স্টাফ রিপোর্টার: রাতভর জেরায় পার্কস্ট্রিট কাণ্ডের প্রয়াত অভিযোগকারিণী সুজেটকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের কথা স্বীকার করে নিল কাদের খান৷ পুলিশি জেরায় প্রথমে সরাসরি ধর্ষণের কথা না জানালেও কাদের বলেছে, “ঘটনার দিন গাড়িতে ছিলাম৷ মদ্যপ অবস্থায় ছিলাম৷ সুজেটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়৷ শারীরিক নিগ্রহ করেছিলাম৷ সে সময় মেয়েটি খুব ঝামেলা করছিল, তাই ওকে মারধর করি৷” ধরা পড়ার পর শুক্রবারই কলকাতায় নিয়ে আসা হয় কাদের ও মহম্মদ আলি খানকে৷ দু’জনকেই নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ৷ এরপর শুক্রবার রাতভর দু’জনকে আলাদা আলাদা জেরা করে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷
জেরায় কাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সে জানিয়েছে, সেদিন রাতে সুজেটের সঙ্গে আলাপ জমায় সে৷ সুজেটকে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতেও অনুরোধ জানায় সে৷ এরপর সুজেটকে তাদের সঙ্গে হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় কাদের৷ কিন্তু তাতে রাজি হননি সুজেট৷ গাড়ি থেকে নামতে চান সুজেট৷ চিৎকার শুরু করায় গাড়িতেই তাঁকে প্রথমে ধর্ষণ করে কাদের৷ সঙ্গে চলে পাশবিক অত্যাচার৷ সুজেট চিৎকার করতে থাকায় তাঁকে তারা মারধর করতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি কাদেরের৷ জেরায় প্রায় একই রকম কথা জানিয়েছে আলিও৷ সেও জানিয়েছে কাদেরই সুজেটকে প্রথমে ধর্ষণ করেছিল৷ ধর্ষণের পর বন্ধুদের না কি কাদের বলেছিল, “ইসমে কুছ খাস নেহি হ্যায়৷ তুম লোগ লে লো৷” এমনটাই দাবি আলির৷ কিন্তু কাদের সুজেটকে ধর্ষণের পর সুজেট প্রচণ্ড চিৎকার করতে থাকেন৷ ফলে তখন তারা তাঁকে গাড়ি থেকে ফেলে দিতে বাধ্য হয় বলে জেরায় জানিয়েছে আলি৷
এছাড়াও পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে একাধিক নামে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত কাদের৷ আত্মীয়দের প্রোফাইলও ব্যবহার করত সে৷ ফেসবুক প্রোফাইল জাল করে ফয়জল নাম নিয়ে কাদের তার জেলবন্দি সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে সে৷ ফয়জল নামে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জেলবন্দি নাসির ও রুমানের একাধিকবার যোগাযোগ করেছিল কাদের৷ তবে সুমিত বাজাজকে কাদের এড়িয়ে যেত বলে খবর৷ ফেসবুকের মাধ্যমেই পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের গোটা বিচার প্রক্রিয়ার উপর নজর রেখেছিল কাদের৷
এছাড়াও এই সাড়ে চার বছরে কাদের ও আলি যেসব আত্নীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল তাদের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ৷ শীঘ্রই তাদের জেরা করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ ভিন রাজ্যে কাদেরের যে আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠরা তাকে সহযোগিতা করেছিল তাদের সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বহু তথ্য জোগাড় করেছে পুলিশ৷ তাদেরকেও জেরা করতে পারে পুলিশ৷ এছাড়াও এই সাড়ে চার বছরে কাদের ও আলি কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, ধৃত কাদের ও আলিকে নিয়ে ঘটনার পুর্ননির্মাণ করবে পুলিশ৷
সর্বশেষ খবর
-
নাবালিকার সঙ্গে প্রেম, যুবকের বাড়িতে সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় চরম সিদ্ধান্ত যুগলের!
-
বন্দুকের নলের ডগায় সুনীল শেট্টির জীবন! হাড়হিম করা কোন ঘটনার সাক্ষী অভিনেতা?
-
শেষ শ্রাবণে নিম্নচাপ-কাঁটা! ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’র মাঝে দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
-
ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! গ্রেপ্তার হতে চলেছেন অভিষেক পোড়েল
-
তড়িঘড়ি দেহ সৎকারে চাপ! নির্মল-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর অভয়ার বাবার, ঠিক কী ঘটেছিল শ্মশানঘাটে?