Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Kolkata Municipal corporation

তৃণমূল জমানায় ভুয়ো কর্মী দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ! তদন্তে নামল কলকাতা পুরসভা

গত ১৬ বছরে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় আর্থিক গরমিল খুঁজতে এবার পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:৩৪

link
কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:৩৪

options
link
তৃণমূল জমানায় ভুয়ো কর্মী দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ! তদন্তে নামল কলকাতা পুরসভা zoom
কলকাতা পুরসভা। ফাইল ছবি।
Advertisement

খাতায় কলমে কলকাতা পুরসভায় যা কর্মীসংখ্যা, তার সঙ্গে বেতন খরচের হিসেব তার চেয়ে ঢের গুণ বেশি! নির্দিষ্ট কর্মীসংখ্যার তুলনায় প্রতি মাসে বেতনের নামে কাঁড়ি কাঁড়ি সরকারি টাকা লুট হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, এজেন্সি নির্ভর এবং ১০০ দিনের কর্মীদের ভুয়ো তালিকা দেখিয়ে এক শ্রেণির অফিসারদের যোগসাজশে এই টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ১৬ বছরে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় আর্থিক গরমিল খুঁজতে এবার পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য এই কমিটি গঠন করেছেন।

পুরসভার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে,গত ১৫ বছরে পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, তার বদলে একই এজেন্সি দিয়ে বারবার চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হয়েছে পুরসভার। উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের যুক্তি ছিল, পুরসভার তহবিল কম থাকায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করেই কাজ চালানো হত। কারণ স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হলেই তাঁদের পিএফ, গ্রাচুইটি সহ সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই কারণে গত ১৫ বছরে এজেন্সি দিয়ে কাজ চালানোর প্রবণতা যে বেড়েছিল, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement

সম্প্রতি বেতন-খরচের হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুরসভার নজরে আসে, অস্থায়ী কর্মীদের তুলনায় যে বেতন খরচ হওয়ার কথা, তার তুলনায় বেশি অর্থ কোষাগার থেকে বেরিয়েছে। পুর প্রশাসনের একাংশের ধারণা, এজেন্সি নির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী কর্মী ১৪ হাজারের কিছু কম। অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। এর পাশাপাশি রয়েছেন ১০০ দিনের প্রকল্পের বিপুল সংখ্যক কর্মী। সম্প্রতি বেতন-খরচের হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুরসভার নজরে আসে, অস্থায়ী কর্মীদের তুলনায় যে বেতন খরচ হওয়ার কথা, তার তুলনায় বেশি অর্থ কোষাগার থেকে বেরিয়েছে। পুর প্রশাসনের একাংশের ধারণা, এজেন্সি নির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কোথায় কত জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, সরাসরি চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা কত, এজেন্সির মাধ্যমে কত জন নিযুক্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কত কর্মী কাজ করছেন—এসবের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্সও পরীক্ষা করা হবে। তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে পুরসভার ওয়ার্ড অফিস, বরো অফিস, বিভিন্ন বিভাগীয় দফতর, পুরসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং মূল ভবনের কর্মী সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যও।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, কর্মীসংখ্যার সঙ্গে কোষাগার থেকে খরচ হওয়া টাকার পরিমাণে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তাই এবার অস্থায়ী কর্মীদের তালিকা তৈরি করে যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বাস্তব অস্তিত্ব এবং বেতন। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে কলকাতা পুরসভা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.