অর্ণব আইচ: সাধারণের কাছে পরিচিতি কম, এমন দু’টি বণিকসভার নেটওয়ার্ক। সেই নেটওয়ার্কে থাকা কয়েকটি সংস্থার অধিকর্তা গোপাল-হৈমন্তী। ওই নেটওয়ার্কে দেশের অন্তত ১১টি রাজ্যে থাকা ১০৪টি সংস্থা এবার সিবিআইয়ের নজরে। যদিও ওই ১০৪টি সংস্থার মধ্যে বেশিরভাগই এই রাজ্যের। সংস্থাগুলিতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা লগ্নি হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সংস্থাগুলির উপর নজর রাখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। ফলে কতগুলি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, লালবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গোপাল ও হৈমন্তীর নাম উঠে আসার পর তাঁদের সংস্থা ও কার্যকলাপ সম্পর্কে খতিয়ে দেখছে পুলিশও। সেই সঙ্গে হৈমন্তী কোথায় রয়েছে, তা-ও তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন। এদিকে, দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে গোপাল দলপতি ফের জানিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় মাথা রয়েছে। হৈমন্তীর কাছ থেকে এক টাকাও পাওয়া যাবে না বলে দাবি তাঁর। কীভাবে তাঁর বাড়ির আবর্জনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথির হদিশ মিলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি যোগে গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের তদন্ত করতে গিয়েই সন্ধান মেলে কয়েকটি সংস্থার। কলকাতার আগেও হৈমন্তী যে বেঙ্গালুরুতে একটি সংস্থার অধিকর্তা ছিলেন, তার প্রমাণ মেলে। অভিযোগ, হৈমন্তীর সংস্থাগুলির মাধ্যমেই টাকা পাচার করতেন গোপাল। ওই দম্পতির সংস্থাগুলির সূত্র ধরেই প্রথমে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া অঞ্চলে একটি বণিকসভার হদিশ মেলে। এরপর হদিশ মেলে অন্য একটি বণিকসভার, যেটির দপ্তর পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকায়। এই বণিকসভাগুলি তৈরি হয় ২০১৩ বা ২০১৪ সালে। ওই সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ দুর্নীতি শুরু হয়।
[আরও পড়ুন: তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটার অ্যাকাউন্টে হ্যাকার হানা, বদলে গেল নাম]
মধ্যপ্রদেশের বণিকসভার নেটওয়ার্কে ৫৮টি বেসরকারি সংস্থার সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে এই রাজ্যে রয়েছে ৪৬টি। এছাড়াও কর্ণাটক, ওড়িশা, হিমাচলপ্রদেশ, বিহারে রয়েছে একটি করে সংস্থা। চারটি করে সংস্থা রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে। ওই ৫৮টি সংস্থায় লগ্নি হয়েছে প্রায় দশ কোটি টাকা। কলকাতায় যে বণিকসভার সন্ধান মিলেছে, তার নেটওয়ার্কে রয়েছে ৪৬টি বেসরকারি সংস্থা। এর মধ্যে ৩৬টির ঠিকানা রয়েছে এই রাজ্যেই। বিহার, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে রয়েছে একটি করে সংস্থা। মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে তিনটি করে সংস্থার হদিশ মিলেছে।

এই ৪৬টি সংস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে। এর মধ্যে গোপাল দলপতি শুধু কয়েকটি সংস্থারই অধিকর্তা নন, মধ্যপ্রদেশের বণিকসভার এক কর্তাও তিনি। সেই সূত্র ধরে স্ত্রী হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়েরও সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগ রয়েছে, এমন সম্ভাবনা গোয়েন্দারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। প্রথমে চিটফান্ড ও তারপর নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল টাকা ওই সংস্থাগুলির একটি থেকে অন্যটিতে লেনদেন করা হয়েছে বলে ধারণা সিবিআইয়ের আধিকারিকদের। কলকাতার বণিকসভার আওতায় যে সংস্থাগুলি রয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলিতেই কয়েক কোটি টাকা করে লগ্নি করা হয়েছে। যে একাধিক চিটফান্ড সংস্থার মাধ্যমে গোপাল দলপতি ও হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায় আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা তুলতেন, ওই বণিকসভার নেটওয়ার্কে সেই সংস্থাগুলি রয়েছে।
চিটফান্ডের হয়ে আট কোটি টাকা তুলে অন্তত ৮০ জন আমানতকারীকে প্রতারণার অভিযোগে দু’বছর আগে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করে গোপাল দলপতিকে। মূলত কলকাতা ও দিল্লির বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সুদে টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করেই টাকা তোলা হয়। গোপালের আগে তাঁর তিন সঙ্গী অমরেন্দ্র প্রসাদ সিং, ভরত কুমার ও সঞ্জয় দাসকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। ওই বণিকসভার নেটওয়ার্কে থাকা সংস্থাগুলির টাকার সূত্র সম্পর্কে প্রশ্নও তুলেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সংস্থাকে সামনে রেখে হাওলার কারবারও চলে। গোপাল-হৈমন্তীদের চিট ফান্ড ও নিয়োগ দুর্নীতির টাকা হাওলায় দেশের বিভিন্ন শহর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই কারণেই ওই সংস্থাগুলির উপর নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
[আরও পড়ুন: নন্দিনীর পর কে হবেন রাজ্যপালের প্রধান সচিব? রাজভবনে তিনটি নাম পাঠাল নবান্ন]
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে লজ্জার হারের পর জার্মানির কোচ হচ্ছেন ক্লপ? মুখ খুললেন লিভারপুলের প্রাক্তন ‘বস’
-
প্রতারণার পর্দাফাঁস করতে এবার প্রতি থানায় সাইবার ডেস্ক, নির্দেশ লালবাজারের
-
জানালা দিয়ে উড়ে আসা ডিমে ভিজল শাড়ি, কালীগঞ্জে এবার হামলার শিকার মহুয়া!
-
বারবার পশ্চাৎদেশে ক্যামেরা তাক! পাপারাজ্জিদের ‘কান মুলে’ সভ্যতার পাঠ নেহা ধুপিয়ার
-
‘চোরে চোরে ভায়রাভাই’, কুম্ভমেলার সময় সর্বাধিক চুরি রাম মন্দিরে! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য