Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৮ বছরের সহবাস ভোলার নয়, বাতিল ‘দিল’-এ মন কেমন করে দিলচাঁদের

একটি জীবন্ত মানুষের বাতিল হৃদয়ের অন্ত্যেষ্টি! ধন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩১, ২০১৮, ০৮:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩১, ২০১৮, ০৮:৪৮

options
link
৩৮ বছরের সহবাস ভোলার নয়, বাতিল ‘দিল’-এ মন কেমন করে দিলচাঁদের zoom
Advertisement

গৌতম ব্রহ্ম: ‘স্যাম্পল হার্ট’। দিলচাঁদ সিং।

কাচের জারে জ্বলজ্বল করছে নাম। ভিতরে ফরমালিনে চোবানো একটি মাংসের দলা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

চারতলায় হার্ট। আটতলায় হার্টের মালিক। চারটে তলা নেমে এলেই হল। নিজের ‘দিল’-এর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে দিলচাঁদের। আটতলার কেবিনে শুয়েও তাই মাঝে মধ্যেই মন চলে যাচ্ছে চারতলায়। ৩৮ বছরের সহবাস! হোক না মৃত। নিজের হৃদয়কে কী ভোলা যায়? দিলচাঁদও ভুলতে পারছেন না। হাসপাতাল ছাড়ার আগে অন্তত একবার চাক্ষুষ করতে চান নিজের বাতিল হৃদয়টিকে যে কিনা দুর্বল হলেও এতদিন তাঁর শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত সঞ্চালন করেছে।

[চিকিৎসকদের সঙ্গে হাঁটছেন দিলচাঁদ, ছুটি পেতে পারেন সপ্তাহখানেকের মধ্যেই]

নতুন হার্ট বসেছে দিলচাঁদের খাঁচায়। চাইলেও শরীর বিদ্রোহ করতে পারেনি। ‘ইমিউনো সাপ্রেসড মেডিসিন’ চলছে। তার জাদুতেই এখন নতুন হার্টের সঙ্গে অনেকটা বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে দিলচাঁদের। এই বন্ধুত্বই পূর্ব ভারতে হার্ট প্রতিস্থাপনের চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেছে। গড়েছে নতুন ইতিহাস। তাই দিলচাঁদের বাতিল হার্টকে সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে ফর্টিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যার সঙ্গে একটি ‘ডায়লেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ রোগীর পুনর্জন্মের রূপকথা জড়িয়ে আছে। জড়িয়ে আছে চারটি রাজ্যের গল্প।

[স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর অনেকটাই সুস্থ দিলচাঁদ]

বিদেশে হাত-পা, কিডনি বা হার্টের মতো মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাতিল হলে সেই অঙ্গের নামে আলাদা ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ ইস্যু হয়। তারপর হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য তা ল্যাবে পাঠানো হয়। সব শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবার নিতে না চাইলে ‘মেডিক্যাল ওয়েস্ট বিন’-এ চালান হয়ে যায়। জীবাণুমুক্ত করে ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাহ করা হয়। যদিও এদেশে হার্ট, কিডনির মতো শরীরের ভিতরে থাকা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার রেওয়াজ এখনও সেভাবে চালু হয়নি। তবে এটাই নিয়ম বলে জানালেন রাজ্যের অঙ্গ-প্রতিস্থাপন বিষয়ক নোডাল অফিসার তথা রাজ্যের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অদিতিকিশোর সরকার। অদিতিবাবুই উদ্যোগ নিয়ে গ্রিন করিডর গড়ে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় উড়ে আসা দিলচাঁদের ‘নতুন’ হার্ট আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। ২১ মে হার্টটি প্রতিস্থাপিত হয়। অদিতিবাবু জানালেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনে কাটা পড়া হাত-পায়ের অন্তে্যষ্টি হয় সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় রীতি মেনে। কেউ নিজের বাড়িতে বা কবরখানায় মাটি চাপা দেয়। কেউ দাহ করে। দিলচাঁদের বাতিল হার্টের অবশ্য এখনও কোনও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়নি। কারণ, দিলচাঁদের পরিবার এখনও সেই হার্ট নেওয়ার আর্জি জানায়নি। তাই পূর্ব ভারতের প্রথম হার্ট প্রতিস্থাপনের স্মারক হিসাবে তা সংরক্ষণ করেছে আনন্দপুর ফর্টিস হাসপাতাল। হাসপাতালের চারতলার একটি ওটিতে কাচের জারে চুবিয়ে রাখা হয়েছে দিলচাঁদের হৃদয়।

[হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর কেমন আছেন দিলচাঁদ? জানালেন চিকিৎসকরা]

হাসপাতালের সুপার ডা. আরাফত ফয়জল এমনটাই জানালেন। বললেন, “দিলচাঁদের পরিবার বিষয়টি জানে। তাঁদের দেখানোও হয়েছে। দিলচাঁদ চাইলে তাঁকেও দেখানো হবে।” এখন ওঁর পরিবার যদি হার্টটি নেওয়ার আর্জি জানায়, তখনই দিলচাঁদের বাতিল হৃদয়ের জন্য ইস্যু হবে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’। একটি জীবন্ত মানুষের বাতিল হৃদয়ের অন্ত্যেষ্টি! ধন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান!

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.