে ঘুরেছি, কোথাও কাগজ দেখাতে হয়নি। কোনও পরিচয়পত্রও লাগেনি।’ ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবীকরণের জেরে ভিটে হারানোর আশঙ্কায় ভীত মানুষদের হয়েই যেন হৃদয়স্পর্শী বার্তা দিয়ে গেল ‘হৃদয়হীনা’ ওই যন্ত্রমানবী। 

ভবিষ্যতে কি রোবট পৃথিবীর দখল নিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে সোফিয়া বলে, ‘‌রোবট মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তারা মানুষকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে পারে মাত্র। সেই রোবট হিসেবে কাজ করাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং।’‌ করোনা ভাইরাস নিরাময়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, করোনা যদি কম্পিউটার ভাইরাস হত, তাহলে অবশ্যই সে প্রতিরোধ করার উপায় বের করতে পারত। সোফিয়া আরও জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বলীয়ান হয়ে ভবিষ্যতে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির নিরাময় ও রোগের প্রতিষেধক অবিষ্কারে মদত করবে রোবটরা। ‌

এদিকে, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম রায়চৌধুরি মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন, আগামী ১০ বছরে বাংলার কোনও পড়ুয়া যদি সোফিয়ার থেকে ৫ শতাংশ বেশি উন্নত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট তৈরি করতে পারে, তাহলে তাঁকে নোবেল প্রাইজের থেকেও ১ ডলার বেশি অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। এদিনের, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, কুণাল সরকার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ অফ স্কুল এডুকেশনের চেয়ারপার্সন মানসী রায়চৌধুরি, গৌতম সেনগুপ্ত, এ কে রায়, আইএসআই অধিকর্তা সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তন অধ্যাপক অজয় চক্রবর্তী প্রমুখ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সত্যজিৎ রায়ের গল্পের যন্ত্রমানব ‘অনুকূল’-এর মতো রোবটরা দুনিয়াজুড়ে দাপিয়ে বেড়াবে। বুদ্ধি বা বিশ্লেষণী ক্ষমতায় কোনও অংশেই মানুষের চাইতে কম হবে না তারা। এমনকী, ভালবাসা, রাগ, অভিমানের মতো সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতিও থাকবে তাদের মধ্যে। তবে, সোফিয়ার বুদ্ধিমত্তা জাগিয়ে তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি অস্বস্তিকর প্রশ্নও। যেমন, ভবিষ্যতে কি রোবট পৃথিবীর দখল নিতে পারে?

অনেকেই মনে করেন, কল্পবিজ্ঞান গল্পের লেখক আইজ্যাক ওসিমভের ‘থ্রি ল’স অফ রোবটিক্স’ বা যন্ত্রমানবদের জন্য প্রযোজ্য তিনটি নিয়ম মেনেই চলবে রোবটরা। এই নিয়মগুলি হল–প্রথম, একটি রোবট কখনওই মানুষের ক্ষতি হতে দিতে পারে না। দ্বিতীয়, যে কোনও রোবট মানুষের আদেশ মানতে বাধ্য, যদি না সেটি অন্য মানুষের ক্ষতি করে। তৃতীয় নিয়মটি হচ্ছে, যে কোনও মূল্যে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, যদি না তা অন্য দু’টি নিয়মের পরিপন্থী হয়। সব মিলিয়ে, মন জয় করেও কোথায় যেন সংশয় তৈরি করল সোফিয়া।

দেখুন ভিডিও:

[আরও পড়ুন: মার্কিন-তালিবান চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত, ট্রাম্পের কাছে ‘জবাব’ চাইবে দিল্লি!]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.