স্টাফ রিপোর্টার: এ যেন ঠিক ‘মশা মারতে কামান দাগা’। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্যটিকে সোমবার স্বচক্ষে দেখলেন উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের কুমোরটুলির লালবাগান অঞ্চলের বাসিন্দারা। যে কমান্ডোদের উপর ভার থাকে জঙ্গিদের খুঁজে নিকেশ করার কিংবা যে কোনও ধরনের নাশকতার ছক বানচাল করে সাধারণের প্রাণ বাঁচানোর, তাঁদেরই কিনা ব্যবহার করা হল এক মানসিক ভারসাম্যকে উদ্ধার করতে। শুনতে অবাক লাগলেও খাস কলকাতার বুকে ঘটে গিয়েছে এই ঘটনা। যা নিয়ে ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
[বিজ্ঞাপনে বর্ণবিদ্বেষী বার্তা, ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে ক্ষমা চাইল ‘ডাভ’]
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে ঘরের ভিতর ক্রমাগত নিজের শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে চলেছে এক যুবক। যত তাকে বের করার চেষ্টা চলছে, ততই বেড়ে চলেছে সেই আঘাত। দমকল, পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সদস্যরা যখনই এগিয়েছেন, তখনই ভিতর থেকে জোরালো গলায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে ওই যুবক। শেষ পর্যন্ত খেল দেখালেন কলকাতা পুলিশের ওই কমান্ডোরা। অনেকটা নিরুপায় হয়েই লালবাজারের কর্তারা ডেকে পাঠালেন কমান্ডো বাহিনীকে। প্রায় এক ঘণ্টার অপারেশনের পর উদ্ধার করা হল মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে।
যেভাবে জঙ্গিদের খোঁজ চলে, সেই পদ্ধতিতেই টালির ছাদ ভেদ করে ঘরের ভিতর নেমে সোমনাথ দে নামে বছর পঁয়ত্রিশের ওই যুবককে উদ্ধার করল কমান্ডোরা। তবে কাজটি মোটেই সহজ ছিল না। কালো পোশাক পরিহিত কমান্ডো দেখেই ছোট্ট ঘরের মধ্যে লুকোচুরি খেলতে শুরু করে যুবক। শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ গ্যাস প্রয়োগ করেই কাবু করে ফেলা হয় ওই যুবককে। সন্ধ্যার মুখে সোমনাথকে কমান্ডোরা উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে এসে দেখেন, তাঁর সারা শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন। তখনও আঘাত থেকে চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি করা হয় আরজি কর হাসপাতালে। লালবাজারের এক কর্তা জানান, খুব প্রয়োজন না হলে কমান্ডোদের নামানো হয় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে উপায় ছিল না। তবে কোনও মানসিক ভারসাম্যকে উদ্ধারের জন্য কমান্ডো নামানোর ঘটনা কিন্তু বিরল।
[হুইলচেয়ারে বসেই বিশ্বজয় এই ভারতীয় মহিলার]
পুলিশ জানিয়েছে, সোমনাথ দে বহুদিন ধরেই মানসিক রোগে ভুগছে। সোমবার বাড়িতে কেউ ছিলেন না। দরজা ছিল বাইরে থেকে বন্ধ। হঠাৎই তাণ্ডব শুরু করে সোমনাথ। তার চিৎকার শুনতে অভ্যস্ত প্রতিবেশীরা। কিন্তু বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ যখন তাঁরা জানালা দিয়ে দেখেন, সে নিজের শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে চলেছে, তখন প্রতিবেশীরাই শ্যামপুকুর থানায় খবর দেন। যুবককে উদ্ধার করতে প্রথমে দমকলে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্ধারকাজ শুরু হতেই বেড়ে যায় চিৎকার। তার সঙ্গে আঘাতও। সারাদিন বৃষ্টিতে গাছ পড়ে যাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল ডিএমজি। তার মধ্যেই ডিএমজির একটি টিম সোমনাথকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল ও ডিএমজি প্রথমে দরজা ভেঙে ও তার পর সিঁড়ি দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু ক্রমাগত আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকে সোমনাথ। পুলিশকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই খবর দেন কমান্ডোকে। এরপর তাঁরা এসে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে সোমনাথকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[একাধিক প্রেমিকা থাকাই কাল, কাশ্মীরে খতম কুখ্যাত জইশ জঙ্গি]
সর্বশেষ খবর
-
১০ দিনের মধ্যে ১৮ জুটমিল খুলতে উদ্যোগী মন্ত্রী অর্জুন, কাজে ফেরার অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক!
-
মালদহের আমের বিদেশ সফর! আকাশপথে উড়ে গেল হিমসাগর-আম্রপালিরা
-
জোড়া রেকর্ড এমবাপের, সমান গোলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কেন মেসির থেকে এগিয়ে ফরাসি তারকা?
-
বুকিং নিয়ে চিন্তার দিন শেষ! উত্তরবঙ্গে হোমস্টেতে বাড়ছে ঘর, পর্যটকদের সুবিধায় আসছে ‘বন্ধু’ অ্যাপ
-
গ্যাসের মূল্যে স্বস্তি আমজনতার! একধাক্কায় ১৮৩ টাকা কমল সিলিন্ডারের দাম