সৌরভকে নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, "সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি।"
'বিজেপিকে বয়কট করুন'
অভিষেক আরও বলেন, "অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। এবার নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বলতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করুন। ভারতবাসীর পোড়া কপাল। দেশ কার থেকে পেট্রোল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! অমিত শাহ এলে তাঁর সভা শুরু শেষ হয় আমার নাম দিয়ে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে। আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদির একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।"
কমিশনকে বিঁধলেন অভিষেক
কমিশনকে বিঁধলেন অভিষেক। বললেন, "সকলকে প্রণাম জানাই। রোজা রেখেছেন, রোজাদারদের, সকল ধর্মের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি, সিবিআই, সংবাদমাধ্যম। সবার উপরে চ্যালেঞ্জ থাকল। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। এক কোটির বেশি মানুষ! ১ কোটি ২৪ লক্ষ। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে বলেছিল। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না। যতদিন এই ৬০ লক্ষ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে না, বঞ্চিত থাকবে। ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় থাকবে। মনে রাখবেন এই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কেন বিবেচনাধীন হবে না? অমিত শাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে কমিশন। "
বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের
মমতার ধরনা মঞ্চে বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এটা সময় নয়, মানুষ মরছে। বিজেপি মাইন্ডেড সব। এদের এখানে কারা পাঠিয়েছে জানি। বিজেপি এসবের পিছনে। মানুষ মারা গেছে, তাদের জন্য আমরা এখানে এসেছি। বাকিদের দাবিও আছে। তাদের জন্য অন্য জায়গা আছে। মোদি, অমিত শাহ, ভ্যানিশ কুমারের কাছে যান।"
'বিজেপি এই পরিমাণে নির্বোধ', তোপ সুমনের
বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ কবীর সুমনের। তাঁর কথায়,"এটা (ভোট) আমার অধিকার। মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই। কারও অপছন্দ বলে কিছু করার নেই। আমি ভাবতে পারিনি বিজেপি এই পরিমাণে নির্বোধ। তাদের মাথায় কিচ্ছু ঢোকেনি। বিজেপি কিছুতেই জিতবে না। আমি আবারও বলি আমি তৃণমূল সমর্থক নই। আমাদের শহরটা আগে এত সুন্দর ছিল না মোটেই আমার পাশে বসে থাকা মানুষটির (মমতা) কল্যাণেই হয়েছে। বিধানচন্দ্র রায়ের পরেই... একবার কলকাতারা রাস্তাঘাট দেখুন। আগে কী ছিল?"
এদিন কবীর সুমন ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ রবীন্দ্রসঙ্গীত গান। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ‘পথে আবার নামো সাথী’ গানটি গান।
কমিশনকে বিঁধলেন জয় গোস্বামী। বললেন,"অন্যায় হচ্ছে, মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা আমার ব্যক্তিগত কথা নয়। ৯০ বছর অতিক্রান্ত মানুষকে যেতে হচ্ছে প্রমাণ দিতে। কেউ আত্মহত্যা করছেন, মারা যাচ্ছেন।"
কমিশনকে বিঁধলেন মেনকা
কমিশনকে বিঁধে বক্তব্য রাখলেন মেনকা গুরুস্বামী। বললেন, "আমরা ব্রিটিশদের তাড়িয়েছি। সংবিধান বানিয়েছি। সেই সংবিধান সবাইকে ভোটাধিকার দিয়েছে। সমান অধিকার দিয়েছে। সবার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। যদি তা না থাকে তাহলে মুক্ত এবং স্বচ্ছ নির্বাচন কীভাবে হবে? আমরা লড়াই করছি আদালতে। সব আদালতে লড়ব। সব বাঙালির ভোটাধিকার থাকবে। জয় বাংলা, জয় সংবিধান।"
"মেনকা খুব ভালো। হৃদয় ছুঁয়ে গেছে", মেনকার বক্তব্য শোনার পর বললেন মমতা।
ধরনা স্থলে রাজীব কুমার
ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে এলেন কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমার। এসেছেন আইনজীবী তথা দলের আরও এক প্রার্থী মেনকা গুরুস্বামী। হাজির বাবুল সুপ্রিয়। এসেছেন
জয় গোস্বামী, কবীর সুমনও।
নামবিভ্রাটের প্রতিবাদ সন্ন্যাসীর
২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও ২০২৬-এর এসআইআরে নাম নেই। প্রতিবাদে মঞ্চে সন্ন্যাসী। এদিন মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধরনা মঞ্চে হাজির উত্তর ২৪ পরগনার রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম নেই।ওই সন্ন্যাসী বলেন, "আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এ রকম যদি হতে থাকে তা হলে তো দেশের অবস্থা তো খুব খারাপ হবে।"
ধরনা মঞ্চে 'ভূত' হাঁটাবেন মমতা
এসআইআর তালিকায় যে ২২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁরা আসবেন মঞ্চে। মমতা বলেন, "মৃত ঘোষণা করেছেন, তাঁরা জীবিত আছেন। তাঁদের মঞ্চে হাজির করব। নির্লজ্জ বেহায়া পার্টি। তাঁদের দালাল কমিশন। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। কমিশনের খাতায় ওঁরা মৃত। আজ তাঁদের প্যারেড করাব। মিডিয়াকে আমি রিকোয়েস্ট করব, ওঁরা বেঁচে আছেন। ২২টি পরিবার আসবে। আমরা তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ধরনা মঞ্চে পৌঁছলেন মমতা
ধরনা মঞ্চে পৌঁছলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ অন্যান্যরা।
মঞ্চে ভূত হাঁটাবেন মমতা!
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মৃত! সেই সমস্ত ভোটারদের কয়েকজন এদিন ধরনা মঞ্চে থাকবেন বলে খবর। এর আগে একাধিকবার মঞ্চে এহেন 'ভূত'দের হাঁটিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিদ্ধ করেছেন মমতা ও অভিষেক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও 'ভূত' দেখিয়েছিলেন মমতা।
কী বলেছিলেন মমতা
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, “মানুষই যদি ভোট দিতে না পারে, তা হলে কীসের ভোট? ইআরও-রা ফাইনাল করার পরও দিল্লির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও দরজা নেই যেখানে গিয়ে ঠক ঠক করিনি। নির্বাচন কমিশন থেকে সুপ্রিম কোর্ট সর্বত্র গিয়েছি। কিন্তু এখনও বহু নাম বাদ। এর বিরুদ্ধেই বাংলার মানুষের ভোটরক্ষার স্বার্থে শুক্রবার থেকে রাস্তায় বসছি। সব জগতের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ুন। প্রতিবাদ করুন। এটা বাংলার সম্মানের প্রশ্ন। দেখি, কত ধানে কত চাল।”
ঝুলে ৬০ লক্ষের ভাগ্য
বঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু দিন পথে নেমেছিলেন মমতা। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বের শেষের মুখে এসআইআরে ভুক্তভোগীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে। সেখানে অভিযোগ জানিয়েছেন। কথা বলেছেন সাধারণের হয়ে। কিন্তু তারপরও বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম স্রেফ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিচারাধীন।
কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা
কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা খুব স্পষ্ট। রক্ষা করতে হবে সাধারণের ভোটাধিকার। জানা যাচ্ছে, এই কর্মসূচিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশে থাকবে ভুক্তোভোগী ভোটারদের একাংশ। যাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন, তাঁরাও থাকবেন।
স্বমেজাজেে 'অগ্নিকন্যা'
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে! তার প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার দুপুর ২টোয় ধরনায় বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল ডোরিনা ক্রসিংয়ে তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। রয়েছেন নেতা থেকে কর্মীরাও।