২১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ট্যাটু, জন্ম জড়ুলের দাগ মুছবে নয়া ইজরায়েলি লেজার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 2, 2016 11:05 am|    Updated: November 2, 2016 11:05 am

Laser Treatment will help to remove tattoos and birth marks

গৌতম ব্রহ্ম: ট্যাটু মুছবে৷ উঠবে জন্ম জড়ুল, বসন্তের দাগ৷ লেজারের সাহায্যে এমনই অসাধ্যসাধনের পথে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷

প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ মাসখানেকের মধ্যেই ন্যাশনালের ডার্মাটোলজি বা চর্মরোগ বিভাগে বসছে লেজার মেশিন৷ তার পরই শুরু হবে ‘হাই-টেক’ চিকিৎসা৷

সোরিয়াসিস-শ্বেতির দাগ মুছতে ইতিমধ্যেই বসেছে ‘ন্যারো ব্যান্ড ফটোথেরাপি ইউনিট’৷ আলাদা অপারেশন থিয়েটার তৈরি করা হয়েছে৷ শীঘ্রই তরল নাইট্রোজেনে শুরু হবে ‘ক্র্যায়োথেরাপি’৷ বসছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইউনিটও৷ ছোট ছোট সার্জারি হবে এই সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে৷ তবে, চিকিৎসকরা সব থেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন লেজার যন্ত্রকে৷ ৯০ লাখের এই ইজরায়েলি যন্ত্রের সাহায্যে জটিল চর্মরোগ নির্মূল করা যাবে৷ এমনটাই জানালেন বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অভিষেক দে৷ জানালেন, “জন্ম জড়ুল, অবাঞ্ছিত চুল, বসন্তের দাগ, ব্রনস শ্বেতি-সোরিয়াসিস সবই সারবে এই লেজার যন্ত্রের জাদুতে৷”

সরকারি হাসপাতালে চর্মরোগ বিভাগের গুরুত্ব বরাবরই কম৷ আলাদা করে কোনও শয্যাও বরাদ্দ করা নেই৷ ভর্তির প্রয়োজন হলে মেডিসিন বিভাগের কাছে হাত পাতেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা৷ ফলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা হয়৷ কিন্তু ন্যাশনালের ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চর্মরোগকে৷

ন্যাশনালের সুপার ডা. পীতবরণ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, চর্মরোগ বিভাগের জন্য ৩০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ ঢেলে সাজানো হয়েছে বহির্বিভাগ৷ আধুনিক যন্ত্রপাতিও বসেছে৷ আগে দিনে দেড়শো-দু’শো রোগী হত৷ এখন ৮০০-৯০০ রোগী হয়৷ এমনটাই জানালেন ডার্মাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুদীপ দাস৷ পিজি হাসপাতালেও চর্মরোগের জন্য কোনও শয্যা বরাদ্দ করা নেই৷ ভরসা শুধু বহির্বিভাগ৷ সেক্ষেত্রে ন্যাশনালের চর্মরোগ বিভাগ ঈর্ষণীয়৷ লেকচার থিয়েটার, সেমিনার রুম তৈরি করা হয়েছে৷ দামি দামি ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের৷ ইমমিউনোগ্লোবিউলিন, রিটুভিমাব, পেমফিগাস, ওমালিজুমাব৷ ৬০-৭০ হাজারি ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে ন্যাশনালে৷ অভিষেকবাবু জানালেন, “দূষণ-ভেজালের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চর্মরোগ৷ নানা ধরনের অ্যলার্জি থাবা দিচ্ছে ত্বকে৷ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ত্বক৷ অথচ, সরকারি হাসপাতালে চর্মরোগের চিকিৎসার সুযোগ খুবই কম৷” বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক রয়েছে৷ কিন্তু তা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে৷ ট্যাটু মুছতে গেলে পঁচিশ-তিরিশ হাজার টাকার ধাক্কা৷ জটিল চর্মরোগ সারাতে লাখ টাকারও বেশি খরচ৷ এবার অবশ্য সবই হবে নিখরচায়৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে