১৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বুধবার ১ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ডিসেম্বরেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট, ভাইফোঁটার পর বিজ্ঞপ্তি জারির সম্ভাবনা

Published by: Suparna Majumder |    Posted: October 19, 2021 10:29 am|    Updated: October 19, 2021 10:29 am

KMC Election to be held in December | Sangbad Pratidin

কৃষ্ণকুমার দাস: চার বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন শেষ হলেই দীপাবলি ও ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার পরে বাংলায় পুরভোটের দামামা বেজে উঠতে চলেছে। কলকাতা নগরনিগম-সহ ১১২টি পুরসভায় বকেয়া পুরনির্বাচন দু’টি বা তিনটি ধাপে সম্পূর্ণ করতে চাইছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (EC)। সূত্রের খবর, কলকাতা ও হাওড়া, দুই নগরনিগমের ভোট প্রথম পর্যায়ে ও ১১০টি পুরসভার নির্বাচন পৃথকদিনে একাধিক পর্যায়ে হওয়ার সম্ভাবনা। নবান্নের সবুজ সংকেত পেলে পুলিশ ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে দক্ষিণবঙ্গে দ্বিতীয় ধাপে এবং উত্তরবঙ্গের পুরসভাগুলিতে তৃতীয় পর্যায়ে ভোটগ্রহণ করার পথে যাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

সূত্রের খবর, ফের করোনা (Coronavirus) সংক্রমণের দাপট না বাড়লে বড়দিনের আগেই, সম্ভবত আগামী ১৯ ডিসেম্বর, রবিবার কলকাতার ১৪৪টি ও হাওড়ার ৬৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। দুই কর্পোরেশনের ভোটের ফলপ্রকাশ হবে ২২ ডিসেম্বর, বুধবার। অবশ্য নবগঠিত ময়নাগুড়ি ও ফালাকাটা পুরসভায় এই ১১২টি পুরসভার সঙ্গে নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নবান্ন। ভাইফোঁটার পরই জারি হতে পারে বিজ্ঞপ্তি।

উল্লেখ্য, পুজোর (Durga Puja 2021) ছুটির আগেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চার বিধানসভার উপনির্বাচন মিটলেই বকেয়া পুরভোট সেরে ফেলা হবে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সোমবার জানিয়েছেন, “রাজ্য নির্বাচন কমিশন যখনই, যেদিনই ১১২টি পুরসভার ভোট ঘোষণা করুক না কেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।”

নির্বাচন সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও করোনা সংক্রমণের ধাক্কায় লকডাউন ঘোষণার জেরে ২০২০ সালের মার্চে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন কলকাতার পুরভোট স্থগিত করে দেয়। নির্বাচন বকেয়া থাকা অন্য পুরসভাগুলির সঙ্গে কলকাতা ও হাওড়ায় পুরপ্রশাসক বসিয়ে ভয়াবহ কোভিড (COVID-19) পরিস্থিতি সামাল দেয় রাজ্য সরকার। বিরোধীরা প্রথমে হাই কোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত অতিমারীর সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত পুরভোট স্থগিত করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেয়।

মাসখানেক ধরেই রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার তলানিতে পৌঁছেছে। কলকাতার প্রায় ৮৫ শতাংশ স্থায়ী বাসিন্দা কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং ১০০ শতাংশ ভোটারের টিকাকরণের প্রথম ডোজ সম্পূর্ণ বলে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসক অতীন ঘোষের দাবি। ভোটগ্রহণের এমন অনুকূল প্রেক্ষাপটে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সম্পূর্ণ করার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

[আরও পড়ুন: কলকাতার রাস্তায় পড়ে চাদরে মোড়া চিতাবাঘের চামড়া, মিলল লেজও]

অবশ্য ভোটের সময় অতিমারী সংক্রান্ত সতর্কতা ও কোভিড বিধি মেনে হবে বলে স্বীকার করেছেন কমিশনের এক কর্তা। কমিশন কর্তার কথায়, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক যেমন নেই, তেমনই কেন্দ্রীয় বোর্ডের কোনও পরীক্ষাও নেই। তাই কলকাতা ও হাওড়ায় ১৯ ডিসেম্বর পুরভোট গ্রহণে অসুবিধা নেই বলে দাবি। আসন্ন পুরভোটে প্রার্থী বাছাই ও ভোটপর্বে দলকে পরিচালনায় অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিশেষ করে বিদায়ী মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই যে শাসকদল যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে তা স্বীকার করছে বিরোধীরাও।

উলটো দিকে কলকাতা-হাওড়ার পাশাপাশি সমস্ত জেলার অধিকাংশ পুরসভায় বিরোধী দলগুলির অবস্থা বেশ ছন্নছাড়া। বিশেষ করে বাম ও কংগ্রেস অধিকাংশ ওয়ার্ডে প্রার্থী দিতে পারবে না বলে দাবি তৃণমূলের। মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে রাজ্য সরকারের সুপারিশ এলেই ১১২টি পুরসভার ২২ হাজারের বেশি বুথে ভোট পরিচালনায় নামছে কমিশন। পুরভোটপর্ব পরিচালনায় কত পুলিশ, কত ভোটকর্মী প্রয়োজন তার হিসাবে ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ।

পুর দপ্তরের এক শীর্ষ অফিসার এদিন স্বীকার করেছেন, “১১২টি পুরসভায় ভোট সম্পূর্ণ করতে ১৮৫ কোটি টাকা চেয়েছে কমিশন। যা পাঁচ বছর আগের পুরভোটের খরচের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাজেট।” কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়ায় আসন সংরক্ষণের ‘চক্রাকার’ নিয়ম মেনেই ওয়ার্ডগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে। অর্থাৎ গতবার যে সংরক্ষণ নিয়ম মেনে পুরভোট হয়েছিল এবার তা বদলে যাচ্ছে। কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৩টি আসন সংরক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য ৪৫টি ও তফসিলি জাতি-উপজাতির জন্য আটটি আসন সংরক্ষিত হয়েছে। সংরক্ষণের কোপে পড়ে কলকাতার চার মেয়র পারিষদ ও দুই বরো চেয়ারম্যান নিজেদের পুরনো ওয়ার্ডে দাঁড়াতে পারবেন না।

সংরক্ষণের কোপে দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মেদিনীপুর, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও বহু পুরপ্রধান ও দাপুটে নেতারা নিজের ওয়ার্ডে প্রার্থী হতে পারছেন না। গত জানুয়ারি মাসের প্রস্তাব ছিল, পূর্বতন বালি পুরসভাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হাওড়ার সঙ্গে সংযোজিত ১৬টি ওয়ার্ড আলাদা করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর না হওয়ায় হাওড়ার পুরোনো ৫০টি ওয়ার্ডের সঙ্গে বালির ১৬টি ওয়ার্ড জুড়ে মোট ৬৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হবে ১৯ ডিসেম্বরেই।

[আরও পড়ুন: গড়িয়াহাটের জোড়া খুন কাণ্ডে ‘দরজা রহস্য’ সমাধানে ফরেনসিক ও গোয়েন্দারা]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে