BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

যাত্রী প্রত্যাখ্যানে হলুদ ট্যাক্সিকেও টেক্কা দিচ্ছে ওলা-উবের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 2, 2016 5:20 pm|    Updated: June 2, 2016 5:40 pm

An Images

দীপেন্দু পাল: রাত বাড়লেই কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলির যাত্রীদের কাছে ট্যাক্সি ধরাটা প্রায় দুঃস্বপ্নের সমান। সল্টলেক-রাজারহাট তো বটেই, খাস এসপ্ল্যানেড বা শ্যামবাজারেও রাত বাড়লেই রাস্তা থেকে উধাও হয় হলুদ ট্যাক্সি। পুলিশ-মন্ত্রীর ঘরে হাজারো অভিযোগ জমতে জমতে পাহাড়ের স্তুপ। যাত্রী প্রত্যাখ্যান সমস্যার মোকাবিলায় রাজপথে নামানো হয় নো-রিফিউজাল ট্যাক্সি, এমনকি, হলুদ ট্যাক্সির গায়েও নো-রিফিউজাল স্টিকার সেঁটে দেওয়া হয়। কিন্তু স্টিকারই সার, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের ‘স্বায়ত্ত্বশাসন’ ভাঙবে কে? উল্টে সরকার ভাড়া বাড়ানোর বিরোধিতা করলে ধর্মঘটের হুমকি, ইউনিয়নের চোখ রাঙানি লেগেই রয়েছে।

কলকাতায় ওলা-উবের-ট্যাক্সি ফর সিওর এর মতো লাক্সারি ট্যাক্সি পরিষেবা চালু হওয়ার পর যাত্রীরা ভেবেছিলেন এবার বুঝি ‘গাড়ি গ্যারাজে যাচ্ছে’, ‘যাব না’ সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু হলে দেখা যাচ্ছে সে গুড়েও বালি! প্রযুক্তিগত দিক থেকে তামাম কলকাতাবাসী এখনও অ্যাপ নির্ভর ট্যাক্সি বুকিংয়ে সড়গড় নন। কারণ, এখনও আম জনতার মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সহজলভ্য নয়। আর ইন্টারনেট থাকলেও লোকেশন সার্ভিস ‘অন’ করে ট্যাক্সি ডাকা বেশ ঝক্কির কাজ বলেই মনে করেন সাধারণ নাগরিকরা। যদিও এখন ধীরে ধীরে বাড়ির ছোটদের হাত ধরে মা-জেঠিমারাও ওলা-উবের ডাকতে শিখেছেন সদ্য। আইটি প্রফেশনাল বা কল সেন্টার কর্মীদের কাছে রাতে বাড়ি ফেরার একমাত্র ভরসা অ্যাপ-বেসড ট্যাক্সি বুকিং। কিন্তু হালে যাত্রী প্রত্যাখ্যানে হলুদ ট্যাক্সিকেও টক্কর দিচ্ছে ওলা-উবের বা ট্যাক্সি ফর সিওর। কীভাবে? পড়ুন নিচের ঘটনাগুলি-

ঘটনা ১: সংবাদপত্রের দফতর থেকে বেরিয়ে ধর্মতলার মোড়ে ট্যাক্সি ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রসেনজিৎ দত্ত। বেশ কিছুক্ষণ ‘কালি-পিলি’ ট্যাক্সি না পেয়ে স্মার্টফোন থেকে ‘ওলা’ ডাকেন প্রসেনজিৎবাবু। বুকিং হয়েও যায়। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ড্রাইভারের নাম ও নম্বর। সেই নম্বরে ফোন করে প্রসেনজিৎবাবু জানতে চান, চালক এখন কোথায় রয়েছেন ও লেনিন সরণি পৌঁছতে কতক্ষন লাগবে! উত্তরে ওদিক জড়ানো থেকে কন্ঠস্বর বলে ওঠে, “কোথায় যাবেন দাদা?” প্রসেনজিৎবাবু বলেন, “তপসিয়া”। চালক বলেন, “যাব না দাদা, আপনি বুকিং ক্যানসেল করে দিন।” উত্তর শুনে তাজ্জব বনে যান প্রসেনজিৎবাবু।

ola3_web

ঘটনা ২: রাত আটটা নাগাদ সল্টলেক করুণাময়ী থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে আসার জন্য ‘উবের ক্যাব’ বুক করেন লহরী মুখোপাধ্যায়। ম্যাপে দেখায় আশেপাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি উবের ক্যাব। কিন্তু বুক করতে গেলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে- নির্ধারিত ভাড়ার আড়াই গুণ বেশি ভাড়া দিলে তবেই মিলবে ক্যাব। লহরীদেবী বলছেন, “১০০ টাকার জায়গায় যদি ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয় তাহলে উবেরে চেপে যাব কেন? হলুদ ট্যাক্সি ড্রাইভার যেমন ৫০-১০০ টাকা বেশি চায় দিয়ে দেব।”

