দীপঙ্কর মণ্ডল: দীর্ঘ চার ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে খোলা গেল ২০০ বছরের পুরনো সিন্দুক। ঐতিহ্যশালী সংস্কৃত কলেজ ও বর্তমানের সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের গুদাম ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সেই সিন্দুক থেকে মিলল নানা মূল্যবান নথিপত্র, রুপোর পদক, চেক ইত্যাদি। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তৈরি বিধবাদের জন্য তৈরি ফান্ডের নথি।
ব্রিটিশ আমলে বিদ্যাসাগরের হাত ধরেই বিধবা বিবাহের আইন পাশ হয়েছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেখানে বিধবাদের দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভাবাও ছিল পাপ, সেখানে বিধবা বিবাহ প্রবর্তন করতে সফল হয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। শুধু তাই নয়, বিধবাদের সাহায্যার্থে যে অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছিল, সে প্রমাণও এবার দিল ২০০ বছরের পুরনো সিন্দুকটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন একটি পুরনো নথি। মুক্তকেশী দেবীর বিধবা ফান্ড নামাঙ্কিত সেই নথিতে কোনও স্বামীহারা মহিলা কত অর্থ পেয়েছেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। শ্রীধরপুর, জেলা বর্ধমানের উল্লেখ রয়েছে সেখানে। নথিটি ১৯৫৬ সালের বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ফান্ডটি যে দীর্ঘদিন চালু ছিল, এ তারই প্রমাণ।
[আরও পড়ুন: ফের কলকাতায় গণধর্ষণ, তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ২ নাবালিকাকে]
এই নথির পাশাপাশি আরও বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তির হিসেব সংক্রান্ত নথি মিলেছে। মিলেছে সাতটি এনভেলপ। শ্রী এ ভেঙ্কটরমন শাস্ত্রীর নামে ১৯৪৬ সালের ব্যাংকের অর্থ জমার কাগজপত্রও পাওয়া গিয়েছে সিন্দুক থেকে। এছাড়াও তিনটে রুপোর পদক উদ্ধার করা গিয়েছে। দুটি গঙ্গামণি দেবী রুপোর পদক ও একটি এ এন মুখার্জি রুপোর পদক পাওয়া গিয়েছে। সংস্কৃতিতে প্রথম স্থানাধিকারীকে সংস্কৃত ও প্রেসিডেন্সি কলেজ মিলে গঙ্গামণি দেবী রুপোর পদকে সম্মানিত করা হত। একটি ১৯১৯ এবং অন্যটি পদকটি ১৯৬৫ সালের পদক। এ এন মুখার্জি রুপোর পদকটি দেওয়া হত ইংরাজি ভাষার সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপককে। বাকি এনভেলপগুলি ভিসির অনুমতি নিয়ে খোলা হবে। এই সমস্ত নথির ঐতিহাসিক মূল্য ঠিক কতটা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
শুক্রবার বেলা ১২ টার আগে থেকে পুরনো সিন্দুকটি খোলার চেষ্টা চলে। চাবি তৈরি করেও তা খোলা যায়নি। চার ঘণ্টার চেষ্টায় শেষমেশ তা খোলে। গুদামে অনেক আবর্জনা ছিল বলে হয়তো ঢাকা পড়ে গিয়েছিল সিন্দুকটি। এছাড়াও মেলে একটি দেওয়াল সিন্দুক। যেখানে ৮৫টি পাস বই মিলেছে। সেগুলি বেশিরভাগই পোস্ট অফিসের বই। ১৯৩০ সালের। সেখান থেকে স্কলারশিপের টাকা দেওয়া হত বলে মনে করা হচ্ছে।
[আরও পড়ুন: উপনির্বাচনে ভরাডুবি, ইভিএমে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন রাহুল সিনহা]
সর্বশেষ খবর
-
আরও একটু মেসি হলে ক্ষতি কী! অবসরের পর লিওর নামে ‘সংগ্রহশালা’ উৎসর্গ বারাসতের সন্দীপের
-
নেপালে প্রলয়ের ফল, বিহারে ভেসে আসছে ‘অজানা মাছ’, বিপজ্জনক মৎস্যমুখে বারণ প্রশাসনের
-
বন্ধ হবে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস? কড়া নোটিস দমকলের, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব তলব
-
শুরু প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া, কলকাতা পুরসভায় ২০৯ আসনেই লড়বে ঋতব্রতর ‘আসল’ তৃণমূল
-
শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, উত্তম কুমারের মতো সাজলেই সেরাদের পুরস্কৃত করবে রাজ্য সরকার