উপনির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার পরই পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামে ভোটের আগের দিন, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে তিনি। ফলে প্রচারের কোনও সুযোগ নেই। এভাবে প্রার্থীকে জেলবন্দি করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মনে করছে প্রদেশ কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কলকাতায় স্বামীর এই বন্দিদশা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন মিলনবাবুর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানানোয় তিনি ধন্যবাদ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন রাহুল গান্ধীর প্রতিও। বিধান ভবনের ওই সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশী, প্রদেশ কংগ্রেসের দুই সাধারণ সম্পাদক পার্থ ভৌমিক ও আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা জানান, অর্পিতাকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে নন্দীগ্রামে প্রচার শুরু করবে কংগ্রেস।
অর্পিতাদেবী জানান, ‘‘আমার স্বামী জেলবন্দি। তাই নন্দীগ্রামের প্রচারে আমাকেই নামতে হচ্ছে। আগামিকাল, ২৫ সেপ্টেম্বর আমি ওখানে যাব। নন্দীগ্রাম বাজার থেকে প্রচার শুরু করব। আপনারা সকলে সঙ্গে থাকবেন। এটা কংগ্রেস বা বিরোধীদের লড়াই নয়। এটা গোটা নন্দীগ্রামবাসীর লড়াই। তাই আশা করি, আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন।”

এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করতে বসে কার্যত কেঁদে ফেলেন অর্পিতা। কান্নাভেজা কণ্ঠে তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত পুরনো মামলায় এই ভোটের আগেই আমার স্বামীকে কেন জেলে ঢোকানো হল? একই মামলায় তো শুভেন্দু অধিকারীও ছিলেন, তিনি কেন বাইরে? আসলে আমরা বিরোধী বলেই এমনটা করা হয়েছে। উনি (মিলন প্রধান) ছাত্রজীবন থেকে কংগ্রেসি রাজনীতি করেন। কখনও কোনও টাকার লোভে অন্যায় করেননি। ওঁর সহকর্মীদের অনেকে টাকা নিয়ে এ-দল, ও-দল করেছেন। উনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল। নন্দীগ্রামে গেলে ছোট থেকে বড় – সকলে মিলনকে ঘিরে ধরে। এমন একটা মানুষকেই ভোটের আগে জেলবন্দি করা হল। তবে তাঁকে সমর্থন জানানোর জন্য আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ যাঁরা সবসময়ে পাশে রয়েছেন।” তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘‘কংগ্রেসকে যারা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেককে স্বাগত।কংগ্রেসের দিকে যাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান, আহ্বান থাকবে তাঁরা আমাদের সঙ্গে আসুন।”
পরে ভিডিও বার্তায় অর্পিতাদেবী জানান, ‘‘আমার স্বামী জেলবন্দি। তাই নন্দীগ্রামের প্রচারে আমাকেই নামতে হচ্ছে। আগামিকাল, ২৫ সেপ্টেম্বর আমি ওখানে যাব। নন্দীগ্রাম বাজার থেকে প্রচার শুরু করব। আপনারা সকলে সঙ্গে থাকবেন। এটা কংগ্রেস বা বিরোধীদের লড়াই নয়। এটা গোটা নন্দীগ্রামবাসীর লড়াই। তাই আশা করি, আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন।”
এদিন কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের ২জন কর্মী আচমকা বিধান ভবনে পৌঁছে যান। তাঁদের দেখে চিনতে পারেন কংগ্রেস নেতারা। প্রকাশ যোশি ও শুভঙ্কর সরকারকে তা জানানোও হয়। আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের কাছে গিয়ে জানতে চান, সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা কেন? কিছু জানার থাকলে পরে নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে জানানো হয়। তারপরই তাঁরা বেরিয়ে যান। এনিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দলের রাজ্য মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজ্য সরকার যদি আমরা কী করছি বা মিলন প্রধানের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে কী বলছেন, সেটা জানতে চান, তা তো প্রেস কনফারেন্স ফলো করলেই জানতে পারবে। তার জন্য প্রেস কনফারেন্সে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের লোক পাঠানোর কী দরকার?”
সর্বশেষ খবর
-
হিরো মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল
-
‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসুন’, দল ভাঙার পরও ‘গদ্দার’দের জন্য দরজা খোলা মমতার!
-
টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য! এবার অন্য ভারতীয় দলে এন্ট্রি ভুবনেশ্বরের, এই টুর্নামেন্টে দেবেন নেতৃত্ব