গৌতম ব্রহ্ম: স্বাভাবিক সহবাসে কখনওই কোনও তরুণীর যোনি থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হতে পারে না। মৃত্যু তো অনেক দূরের কথা। চেতলার গেস্ট হাউসে ম্যানেজমেন্ট ছাত্রী মেঘা ভজকের অসুস্থ হওয়া ও মৃত্যু নিয়ে তাই বেজায় ধন্দে চিকিৎসকরা। তাঁদের মত, যৌন মিলনের সময় কোনওভাবে ওই তরুণীর ‘ভ্যাজাইনাল ভল্ট’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ছিঁড়ে গিয়েছিল যোনি সংলগ্ন ‘অ্যাজিগোস’ ধমনি। তাতেই অমন ভয়ংকর রক্তক্ষরণ।
যদিও রহস্য রয়েছে পরতে পরতে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী যথেষ্ট পরিমাণে উত্তেজিত না থাকলে এবং যৌনরস দ্বারা যোনিপথ পিচ্ছিল না হলে অথবা যৌনমিলনে অভ্যস্ত পুরুষসঙ্গী রুক্ষ হলে যোনির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু ধমনি ক্ষতিগ্রস্ত না হলে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হওয়াটা কার্যত অসম্ভব। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রঞ্জিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সম্ভবত কোনওভাবে ওই তরুণীর যৌনাঙ্গের ‘ভ্যাজাইনাল ভল্ট টিয়ার’ হয়েছে। তাতেই এই বিপত্তি হয়েছে। তবে একটি বিষয়ে চিকিৎসকরা একমত, মেঘার রক্তক্ষরণের সঙ্গে সতীচ্ছদ বা হাইমেন ছিড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই। সতীচ্ছদ ছিঁড়ে এমন অবিরাম রক্তক্ষরণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। মৃত্যুর প্রশ্ন তো আসেই না। এমনটাই জানালেন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের গাইনোকোলজির অধ্যাপক ডা. অর্ঘ্য মৈত্র। রঞ্জিতবাবুর মত, ফুলসজ্জার রাতে অনেক সময়ই নববধূর রক্তপাত হয়। সার্জারি পর্যন্ত করতে হয়। সময়মতো সার্জারি হলে হয়তো এই রোগীকেও বাঁচানো যেত।
[ইন্টারনেটেই খোঁজ মিলছে হোটেলের, পা বাড়াচ্ছে সাহসী যৌবন]
রক্তক্ষরণের কারণ কী কী ?
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকের মহিলার মিলনের সময় যথেষ্ট পরিমাণে যোনিরস নির্গত হয় না। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা খুব স্বাভাবিক। অনেকেই এই সমস্যা কাটানোর জন্য জেল ব্যবহার করেন। যোনিরস মিলনের সময় লুব্রিক্যান্টের কাজ করে। ঘর্ষণ কমায়। ক্ষতির সম্ভাবনা কমায়। আজকাল অনেক পুরুষ নিজের পৌরুষ জাহির করতে গিয়ে অত্যন্ত জোরে ‘কিক’ করেন। সেক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পুরুষসঙ্গী রুক্ষ হলে, যোনিপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও রক্তক্ষরণ হতে পারে। পিরিয়ড চলাকালীন বা পিরিয়ডের এক-দু’দিন আগে মিলন হলে একই সমস্যা হয়।
এটা ঠিক যে, রক্তক্ষরণের সঙ্গে সতীচ্ছদের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সতীচ্ছদ বা হাইমেন একপ্রকার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি যা যোনিমুখ ঘিরে থাকে। বয়স যত বাড়তে থাকে সতীচ্ছদের মুখ ক্রমশ বড় হতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত, প্রথমবার মিলনের সময়, হাইমেন ছিন্ন হলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে নবদম্পতির প্রথম রাতের রক্তমাখা চাদর প্রদর্শনের রেওয়াজ আজও আছে। অনেক দেশের মহিলারা হাইমেন প্রতিস্থাপন করেন। তবে, পরিসংখ্যান বলছে, ৬৩ শতাংশ মহিলার মিলনের সময় রক্তপাত হয় না। আবার ভ্যাজাইনাইটিস বা সার্ভিসাইটিস থাকলেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। ক্লামাইডিয়া, গনোরিয়া, ট্রাইকোমোনিয়াসিসের মতো ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিস’ বা যৌনরোগ থাকলেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেকের যোনিপথে পলিপ থাকে। সেক্ষেত্রেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদেরও মিলনের সময় রক্তপাত হতে পারে।
[ঋতব্রতকে বাঁচাতে মুকুল ঘনিষ্ঠের হস্তক্ষেপ, বিস্ফোরক অভিযোগ নম্রতার]
অনেকেই বাজারচলতি ওষুধ খেয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করেন। প্রথমদিন একটি ট্যাবলেট। তৃতীয় দিনে চারটি। যোনিপথ দিয়ে ট্যাবলেটগুলো ঢোকালে ভাল ফল মেলে। ওই ওষুধই গর্ভস্থ ভ্রূণকে জরায়ু থেকে বিচ্ছিন্ন করে বাইরে বের করে আনে। শেষ ‘পিরিয়ড’ হওয়ার ৬৩ দিনের মধ্যে এই ওষুধ কাজ করে। কিন্তু অনেকেই পিরিয়ডের দিন গুনতে ভুল করেন। ফলে সমস্যা হয়। ওষুধ খাওয়ার পর জ্ঞান হারান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুও হতে পারে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আরও অনেক কারণ রয়েছে। তবে মেঘার ক্ষেত্রে কোনটা কারন তা নিয়ে অন্ধকারে চিকিৎসকরা। তাঁদের মত, মিলনের সময় অত্যন্ত রুক্ষভাবে বলপ্রয়োগ করে ‘ভ্যাজাইনাল ভল্ট’ ছিঁড়ে গেলেই শুধুমাত্র এমন রক্তপাত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার চেতলার একটি গেস্ট হাউসে মেঘা এসেছিলেন তাঁর পুরুষসঙ্গী মইজের সঙ্গে। দু’জনেই ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া। ঘণ্টাখানেক পরই চারতলার বিলাসবহুল রুম থেকে বেরিয়ে ছোটাছুটি করতে শুরু করেন মইজ। মইজ ট্যাক্সি ডেকে সঙ্গিনীকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, পরে টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে এক তরুণীর এভাবে যোনিপথে রক্তক্ষরণের মৃত্যু। কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
[মমতাকে সাম্মানিক ডিলিট দেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়]
সর্বশেষ খবর
-
হাসপাতালে রোগীকে পরপর লাথি! ভিডিও ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী
-
বর্ষায় বেহাল রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স দূর, হাঁটাই দুষ্কর! রোগীকে চটের বস্তায় ঝুলিয়ে হাসপাতালে পরিবার
-
সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা, জোর করে আনা হত লোক! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি
-
টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে অস্থায়ী কমিটি পাপিয়ার, ‘কনফেডারেশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই’, জানালেন শমীক
-
শেষ ষোলোয় উঠে মাঠেই নৌকো বাইলেন হালান্ডরা, ভাইকিং রো’র নেপথ্যে লুকিয়ে কোন ইতিহাস?