দীপঙ্কর মণ্ডল: অনশনমঞ্চে অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন এক পার্শ্বশিক্ষিকা। পশ্চিম মেদিনীপুরের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, অনশনে অসুস্থ হয়ে নয়, পথ দুর্ঘটনার জেরেই প্রাণ হারিয়েছেন রেবতী রাউত নামে ওই শিক্ষিকা। পার্শ্বশিক্ষক সংগঠন জানিয়েছে, অনশনরত আরও এক শিক্ষক ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ভরতি এনআরএস হাসপাতালে। একের পর এক আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ নিয়ে চাপানউতোর বাড়ছিলই। শিক্ষিকার মৃত্যুর পর তা আরও উসকে উঠল বলে মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ।
সমকাজে সমবেতনের দাবিতে চলতি মাসের ১১ তারিখ থেকে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে ধরনা আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার পার্শ্বশিক্ষিক, শিক্ষিকা। ১৪ তারিখ রাত থেকে শুরু হয় অনশন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে যোগ দিয়েছেন।অনেকেই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই এসেছেন আন্দোলনে যোগ দিতে। অনশনস্থলে তীব্র জলসংকট, শৌচালয় নেই, বিদ্যুৎ নেই – এমন প্রতিকূল পরিবেশে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন। পশ্চিম মেদিনীপুরের রেবতী রাউত ১১ থেকে প্রথমে খোলা আকাশের নিচে ধরনা এবং পরে ১৮ তারিখ পর্যন্ত টানা অনশন করেছেন। ওইদিন অসুস্থ অবস্থায় তিনি মোহনপুরের বাড়িতে ফিরে যান। পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের দাবি, অসুস্থ রেবতীর চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, অনশনে অসুস্থ হয়ে নয়। বাইক দুর্ঘটনায় রেবতীর মৃত্যু হয়েছে।
[আরও পড়ুন: রাতভর হাসপাতালের বাইরেই ক্যানসার আক্রান্ত, শোরগোল কলকাতা মেডিক্যালে]
এই মঞ্চে ব্রেন স্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাপস বর নামে আরও এক পার্শ্বশিক্ষক। সংকটজনক অবস্থায় তিনি এনআরএস হাসপাতালে ভরতি বলে জানা গিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসকদলের ভূমিকায় নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস একযোগে সরকারের তীব্র নিন্দা করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ইতিমধ্যে ধরনামঞ্চে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে এসেছেন। বৃহস্পতিবার অনশনস্থলে যান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান।
পার্শ্বশিক্ষকদের সমবেতনের দাবি দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট বিভাগে সেকথা জানিয়ে কোনও সমাধান না হওয়ায় কার্যত বাধ্য হয়েই তাঁরা এভাবে জীবিকার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে প্রথমে তাঁদের আন্দোলনের অনুমোদন মেলেনি। হাই কোর্টে গিয়ে সেই অনুমতি লাভ করেছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। রাজ্যের প্রায় ৪৮ হাজার পার্শ্বশিক্ষক, শিক্ষিকার জীবন-জীবিকা যেখানে জড়িয়ে, সেখানে শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতায় ক্ষোভ বেড়েছে বই কমেনি। এভাবে আন্দোলনের কতটা পথ পেরলে, তাঁরা ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন, সেই উত্তর অজানাই। তবে শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে আরও বেশি সংখ্যায় পার্শ্বশিক্ষকরা আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।
[আরও পড়ুন: ‘মৌচাকে হাত দেবেন না’, চন্দ্রিমাকে কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের]
সর্বশেষ খবর
-
বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন ২০ জুলাই, একরাশ প্রশ্নের মুখে নির্বাচনী অফিসার
-
দেগঙ্গায় জাল লটারি চক্রের পর্দাফাঁস! পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
-
বিদ্রোহে জেরবার, শিব সেনা প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তাব উদ্ধবের
-
ফ্রান্স থেকে শেষবার উড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাহন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’! এবার নয়া বিমান পাচ্ছেন ট্রাম্প
-
ভোট পরবর্তী হিংসায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, তারপরই পদত্যাগ অনুব্রত ‘ঘনিষ্ঠ’ বোলপুরের পুরপ্রধানের