ঘটনা ৩: ভোরবেলা ওলা অ্যাপ থেকে ক্যাব বুক করে উল্টোডাঙা পৌঁছে বেজায় সমস্যায় পড়লেন মৌলালির বাসিন্দা অনির্বাণ দত্ত। প্রথমত কীভাবে ভাড়ার বন্টন হল বুঝলেন না, দ্বিতীয়ত ১৩০ টাকা বিল হলেও খুচরো নেই বলে ১৫০ টাকা নিয়ে ধাঁ চালক।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন! লাক্সারি ট্যাক্সিগুলির ভাড়া এমনিতেই বেশ চড়া। ওলার ‘মিনি’ ক্যাবে চাপলেই প্রথম ৪ কিলোমিটারের জন্য ৯৯ টাকা দিতে হবে, তারপর প্রতি কিলোমিটারে ৭ টাকা ও মিনিটপ্রতি ১ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়। ‘প্রাইম’ ডাকলেও বেস চার্জ একই, কিলোমিটার পিছু ভাড়া বাড়বে ১০ টাকা করে। উবেরেও ভাড়া মোটামুটি একই। বিজ্ঞাপনে ৬ টাকা প্রতি কিলোমিটার দেখে এধরনের ট্যাক্সিতে উঠলে কিন্তু ফাঁপরে পড়বেন। প্রায় সব লাক্সারি ট্যাক্সিই ইদানীং যাত্রী প্রত্যাখ্যান করতে শিখে গিয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু প্রত্যাখ্যান নয়, ট্যাক্সিতে উঠে যাত্রীদের রীতিমতো হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। পেশায় শিক্ষক কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “রবিবার রাতে কর্মস্থল থেকে উবের ক্যাব চেপে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে স্ত্রীকেও তাঁর অফিস থেকে পিক-আপ করতে চাইলে ড্রাইভার রীতিমতো ক্ষেপে ওঠেন। বলেন, “মাঝ-রাস্তায় বাওয়াল করবেন না। আমাদের সঙ্গে কোনও পাঙ্গা নেবেন না। রাতের বেলা আমরা ইচ্ছামত চলি। আপনি কম ‘রেটিং’ দিলেও আমার কিচ্ছু যায় আসে না। যা করার করে নেবেন।”

এ বিষয়ে ডিসি ট্রাফিক ভিক্টাস সলোমন নিশাকুমার বলেন, “লাক্সারি ট্যাক্সি সংক্রান্ত অভিযোগ আমাদের সেভাবে জমা না পড়লেও অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নেব। অভিযোগ এলে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কী ব্যবস্থা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “১০০ টাকা জরিমানা।”

ola-2_web

যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রী প্রত্যাখান রুখতে ট্রাফিক পুলিশ ফেসবুকে পেজ খুললেও সেখানে সুরাহা মেলে না। রাস্তায় সমস্যায় পড়ে ট্রাফিক পুলিশকে ফোন করলেও এ থানা থেকে ও থানায় ফোন করতে বলা হয়। কখনও বলা হয়, নম্বর লিখে নেওয়া হল, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কী ব্যবস্থা সে কথা জানার আগেই ওপার থেকে ফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয়-এমন অভিজ্ঞতাও রয়েছে যাত্রীদের। লাক্সারি ক্যাব-কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও চালকের শাস্তি হয়েছে বলে জানা নেই কারও। যাত্রীরা বলছেন, দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে লাক্সারি ট্যাক্সি ডেকেও যদি ‘যাব না’ শুনতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? শহরে অঘোষিত নিয়মই হল, হলুদ ট্যাক্সি চালকরা মর্জিমাফিক গাড়ি চালাবেন। ‘গতিধারা’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্য সরকার কয়েক হাজার নো-রিফিউজাল ট্যাক্সি পথে নামালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নীল-সাদা নো-রিফিউজাল ট্যাক্সি ও পুরনো হলুদ ট্যাক্সির মধ্যে পার্থক্য ঘুচে গিয়েছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যোগ দিয়েছে লাক্সারি ট্যাক্সির যাত্রী ফেরানোর প্রবণতা। এভাবেই চলতে থাকলে সময়ে-অসময়ে মাঝরাস্তায় সমস্যায় পড়লে কোথায় অভিযোগ জানাবেন, বাড়িই বা ফিরবেন কী করে, জানেন না যাত্রীরা।

রাস্তায় বিপদে পড়লে কী করবেন?

১. ফোন করুন- 98300-10000, 98308-11111, 9163360404, 9163360406, 2214-1457, 2250-5096, 2214-3644 নম্বরে।

২. ইমেল করুন- [email protected] বা [email protected] বা [email protected] মেল আইডিতে। সঙ্গে ট্যাক্সি নম্বর ও বুকিং নম্বর(লাক্সারি ট্যাক্সির ক্ষেত্রে) জানাতে ভুলবেন না।

৩. ট্রাফিক পুলিশের ফেসবুক পেজ- https://www.facebook.com/KolkataTrafficPolice/ -এ অভিযোগ জানান।

৪. অ্যাপ নির্ভর লাক্সারি ট্যাক্সি পরিষেবায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে অ্যাপেই।

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement