রাহুল চক্রবর্তী: জেলা সফরে যাওয়ার জন্য নবান্ন থেকে হেলিকপ্টার চেয়েও পেলেন না রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ফের সংঘাতে জড়ালেন রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা, বীরভূমের সিউড়ি এবং বর্ধমানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ৬০০ কিলোমিটার সফরের জন্য হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। তবে সফরের আগের দিনেও হেলিকপ্টার পাওয়া নিয়ে জারি চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার জেলা সফরে যাওয়ার কথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। ১৫ নভেম্বর ভোর পাঁচটায় মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাঁর। দুপুর বারোটা কুড়ি নাগাদ ফরাক্কার এসএনএইচ কলেজের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রাজ্যপালের। সফরসূচি অনুযায়ী ফেরার পথে বিকেল ৫.২০ মিনিট নাগাদ বীরভূমের সিউড়ির সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা। সেখানে মিনিট কুড়ি সময় কাটাবেন তিনি। সন্ধে ৭.৪০ নাগাদ বর্ধমানের সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা। সফর শেষে রাত ১০টা নাগাদ আবারও রাজভবনে ফিরবেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল।

রাজভবনের তরফে রীতিমতো বিবৃতি জারি করে রাজ্যপালের ৬০০ কিলোমিটারের সফরের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত রাজ্যপাল পাননি হেলিকপ্টার। মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনও উত্তর। তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের আচরণে ক্ষুব্ধ জগদীপ ধনকড়।
[আরও পড়ুন: বিবাহিত শিক্ষিকাকে জোর করে বিয়ে করল মেয়র, আতঙ্কে চুপ স্বামী]
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করেন জগদীপ ধনকড়। সেই বৈঠকে যদিও কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের দেখা পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দ্বৈরথের সূত্রপাত। এরপর উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনিক বৈঠকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। তাতেও প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনুপস্থিতির জেরে ভেস্তে যায় রাজ্যপালের বৈঠক। বেশ কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান রাজ্যপাল। দু’পক্ষের সংঘাতে সংযোজন হয়েছে রাজ্যপালের সিঙ্গুর সফরও। সোমবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সেরে সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে যান তিনি। যথারীতি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখাও হয়নি তাঁর। কাউকে কিছু না জানিয়ে রাজ্যপাল কেন সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য প্রশাসন। যদিও রাজভবন সূত্রে খবর, আগে থেকে জানিয়ে তবেই সিঙ্গুরে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কখন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আবার কখন তা খারাপ হয়ে গিয়েছে, তা যেন বোঝাই যায় না। নবান্ন এবং রাজভবন সংঘাতের তালিকাতেই নবতম সংযোজন জেলা সফরে রাজ্যপালের হেলিকপ্টার না পাওয়ার ঘটনা।
সর্বশেষ খবর
-
‘তফাত শিরদাঁড়ায়’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে ‘হারাধনের দশ ছেলে’কে স্যালুট সুদীপ্তার, বিঁধলেন কোন ‘বিপ্লবী’দের?
-
লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হেনস্তা! নিন্দায় সরব ভারত, নেপথ্যে ডিপ স্টেট?
-
ডিম হাতে শওকতের অপেক্ষা ভাঙড়ের জনতার, ‘মাছ চোর’ গানের ছন্দে নাচ এনআইএ অফিসের সামনে
-
খোসা ছাড়ানো যাচ্ছে না, স্বাদ মাটির মতো! আলু সেদ্ধ করার সময় এই ভুলগুলো করছেন কি?
-
‘স্মৃতিভ্রংশে’ ভুগছিল চ্যাটজিপিটি, সতর্ক ওপেনএআই, এবার আপনাকে ভুলবে না চ্যাটবট!