BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

বাগুইআটিতে বসে কিডনি পাচার করতাম, স্বীকারোক্তি চক্রীর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 9, 2016 9:22 am|    Updated: June 9, 2016 9:22 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, বিধাননগর: কিডনি পাচারের দায় নিজেই স্বীকার করে নিল আন্তরাজ্য পাচার চক্রের অন্যতম মূল চক্রী দীপক কর৷ বাগুইআটি থানা এলাকার জ্যাংড়া চৌমাথায় পুলিশের নাকের ডগায় বাস করে গত ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিডনি পাচার করত দীপক৷ দিল্লি পুলিশ খোঁজখবর নেওয়া শুরু করতে তিনদিন ধরে বেপাত্তা ছিল কিডনি সিন্ডিকেটের এই মাথা৷ পাচার চক্রের মূল পান্ডা টি রাজকুমার ধরা পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে ধরা দিল দীপকও৷ বুধবার বিকেলে বাগুইআটি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বছর পঁয়তাল্লিশের সাদামাটা চেহারার প্রৌঢ় দীপক কর৷ তার দাবি, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবে বলে বিমানে চেপে তড়িঘড়ি আমেদাবাদ থেকে কলকাতায় ফিরে এসেছে সে৷

গত তিনদিন ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পর বুধবার বিএ-৫ জ্যাংড়া চৌমাথা, রাজারহাট রোডের বাড়িতে ফেরে দীপক বিকেল ৪ টে নাগাদ৷ দেড় কাটা জমির ওপর ছোট দু তলা বাড়ি৷ দেখে বোঝার উপায়  নেই যে দীপকের মাপের এক কিডনি মাফিয়ার বাড়ি এটা৷ এই বাড়িতেই  তিন ভাইয়ের সংসার৷ দীপক ও তার স্ত্রী থাকে দুতলায়৷ স্ত্রী শিখা কর চা বিক্রি করেন দোকানে দোকানে৷ বাড়িতে বেশি টাকা দিত না বলে চা ব্যবসায় নামতে হয়েছে তাঁকে বলে দাবি স্ত্রী-এর৷

দীপক যে কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তা বিলক্ষণ জানতেন বলে কবুলও করেছেন শিখা দেবী৷ এর আগে লটারির টিকিট বিক্রির ব্যবসা ছিল দীপকের৷ তাতে রোজগার বেশি ছিল না৷ বছর দশেক আগে চিকিৎসা ব্যবসায় নামে সে৷ রোগী অন্য রাজ্যে নিয়ে যেত চিকিৎসার জন্য৷ এই কাজ করতে গিয়েই আলাপ কিডনি পাচার চক্রের পান্ডা টি রাজকুমারের সঙ্গে৷

গত ৮ বছর ধরে এই ব্যবসাতে হাত পাকিয়েছে দীপক৷ এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সে জানায় ২০০৮ থেকে রাজকুমারের হয়ে কাজ করত সে৷ মূলত ডোনারদের ধরে এনে দরদাম করত দীপক৷ তারপর ডিল ফাইনাল হলে রাজকুমারের কাছে নিয়ে যেত ডোনারকে৷ যদিও দীপকের দাবি, লাখ লাখ টাকার কারবার হলেও তাকে কয়েক হাজার মাত্র টাকা ঠেকাত রাজকুমার৷ ব্যবসায় তেমন লাভ হচ্ছিল না বলে সে এই চক্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিল৷

তবে তার নামে কেনা একটি মোবাইল সিম রাজকুমারকে সে দিয়েছিল ব্যবহারের জন্য৷ পুলিশ সেই সিম কার্ডের সূত্র ধরেই তাকে খুঁজছিল৷ এই খবর পাওয়া মাত্রই কলকাতা ছাড়ে সে৷ তবে পরিবারের কথা ভেবে শহরে ফিরে এল৷ পুলিশকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে সে প্রস্তুত৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement