BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সব কেন্দ্রে নজর রাখতে মুখ্যমন্ত্রীর ২৯৪ ফাইল

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 6, 2016 8:48 am|    Updated: June 6, 2016 8:49 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিকভোটের প্রচারে বলেছিলেন, ২৯৪ আসনে আমিই প্রার্থী৷ আমাকেই ভোট দিন৷ রাজ্যের সিংহভাগ এলাকার মানুষ তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন৷ একক লড়াইয়ে রেকর্ড ২১১ আসনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ কিন্তু বাকি ৮৩ আসনে বিরোধীরা জিতলেও সেই এলাকার মানুষ যাতে তাঁর পরিষেবা প্রদান কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকেও নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিএমওতে তৈরি হচ্ছে ২৯৪টি ফাইল৷ প্রকল্পমূলক উন্নয়নের পাশাপাশি যেভাবে পাঁচ বছর ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতে সাধ্যমতো মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন, তা এবারও জারি থাকবে৷ তবে এবার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে পরিষেবার পুরো তথ্য ফাইলে বন্দি করা হবে৷ প্রতিটি বিধানসভার আলাদা আলাদা ফাইল৷

গত পাঁচ বছরে তাঁর কাজের জেরে গ্রাম থেকে শহর, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে৷ তবু মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, ২৯৪ আসনের কাজের তথ্য আলাদা আলাদাভাবে ফাইলবন্দি হলে এলাকার সামাজিক পরিস্থাতি কী, তার একটা স্পষ্ট ছবি হাতের মধ্যে থাকবে৷ সেই মতো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে৷ কোনও বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে যদি কোনও আবেদন না-ও আসে, করা যাবে তার কারণ অনুসন্ধানও৷

বস্তুত, আদর্শ আচরণবিধির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন কার্যত তিন মাস বন্ধ ছিল৷ শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাকি কাজ দ্রূত শেষ করে ফেলতে হবে৷ এবারের ভোটে নজিরবিহীন বিরোধিতা সামলে জিতেছেন মমতা৷ অনেকেই মূল্যায়ন করছেন, কাজের স্রোতেই মানুষ তাঁকে ঢেলে ভোট দিয়েছে৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ বছরের নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগের জন্যই৷ বুদ্ধদেববাবু যখন মানুষের সঙ্গে দেখাই করতেন না, তখন জেলায় ঘুরে ঘুরে ১০৫টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মমতা৷ গ্রামে কী কী প্রয়োজন, কোন কাজ হয়েছে বা হয়নি, তা জেনে নিয়ে উন্নয়নে মন দিতে পেরেছেন৷

মুখ্যমন্ত্রী যখন জেলায় সফর করেন, তখন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বলতে যান৷ তাঁর গাড়িতে জমা হতে থাকে চিঠি৷ একসময় চিঠির পাহাড় জমে যায়৷ তাঁর কঠোর নির্দেশ থাকে প্রতিটি চিঠি খুলে দেখতে হবে৷ এবং প্রতিটির সমাধান করতে হবে৷ এই চিঠিগুলি থেকেই উঠে আসে বহু জানা-অজানা তথ্য৷ যেগুলি প্রশাসনিক বৈঠকে হয়তো জানা সম্ভব হত না৷

চিঠিতে কিছু অংশ একেবারে ব্যক্তিগত আবেদনমূলক৷ তবে বেশির ভাগই গুরুত্বপূর্ণ৷ এবার সেই চিঠিগুলির বিষয়বস্তু ও পরিষেবা ফাইল-বন্দি করে রাখা হবে৷ তবে শুধু জেলা সফর বললে ভুল হবে৷ প্রতিদিনই সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অফিস৷ একবার একটি সরকারি সভায় তিনি গর্ব করে বলেছিলেন, কোনও কাজ চাইলে বিডিওকে বলবেন, না হলে ডিএমকে৷ তাতেও কাজ না হলে আমার বাড়ির অফিস রয়েছে৷ চলে যাবেন, আবেদনটা জমা দিয়ে আসবেন৷ বাকিটা আমি দেখে নেব৷ একথা যে নিছক কথার কথা নয়, তা স্পষ্ট৷ তবে এবার সেই জনসংযোগকে আরও বিজ্ঞানসম্মত করতেই সব বিধানসভা ক্ষেত্রের জন্য আলাদা আলাদা ফাইল করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আগামী পাঁচ বছর এই ফাইল হবে উন্নয়নের মূল অনুঘটক৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement