২২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ৯ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

মমতার দুরন্ত জয়ে কর্মসংস্থান-শিল্পোন্নয়নের আশা দেখছে বঙ্গের শিল্পমহল

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: May 4, 2021 9:24 am|    Updated: May 4, 2021 12:51 pm

Industrialists happy with Mamata Banerjee's victory in West Bengal assembly polls| Sangbad Pratidin

স্টাফ রিপোর্টার: জনসাধারণের রায়ে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে দুরন্ত জয়লাভ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। ডবল সেঞ্চুরি পার করে জয়ী হয়েছেন মমতা। ইতিমধ্যেই জয়যুক্ত সরকারের তরফে নেওয়া উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বণিকসভা ও শিল্পপতিরা। একইসঙ্গে তাঁরা ব্যক্ত করেছেন শিল্পের উন্নয়নে নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আশা৷ কারও আশা, ১০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী পাঁচ বছরে শিল্পের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে৷ কেউ চাইছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে বড় শিল্পগুলির কথাও ভাবা হোক৷ আবার কেউ চাইছেন, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে আরও বেশি সম্পর্ক স্থাপন করুক রাজ্য সরকার৷ সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে আরও জোর দিক নতুন সরকার, এমনটাই চাইছে রাজ্যের শিল্প মহল।

শিল্পপতি সঞ্জয় বুধিয়া বলেন, ‘‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই জয় আবারও নিশ্চিত করে যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দিদির নেতৃত্ব, নীতি এবং প্রকল্পগুলির উপর বিশ্বাস এবং ভরসা বজায় রেখেছে। এই রায়কে স্বাগত। গত ১০ বছর ধরে রাজ্যে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তা আরও ত্বরান্বিত হবে। রাজ্য সরকার প্রান্তিক মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছে। শিল্পায়নের স্বার্থে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য আরও এগিয়ে যাবে বাংলা।’’ শিল্পের কথা আরও বেশি করে ভাবুক সরকার৷ এই আশা ব্যক্ত করেছেন শিল্পপতি ঋষভ কোঠারি। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই সরকার গত ১০ বছর অনেক কাজ করেছে। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র থেকে ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে, ঋণদানের সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্প সম্মেলন করে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি শিল্প সংস্থাকে এই রাজ্যে লগ্নির আহ্বান জানানো একটি বড় সাফল্য। আমরা চাই তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিল্পের কথা আরও বেশি করে ভাবুক। আমরাও পাশে আছি।’’

রবিবার মমতা সরকার বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরেই নতুন সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিঅ্যান্ডআই)৷ একইভাবে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে, শিল্পের উন্নয়নে সরকারের কাছে তাঁদের কী আশা, তা জানিয়েছে ভারত চেম্বার অফ কমার্স ও মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সও। মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের কর্তা ললিত বেরিওয়ালের আশা, রাজ্যে আরও বেশি লগ্নি আসুক। তিনি বলেন, ‘‘পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে আরও প্রশস্ত করে এগোতে হবে। নতুন সরকারের গত দশ বছরের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগবে আরও বেশি করে। শিল্পাঞ্চলে সামান্য যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে তা কাটিয়ে উঠে দ্রুত এগোতে হবে। নতুন সরকার সেদিকে নজর দেবে আশা রাখি। যেভাবে সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার গড়তে বিপুল সমর্থন দিয়েছে তা উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে। শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি একটি যোগসূত্র স্থাপন করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা ভেবেছেন গত কয়েক বছরে ধরে। সরকার আগামী দিনে এই রাজ্যে আরও বেশি লগ্নি নিয়ে আসবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’’

[আরও পড়ুন: করোনার কোপে কমছে মেট্রো সংখ্যা, বদলাচ্ছে সময়সূচি, দেখে নিন তালিকা]

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি রমেশ কুমার সারাওগি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জনগণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপরই আস্থা রেখেছিল৷ পরপর তিনটি নির্বাচনে জয় এমনই ইঙ্গিত দেয়৷ অতীতের মতো আগামীতেও রাজ্য সরকারের ভবিষ্যতের প্রচেষ্টাগুলিকে আন্তরিক সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ভারত চেম্বার অব কমার্স৷’’ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসা ও লগ্নির সুযোগ বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গকে একটি ‘কনক্লেভ’ গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন রমেশ কুমার সারাওগি৷ তাঁর মতে, ‘‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে (এমএসএমই) লালনপালন করার সঙ্গে সঙ্গে বড়-মাপের শিল্পে লগ্নিবৃদ্ধির দিকে বিশেষ জোর দেওয়া উচিত৷’’

দান-ধ্যান নয়, কর্মসংস্থানের উপর জোর দিক রাজ্য সরকার৷ এমনই মত স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সংস্থা সেরাম গ্রুপের চেয়ারম্যান সঞ্জীব আচার্যর৷ তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কাছে আমার দুটিই আশা৷ প্রথমত, আইন ব্যবস্থাটা যাতে ঠিক থাকে৷ এটাই প্রশাসনের প্রথম রাজধর্ম৷ যাতে মানুষ তাঁর রুটি-রুজির পরিবেশটা পায়৷ দ্বিতীয়ত, শিল্প-বাণিজ্যের দিকে নজরটা যেন আরও বেশি করে বর্ষিত হয়৷ কর্মসংস্থান হলেই মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়বে৷ আর কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়লেই স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসার উন্নতি হবে৷ তাই দান-ধ্যানের উপর নির্ভরশীল না হয়ে মানুষ যেন কর্মসংস্থানের উপরেই নির্ভরশীল হয়৷ সরকার সেদিকেই বেশি নজর দেবে এটাই আশা করি৷’’ আবার এই অতিমারীর সময়ে শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়নের কথা ভাবছেন না শ্রী বালাজি রিয়েলিটির কর্তা মানব পাল৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘শুধুই শিল্প বা অর্থনীতিক সমৃদ্ধির কথা নয়, এই সময়ে সরকারের কাছে চাইব, করোনা পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা। মানুষ বাঁচলে শিল্প চাঙ্গা হবেই। এই সময়ে মানবসম্পদ রক্ষা করাটা বেশি জরুরি৷’’

দিল্লি পাবলিক স্কুল (ডিপিএস) রুবি পার্কের মালিক অলোক টিবরেওয়াল বলেন, ‘‘মমতা দিদিকে তাঁর এই দুরন্ত জয়ের জন্য অনেক শুভেচ্ছা জানাই৷ গত ১০ বছরে ওঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে৷ ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় আসার হার বেড়েছে৷ বহু কলেজ তৈরি হয়েছে৷ আমরা খুব খুশি তিনি তৃতীয়বারের জন্য জয়ী হয়েছেন৷ আশা করি, তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষাক্ষেত্রে এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মধ্যে শিক্ষার জন্য একটি শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হয়ে উঠবে পশ্চিমবঙ্গ৷’’

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে