৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শুভময় মণ্ডল: বিতর্ক পিছুই ছাড়ছে না কালীঘাট সংঘশ্রীর। এবার প্রতিমা নিয়ে বিতর্কের জেরে শিল্পীকে ছেঁটে ফেলার অভিযোগ উঠল। প্রতিমায় নাকি বিজেপির ছোঁয়া, তাই তা নাপসন্দ উদ্যোক্তাদের। শিল্পীকে সেকথা জানিয়ে প্রতিমার আদল পালটানোর কথা বলা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু শিল্পীর দাবি, প্রতিমা সংক্রান্ত কোনও আপত্তির কথা তাঁর জানা নেই। বরং বাজেট নিয়ে সমস্যার জেরেই সংঘশ্রীর পুজোর কাজ ছেড়েছেন তিনি। যদিও পুজোকমিটির অন্দরের খবর, পদ্মফুলে মা দুর্গার প্রতিমা নিয়ে বিরক্ত সংঘশ্রীর উপদেষ্টা তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আলোচনায় কাজ না হওয়ায় শিল্পীকে সরিয়ে দিল পুজোকমিটি।

সংঘশ্রীর পুজোয় রাজনীতির মেঘ ঘনায় কিছুদিন আগে। আচমকা খবরের শিরোনামে উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার পুজো। পুজোকমিটির তরফে এবছর সভাপতি হিসাবে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর নাম ঘোষণা করা হয়। পুজোর উদ্বোধনেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে আনার কথা রটে সর্বত্র। তাতেই বাধে গোল। তড়িঘড়ি ক্লাবের সভাপতি শিবশংকর চট্টোপাধ্যায় বৈঠক ডাকেন পুজোকমিটির। তাঁকে এবং পুজোকমিটির একাংশকে অন্ধকারে রেখে কীভাবে সায়ন্তন বসুকে সভাপতি করা হল সেই বিষয়ে হেস্তনেস্ত করতেই বৈঠক ডাকেন তিনি। পুজোর অন্যতম উপদেষ্টা মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। কিছুদিন আগে পুজোকে বিজেপির দখল থেকে মুক্ত করে সংঘশ্রী।

গত ডিসেম্বর মাসে পুজোকমিটির তরফে জানানো হয় ৭৪তম বর্ষে থিম হবে ‘কাটাকুটির খেলা’। শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকারকে দেওয়া হয় থিমের দায়িত্ব। থিমমেকার প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন মৃৎশিল্পী পরিমল পালকে। প্রতিমার ডিজাইনও অর্ডার করে দিয়েছিলেন প্রদীপ্ত কর্মকার। মাঝে ডামাডোলের মধ্যে আর তেমন কিছু হয়নি। প্রতিমার কাজ শুরু হয়েছিল সবে। এর মধ্যে কিছুদিন আগে প্রতিমার আদল বদলানোর কথা বলা হয় শিল্পীকে। পদ্মফুলের উপর মা দুর্গার প্রতিমা নাপসন্দ পুজোকমিটির। শিল্পীর বক্তব্য, প্রথমে পুজোর বাজেট ছিল বেশি। কিন্তু নিয়ন্ত্রক নিয়ে বিতর্কের পর পুজোর বাজেট অনেকটাই কমিয়ে দেয় কমিটি। শিল্পী বলেন, ‘যে ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম তা এত কম বাজেটে সম্ভব নয়। কমিটিকে সেকথা জানিয়ে পুজোর কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। তাঁদের সঙ্গে কোনও সমস্যা নেই। তবে প্রতিমা সংক্রান্ত আপত্তির কথা আমার জানা নেই।’

যদিও পুজোকমিটির সদস্যের কথায়, শিল্পীকে প্রতিমার ডিজাইন বদলাতে বলা হয়েছিল। পদ্মফুলের মধ্যে ঠাকুরকে রাখা যাবে না। শিল্পী তাতে রাজি না হওয়ায় থিমমেকার বদলাতে হয়েছে। সংঘশ্রীর নতুন শিল্পী সাত্যকী সুর। বদলে গিয়েছে থিমের নামও। কাটাকুটির খেলার বদলে এখন সংঘশ্রীর থিম ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। প্রসঙ্গত, বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেইসময় পিছিয়ে দেওয়া হয় খুঁটিপুজো। গত মাসে জল্পনার অবসান ঘটায় কালীঘাট সংঘশ্রী পুজোকমিটি। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার পুজোয় ফিতে কেটে উদ্বোধন করবেন না বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এমনকী পুজোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার কথাই জানিয়ে দেয় পুজোকমিটি। সাফ জানায়, পুজোয় বিজেপির কোনও সাহায্য নেওয়া হবে না। গত কয়েকদিন ধরে শহরের পুজোমহলে যে শোরগোল পড়েছিল, তাতে ইতি টানে সংঘশ্রী। পুজোকমিটির বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, পুজোয় বিজেপির কোনও সাহায্য নেওয়া বা নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। যার ফলে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুরও আর সভাপতি হওয়ার বিষয়ে জল ঢেলে দেয় পুজোকমিটি।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং