নব্যেন্দু হাজরা: একদিকে নাম মুছে ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার কাজ, অন্যদিকে তাঁকেই ফিরিয়ে আনতে নতুন করে প্রকল্পের নামকরণ, মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন চলছেই। সদস্য দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের নাম বদল করেছে কেন্দ্র। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সেই বিল পাশও হয়েছে। নাম বদল হয়েছে রাজ্য সরকারের একই ধাঁচের প্রকল্পটিরও। ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম ‘মহাত্মাশ্রী’ করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে সিলমোহর দিলেন রাজ্যপাল। শনিবার সেই সিলমোহর সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। এবার থেকে বাংলায় ১০০ দিনের কাজের নাম হয়ে গেল ‘মহাত্মাশ্রী’।

গত ১৮ ডিসেম্বর, বুধবার মাঝরাতে সংসদে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর ১০০ দিনের কাজের নাম বদলের বিলটি পাশ হয়ে গিয়েছে। MGNREGA (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) বা মনরেগা প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে ‘ভিবি জি রাম জি’। এভাবে একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম থেকে ‘জাতির পিতা’ মহাত্মা গান্ধীকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে সরব হন বিরোধীরা। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা রাতভর সংসদের সামনে ধরনায় বসেছিলেন। এনিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রস্তাব করেন, রাজ্যের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদল করে মহাত্মা গান্ধীর নামানুসারে হোক ‘মহাত্মাশ্রী’।
মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে সিলমোহর দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম হবে ‘মহাত্মাশ্রী’। বছরে ৭৫ দিনের বদলে ১০০ দিনের কাজ হবে এই প্রকল্পের আওতায়। যাঁদের জবকার্ড রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পে কাজ পাবেন। আগামী অর্থবর্ষ থেকে ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্পে আরও বেশি মানুষের যাতে কর্মসংস্থান হয়, সেটাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। এভাবেই মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাতে পদক্ষেপ নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়