BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর ইতিবাচক বার্তায় আশ্বস্ত শিল্পমহল

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 8, 2016 9:15 am|    Updated: June 8, 2016 9:28 am

An Images

তরুণকান্তি দাস: কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের লবিতে তখন শিল্পপতিদের মেলা৷ সবাই খোশমেজাজে৷ চলছে খোলামেলা আড্ডা৷ বণিকসভাগুলির সংবর্ধনাসভায় বক্তব্য রেখে একটু আগে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মেয়র তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা রয়েছেন৷ মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন দফতরের সচিবরাও হালকা মেজাজে৷ স্বাভাবিক৷ মুখ্যমন্ত্রী এইমাত্র যে বক্তব্য রাখলেন তার মধ্যে কর্পোরেটের কাঠ-কাঠ ভাবের চেয়ে ঘরোয়া, আন্তরিকতা ছিল বেশি৷ তা যে ভোকাল টনিকের কাজ করছে৷ সরকারের আমলা থেকে শিল্পপতি, সকলের কাছেই বার্তা স্পষ্ট, সময় নষ্টের সময় নেই৷ কাজ ফেলে রাখার বিলাসিতা করা মানে কার্যত কোর্ট-মার্শাল৷ এবং আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন, “মাথা উঁচু রাখুন, ভয়শূন্য থাকুন৷ পাশে ছিলাম, আছি৷”
এর আগেও তো কোনও সরকার ক্ষমতায় এলে বণিকমহল সংবর্ধনার আয়োজন করেছে৷ সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রথামাফিক প্রতিশ্রূতি দিয়েছে৷ এটাই রেওয়াজ৷ সৌজন্য৷ তা হলে মঙ্গলবারের সভার চরিত্রে কী এমন ছিল যে তার স্বাদ আলাদা? উত্তরটা দিলেন এক শিল্পপতি৷ এখানে কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট বণিকসভা নেই৷ সবাই আছে৷ আমরা শিল্পপতিরা প্রত্যেকে পৃথক চেম্বারের সদস্য৷ এখানে কিন্তু সমস্ত মতবিরোধ সরিয়ে সকলে হাজির৷ এক মঞ্চে প্রতিটি বণিকসভার কর্তারা৷ এবং মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে ক্যাবিনেটের অনেকে ও আমলাকুল৷ রাজ্যের শিল্পমহলের কোনও সভার এই ছবি বিরল৷ আর্কাইভে রাখা মতোই৷
সত্যিই তাই৷ সভাশেষের মঙ্গলবারের দ্বিপ্রাহরিক আড্ডায় কে নেই? বেঙ্গল চেম্বারের অম্বরীশ দাশগুপ্ত, ফিকির হর্ষ নেওটিয়া, মার্চেন্ট চেম্বারের মণীশ গোয়েঙ্কা, অ্যাসোচেমের সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালা, সিআইআইয়ের সঞ্জয় বুধিয়া, ভারত চেম্বারের রাকেশ শা, আইসিসি-র শিবসিান্ত কাউল৷ সঙ্গে অন্যান্য চেম্বারের কর্তারাও৷ শ্রোতাদের আসনে একটু আগে যাঁরা মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় ইনিংসের শিল্প-স্ট্র্যাটেজি, বুঝছিলেন ঠিক কী চায় ফের ক্ষমতায় আসা সরকার তাঁরাও নিজেরা গোল হয়ে ফের ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন সব কিছু৷ শিবসিান্ত বলছিলেন, “এভাবে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এত সহজে আমাদের সঙ্গে মেশেননি, নাম ধরেও ডাকেননি৷” সঞ্জয় বুধিয়া বললেন, “রাজনৈতিক বিভেদকে সরিয়ে জিএসটি মেনে নেওয়া মানে তো ইতিবাচক পদক্ষেপ৷ উনি তো উন্নয়নকে রাজনীতির সঙ্গে মেলালনি৷ এর চেয়ে ভাল কী হয়?” ক্রেডাইয়ের সুশীল মোহতা, বণিকসভার জিপি সরকার নিশ্চিত, এই পাঁচ বছর শিল্পক্ষেত্রে লগ্নি অনেক বাড়বে৷ নির্মাণশিল্প ঘুরে দাঁড়াবে৷ অ্যাসোচেমের সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালা আপ্লুত৷ তাঁর মতে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু মানসিকতাই তাঁকে আমাদের কাছে এত বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে৷ ই-গভর্নন্যান্স, ইজ অফ ডুইং বিজনেস নিয়ে আমরা খুশি৷” অম্বরীশ দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লন্ডনে শিল্প-সফরের কথা তুলে ধরে বলেছেন, “আমরা অনেক কাজ করেছি৷ সাহায্য পেয়েছি৷ মুখ্যমন্ত্রী তো সবাইকে উৎসাহ দেন৷ এটাই তো ভোকাল টনিক৷” মার্চেন্ট চেম্বারের মনীশ গোয়েঙ্কা তো জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর গোষ্ঠী প্রায় ১৫০০ কোটি বিনিয়োগ করছে৷ আসছে সিমেণ্ট কারখানা৷ হর্ষ নেওটিয়া একধাপ এগিয়ে বাউন্সার দিয়েছেন৷ ক্রিকেট মাঠের উদাহরণ টেনে বলেছেন, “জেলায় গিয়ে বৈঠক, মানুষের কাছে প্রশাসনকে নিয়ে যাওয়া, শিল্পে নজর, সিঙ্গাপুর, লন্ডন থেকে ভিন্ন দেশ থেকে লগ্নি আনার চেষ্টা এতেই স্পষ্ট সরকার কী চেয়েছে৷ আর তা বুঝেই জনতা এই সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, দিদি ছক্কা মেরে বিরোধীদের মাঠের বাইরে ফেলে দিয়েছেন৷” তার পরেই রবীন্দ্রনাথের শরণ নিয়ে বলেছেন, “এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে..”৷ চমকে দিয়েছেন সি কে ধানুকা৷ তিনিও রবীন্দ্রনাথের গানের আশ্রয় নিয়ে সভায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা সবাই রাজা..” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আপনারা এখানে কোনও ভয় পাবেন না৷ এই সরকার আপনাদের৷ আসুন, লগ্নি করুন৷” জানিয়ে দিয়েছেন, গতবারের মতোই এবারও শিল্পপতিদের গুরুত্ব দিয়ে নানা কমিটিতে রাখা হবে৷ এবং যথারীতি তাঁর স্বভাবসি ভঙ্গিতে তিনিও শেষে কবিগুরুর বাণী শুনিয়েছেন, “চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”৷
মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে গিয়েছেন দুপুর আড়াইটা নাগাদ৷ তাঁর কথার রেশ ধরেই শিল্পপতিদের আলাপচারিতা চলল৷ এবং তাঁদের আগামি পাঁচ বছরের যাত্রাপথ নিয়ে বাক্যালাপ চলতে থাকল, খোলামেলা৷ চিত্ত ভয়শূন্য রেখেই৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement