বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়: আমাদের সব প্রতিবাদ এখন আঙুলে এসে জমা হয়েছে। গতকালের ঘটনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। এমন একটা ঘটনা হয়েছে, যা আমাদের শহরে হয় না। এক তরুণীকে দেখে হস্তমৈথুন করেছে এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। কিন্তু সব দেখেও সহযাত্রীরা নিশ্চুপ ছিলেন। একটা লোকও উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেননি।
অথচ সেই ভিডিও যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়েছে, তখন হাজার হাজার শেয়ার হচ্ছে। কুড়িটা লোক উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেনি, কুড়ি হাজার মানুষ তা শেয়ার করছে। স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতিবাদগুলো আর আসল পৃথিবীতে এক্সিস্ট করে না। সব প্রতিবাদ আমাদের ওই আঙুলের ডগাতেই জমা হয়ে আছে।
[ ‘লোকটিকে হস্তমৈথুন করতে দেখেও যারা প্রতিবাদ করেনি তারাও সমান অপরাধী’ ]
আরও একটা কথা আমার বারবার মনে হচ্ছে। সেটা হল, আমাদের সময়ে যেন বীভৎসাব্দ শুরু হয়েছে। সহস্রাব্দ, শতাব্দের মতোই। কেন বলছি এ কথা, তা খুলে বলি। পুরনো নাটকে, বিশেষত শেকসপিয়রের নাটকে একরকমের জিনিস দেখা যেত। তিন চারশো বছর আগের নাটকে হয়তো কাউকে শাস্তি দিতে গিয়ে তার চোখ উপড়ে নেওয়া হচ্ছে। এবার সেখানে যারা উপস্থিত আছে, তারা কিন্তু কেউ এই ঘটনায় দুঃখিত হচ্ছে না। বরং উল্লসিত হচ্ছে তারা। এটা হল বীভৎসতার মজা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার সেরকমটাই মনে হচ্ছে। মেয়েটি অপমানিত হয়েছেন, তাই ভিডিও তুলে শেয়ার করেছেন। হয়তো শেয়ার না করে কলকাতা পুলিশকে পাঠালেও কাজ হত। তবু তাঁর জায়গা থেকে তিনি যা করার করেছেন। কিন্তু যাঁরা ভিডিওটি শেয়ার করছেন, তাঁরা আসলে কী করছেন? আপাতভাবে দেখলে মনে হয়, যেন বিরাট কোনও সামাজিক দায় পালন করছেন। কিন্তু তাই কি? আমি বলছি না যে ঘটনার নিন্দা করবেন না। কিন্তু ভিডিও শেয়ার করে কী বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা? আজ সকালেই দেখলাম, চায়ের দোকানে একসঙ্গে নানাবয়সি অনেকে মিলে ভিডিওটি দেখছেন। এটা তাঁদের কাছে একটা বিনোদন, খোরাক। ছত্রাক-এ পাওলির ক্লিপিংস দেখে যাঁরা মজা পেয়েছিলেন, সেই খোরাকের সঙ্গে এর তো কোনও ফারাক দেখি না। এভাবেও তো ওই বীভৎসতার মজা লুটছেন কেউ কেউ।
[ তরুণীকে দেখে হস্তমৈথুন: মহিলা সহযাত্রীর পাশে দাঁড়াতেও কি এবার পুরুষরা লজ্জা পাবেন? ]
একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, এই সমাজেই সকলে সমান সংবেদনশীল নন। এই ব্যক্তির কি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে পারে? ভারতের আইন অনুযায়ী হয়তো কয়েক মাসের জেল হবে। তারপর সে যা করার তা করবে। কিন্তু এই যে ভিডিওটা ছড়িয়ে দেওয়া হল, অনেকে মজা পেলেন, এ জিনিস অনেকের কাছে বিনোদন হয়ে দাঁড়াল তা আমাদের ভয়াবহ এক বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আমাদের প্রতিবাদগুলো আর বাস্তব নয়। তারপর এই বিকৃতিই আমরাই দায়িত্ব নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছি। আমার তাই মনে হচ্ছে বীভৎসাব্দের শুরু সত্যিই হয়ে গিয়েছে।
(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন)
সর্বশেষ খবর
-
সারাক্ষণ ঝরছে চুল! দূষণ-স্ট্রেস নয়, রাতে শোয়ার এই ৬ ভুলই হতে পারে কারণ, কী করণীয়?
-
পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে বৈঠক মোদির, হরমুজ প্রসঙ্গ উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর মুখে!
-
ভেজাল খাবারের স্থায়ী সমাধান কোথায়? লাইসেন্স বাতিলেই কি সমস্যা মিটবে
-
ভরতকে সরিয়ে ক্যাপ্টেন সোহিনী! ‘ভিখিরি’ কটাক্ষ রাজবীর-নন্দিনীর, ‘বিগ বস’ দূর্গে হুলুস্থুল
-
ঘরের দরজা খোলা, মেঝেয় পড়ে দম্পতির রক্তাক্ত দেহ! খুন নাকি অন্য কিছু?