Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Old Coins Exhibition in Kolkata

কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘মুদ্রাযুদ্ধ’, আকবরের স্বর্ণমুদ্রাকে চ্যালেঞ্জ আলেকজান্ডারের!

প্রদর্শনীতে হাজির সমুদ্রগুপ্ত, কনিষ্কের সময়ের স্বর্ণমুদ্রাও।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১৬:২৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১৬:২৪

options
link
কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘মুদ্রাযুদ্ধ’, আকবরের স্বর্ণমুদ্রাকে চ্যালেঞ্জ আলেকজান্ডারের! zoom
(বাঁদিকে) আকবরের আমলে মোহর, (ডানদিকে) ভারত বিজয়ের পর নিজের মুখের প্রতিকৃতি দেওয়া আলেকজান্ডার প্রচলিত প্রথম এবং বিরল স্বর্ণমুদ্রা।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: মুঘল আমলে ১১.৬৬ গ্রাম ওজনের একটি রুপোর মুদ্রাকে এক রুপি বা রুপে বলা হত। এমন ১৫টি রুপির বিনিময়ে মিলত একটি মোহর। এমন ১৫চি রুপির বিনিময়ে মিলত একটি মোহর। শীতের সন্ধ্যার উষ্ণতা বাড়াতে শহরে হাজির এমন গোছা গোছা স্বর্ণমুদ্রা। যাদের মধ্যে চোখ ধাঁধিয়ে দেবে আকবরি মোহর! এর মাঝখানে খোদিত মুঘল বাদশার পুরো নাম – জালালুদ্দিন মহম্মদ আকবর বাদশাহ গাজি। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর টাকশালে তৈরি ২৬.৩৯ মিলিমিটারের সেই মোহরের ওজন ১০.৮৮ গ্রাম। দাম আড়াই লক্ষ টাকা।

ভারত বিজয়ের পর নিজের মুখের প্রতিকৃতি দেওয়া আলেকজান্ডার প্রচলিত প্রথম এবং বিরল স্বর্ণমুদ্রা। নিজস্ব ছবি।

এসব খাজানার নাজারা দেখা যাবে কোথায়? শুক্রবার থেকে কলকাতার নিউমিসম্যাটিক সোসাইটি বা মুদ্রা পরিষদের তিনদিনের এই বিরল মুদ্রা প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। উত্তর-পূর্ব শহরতলির শ্রীভূমির কাছে চলছে এই মুদ্রা উৎসব। যার সামান্য কিছুটা ঘুরে যে খাজানার খবর পাওয়া গেল তাতে দেখা গেল, শুধু আকবর একা নন, প্রদর্শনীতে হাজির সমুদ্রগুপ্ত, কনিষ্কের সময়ের স্বর্ণমুদ্রাও। আর বিরল এবং অন্যতম মূল্যের মোহর সমুদ্রগুপ্তের বঙ্গ বিজয়ের স্মারক মুদ্রা, যেখানে রয়‍্যাল বেঙ্গল শিকারের ভঙ্গিতে রয়েছেন সমুদ্রগুপ্ত। রয়েছে তাঁর বহুল প্রচারিত বীণাবাদনরত ভঙ্গির মুদ্রাও। সব কটিরই মূল্য ওই একই ধরনের। এত সব বহুমূল্য মুদ্রা সংগ্রহে রাখতে আইনের প্যাঁচে পড়তে হয় না?

Advertisement

সোসাইটির সচিব রবি শর্মা জানাচ্ছেন, “এটা বিরাট সমস্যা ছিল এক সময়। অ্যান্টিকুইটি অ্যাক্টের অধীনে একসময় ছিল এই সব ঐতিহাসিক মুদ্রার মতো সম্পদ। কারও সংগ্রহে এসব আছে জানা গেলে তার মাল বাজেয়াপ্ত হত। এই ভয়ে এমন মোহর কেউ পেলে আইনের হাত থেকে বাঁচতে সে সব গলিয়ে সোনা বের করে নিত। তাতে তো ইতিহাসের ক্ষতি।” তার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এখন প্রাচীন মুদ্রা আর সেই আইনের আওতায় নেই। ফলে সংগ্রাহকরাও মনের আনন্দে সেসব সঙ্গে রাখেন, বেচাকেনা করেন, প্রদর্শনী হয়। তবে প্রদর্শনীতে দেখা মিলল বিরলের মধ্যে বিরলতম আলেকজান্ডারের স্বর্ণমুদ্রার। প্রাচীন ভারত যখন আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, আলেকজান্ডার সে সময় ভারত-বিজয় করেছিলেন আফগানিস্তান থেকেই। সম্রাট শখ করে একটা মুকুট বানিয়েছিলেন হাঁ-করা সিংহের মুখের খোলস ও চামড়া দিয়ে। সেই চেহারার স্বর্ণমুদ্রাও বানিয়েছিলেন তিনি। যার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা।

মুদ্রা-সংগ্রাহক ডা. উজ্জ্বল সাহার খাজানায় এমন অন্তত ১২-১৪ রকমের মোহর রয়েছে। সবমিলিয়ে মূল্য দেড় কোটি টাকা। আবার ‘সুবে বাংলা’য় যখন আকবরি শাসনকাল শুরু হল সেসময় থেকে একাধিক রুপোর মুদ্রা চালু হয়েছিল। আকবর ছাড়াও শাহজাহান, জাহাঙ্গির, আবার সিরাজের আমলেও বদলে বদলে এসেছে নানা মুদ্রা। বাংলাদেশ থেকে পাটনা পর্যন্ত তৎকালীন বৃহৎ বাংলাই ছিল ‘সুবে বাংলা’। শৌভিক মজুমদারের সংগ্রহে রয়েছে সেই এলাকার নানা সময়ে বাংলার নানা এলাকার টাঁকশালে তৈরি হওয়া অসংখ্য মুদ্রা। শৌভিক জানাচ্ছেন, সম্রাট আকবর মান সিংহকে বাংলার শাসনে পাঠিয়েছিলেন। সেটা ১৫৫৬ সালের আশপাশে। গঙ্গা তীরবর্তী ফরাক্কার উত্তরের অংশটুকুকেই সেসময় বলা হত ‘বঙ্গ’। সেই নামে হল ‘বঙ্গ টাঁকশাল’। সেখানে তৈরি হওয়া মুদ্রাই চালু হল ‘আকবরি রুপি’ নামে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.