সাউথ পয়েন্ট স্কুলে সহপাঠীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনায় জোর শোরগোল। আতঙ্কিত অভিভাবকরা। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মনোবিদরাও। এই ঘটনায় তীব্র দুশ্চিন্তায় রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তর। পড়ুয়াদের মনস্তত্ব নিয়ে সমাজতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
তিনি বলেন, “যা ঘটেছে তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও উদ্বেগজনক। স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে বই ছেঁড়া সাধারণ বিষয়। কিন্তু তার পরিণতি কীভাবে সহপাঠীর উপর ছুরি চালানো হতে পারে, তা মারাত্মক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। আমাদের ভাবতে হবে বাচ্চাদের মনস্তত্ত্ব কোথায় যাচ্ছে এবং কেন এই আগ্রাসন বাড়ছে। এই বিষয়ে শুধু বিদ্যালয় শিক্ষাদপ্তর নয়, সমাজতত্ত্ববিদ এবং বিশেষজ্ঞদেরও এগিয়ে আসতে হবে এবং সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১২টা ২৯ মিনিট নাগাদ ক্লাসরুমে এক ছাত্র তার এক সহপাঠীকে আচমকা ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। জখম ছাত্রটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইএম বাইপাস লাগোয়া এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ছাত্রটি স্থিতিশীল হলেও ছাত্র ও তার পরিবার ঘটনার আকস্মিকতায় তুমুল আতঙ্কে। স্কুল থেকে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আচমকা এই হামলায় আহত ছাত্রের রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিক্ষকরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তারপর স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা দ্রুত তাকে কাছের হাসপাতালে ভর্তি করান। খবর পেয়ে আহত ছাত্রটির অভিভাবকরাও হাসপাতালে পৌঁছন। যদিও স্কুলের তরফে আসল কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। জখম ছাত্রের বাবা অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর ছেলের বই ছিঁড়ে দেওয়ায় শিক্ষকদের বকুনি খায় অভিযুক্ত। তারই প্রতিশোধ নিতে রীতিমতো রাত জেগে হোমওয়ার্ক করে খুনের পরিকল্পনা করে সে। ছুরি নিয়ে স্কুলে আসে।
সহপাঠীদের একটি অংশের অবশ্য দাবি, অভিযুক্ত পিপার স্প্রে নিয়ে তাদের চোখেমুখে দিচ্ছিল। আক্রান্ত ছাত্রটি এই নিয়ে অভিযোগ জানায় ক্লাস টিচারকে। তার জেরেই প্রতিশোধের চেষ্টা। স্কুল জানিয়েছে, হামলাকারী ছাত্রটিকে ঘটনার পরেই ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুলের মনস্তত্ত্ববিদরা অভিযুক্ত ছাত্রর কাউন্সেলিংও করেন। তখনই তাঁরা হোমওয়ার্ক করে খুনের চেষ্টার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অভিযুক্ত ছাত্রর বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার পর সাউথ পয়েন্ট স্কুল গড়িয়াহাট থানায় লিখিত রিপোর্ট দায়ের করেছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্র ‘অটিস্টিক’। স্কুলে বেশ কিছু স্পেশাল চাইল্ড পড়ে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করেন তিনজন স্পেশাল এডুকেটর। অভিযুক্ত ছাত্রও সেই স্পেশাল চাইল্ডের দলে পড়ছে কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও আক্রান্ত ছাত্রের পরিবারের প্রশ্ন, স্পেশাল চাইল্ড হলে অভিযুক্ত কী করে খুনের হোমওয়ার্ক করে? তদন্তকারীরা শিক্ষক ও অন্য ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিপদকালে স্বামীকে যোগ্য সঙ্গত স্ত্রীর! স্মিতের সহধর্মিণীর মানসিক দৃঢ়তা প্রশংসিত নেটদুনিয়ায়
-
‘জঙ্গি’ পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ! ফ্লাইদুবাইয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ যাত্রীদের
-
ভর্তি নেয়নি সরকারি হাসপাতাল! রাস্তাতেই সন্তান প্রসব দলিত তরুণীর, তারপর…
-
শুটিং সেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অভিনেত্রীর জামায় আগুন, তারপর…
-
শিলিগুড়ি টু সিকিম, ভোল বদলাচ্ছে ধসে বিধ্বস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের, তৈরি হবে একাধিক টানেল, ব্রিজ!