পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টানেন্স অফ পাবলিক অর্ডার-সহ রাজ্য বিধানসভায় চলতি অধিবেশন একাধিক বিল আসছে। বেআইনি আয়ের উৎস থেকে তৈরি সম্পত্তির দখল রুখে ‘গুণ্ডাদমনে’ আরও কড়া আইন আনছে রাজ্য সরকার। গুন্ডামি, ঘুষ নিয়ে বেআইনি সম্পত্তিকে আইনি বানানোর মতো অপরাধকে সামনে রেখে বিল তৈরি হয়েছে। তাতে ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আইনের সমস্ত ধারা প্রয়োগ করা যাবে। তার জন্য ‘গুণ্ডা’ শব্দকে বিলে সংযুক্ত করা হয়েছে। শাস্তি হিসাবে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে অভিযুক্তের।
পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিলটির উদ্দেশ্য জননিরাপত্তা বজায় রাখা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা, অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া যাদের সরকার ‘ অসামাজিক’ বা ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটক, এলাকা ছাড়ার নির্দেশ, তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ইত্যাদি।
আরও পড়ুন:
‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ বলতে কোন কাজ বোঝানো হয়?
- সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।
- জীবন, ব্যক্তি বা সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।
- জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত করে।
- কারও বৈধ ব্যবসা, পেশা, কাজকর্মে বাধা দেয়।
- কারও স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে।
- সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতি করে।
- খনি, পাথরখাদান, বালি তোলা, বনজ দ্রব্য, বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত বেআইনি কাজ করে সরকারি অর্থের ক্ষতি ঘটায়।
‘গুন্ডা ‘ কারা?
- নিজে বা কোনও দল, চক্র, সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে নিয়মিত অসামাজিক কাজ করে, করানোর চেষ্টা করে, মদত দেয়, অর্থ জোগায় বা সুবিধা করে দেয়।
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১১১ বা ১১২ ধারার অপরাধে চার্জশিটভুক্ত অথবা অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক আইনে অধীন অপরাধে জড়িত।
বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ
- রাজ্য সরকার, সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ বা তার ঊর্ধ্বতন কোনও পুলিশ আধিকারিকের রিপোর্টের ভিত্তিতে, যদি মনে করে যে কোনও ‘গুন্ডা’কে আটক করা দরকার যাতে সে ভবিষ্যতে অসামাজিক কাজ করতে না পারে, তাহলে আটকের নির্দেশ দিতে পারবে।
- জেলাশাসক অথবা পুলিশ কমিশনারও আটক করার নির্দেশ দিতে পারবেন।
- যদি কোনও এলাকায় পরিস্থিতি এমন হয় যে অবিলম্বে ব্যবস্থা দরকার, তাহলে সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনারকে আটক করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারে।
- তবে এই ধরনের আটক করার নির্দেশ রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে জানাতে হবে।
- ১৫ দিনের বেশি কার্যকর থাকবে না, যদি না রাজ্য সরকার তার মধ্যে অনুমোদন দেয়।
- আটকের নির্দেশ রাজ্যের যেকোনও জায়গায় কার্যকর করা যাবে।
- এই আইনে আটক করার নির্দেশ জারি হলে বাংলার যেকোনও জায়গায় কার্যকর করা যাবে। ঠিক যেমন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়।
এই আইনে আটক ব্যক্তিকে কোথায় রাখা হবে?:
আটক হওয়া ব্যক্তিকে বাংলার যেকোনও সংশোধনাগার অথবা কারাগারে রাখা যাবে।
এই আইনে অভিযুক্ত পলাতক হলে কী হবে?
- যদি কোনও ব্যক্তি পালিয়ে থাকে বা লুকিয়ে থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিপোর্ট করা যাবে।
- সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন দিয়ে তাকে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হতে বলা যাবে।
- নির্দেশ না মানলে ২ বছর পর্যন্ত জেল অথবা জরিমানা। কিংবা জেল ও জরিমানা উভয়ই হতে পারে।
আটক ব্যক্তিকে কী জানাতে হবে?
যখন কাউকে আটক করা হবে তখন তাকে আটক করার কপি দিতে হবে।
আটকের কারণ জানাতে হবে
- আটক করার ৫ দিনের মধ্যে কারণ জানাতে হবে।
- যতটা সম্ভব সংশ্লিষ্ট নথির কপি দিতে হবে।
- তাকে জানাতে হবে যে সে রাজ্য সরকার ও অ্যাডভাইজারি বোর্ডের কাছে আপত্তি জানাতে পারে।
তবে জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যাবে মনে করলে সরকার তথ্য না-ও দিতে পারে।
বিঃ দ্রঃ
- আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব করার যুক্তিসঙ্গত সহায়তা দিতে হবে।
- এই আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এক বা একাধিক অ্যাডভাইজারি বোর্ড গঠন করবে।
- বোর্ডে থাকবেন একজন চেয়ারপার্সন, যিনি হাইকোর্টের বিচারপতি বা প্রাক্তন বিচারপতি। আরও দু’জন সদস্য, যাঁরা হাই কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্য।
অ্য়াডভাইজারি বোর্ডের কাজ কী?
কাউকে আটক করা হলে সেই মামলা ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই বোর্ডের কাছে পাঠাতে হবে।
বোর্ড কী করবে?
- নথি দেখবে।
- প্রয়োজন হলে আরও তথ্য চাইবে।
- আটক ব্যক্তি চাইলে তাকে শুনানির সুযোগ দিতে পারে।
- ৯ সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে মতামত দেবে যে আটক রাখার যথেষ্ট কারণ আছে কিনা।
- যদি বোর্ড বলে যথেষ্ট কারণ আছে, সরকার আটকে রাখতে পারবে।
- যদি বোর্ড বলে যথেষ্ট কারণ নেই, সরকারকে আটক করার নির্দেশ বাতিল করে মুক্তি দেবে।
- আটক ব্যক্তি সাধারণভাবে আইনজীবী নিয়ে বোর্ডে হাজির হওয়ার অধিকারী নন। তবে বোর্ড চাইলে বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমতি দিতে পারে।
সাজা
- এই আইনের অধীনে সর্বোচ্চ আটকে রাখা ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে।
- পুরনো আটকের পরে আবার নতুন করে আবার আটক করা যাবে।
- সরকার যে কোনও সময় আটক বাতিল বা সংশোধন করতে পারে।
- আটক করার মেয়াদ শেষ হলে আবারও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে আটক করার নির্দেশ দেওয়া যাবে।
- মুক্তির পরেও যদি ওই ব্যক্তি অসামাজিক কাজে জড়ায় তবে নতুন করে আটক করা যাবে।
সাময়িক মুক্তি
- সরকার চাইলে আটক ব্যক্তিকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সাময়িক মুক্তি দিতে পারে, শর্তসাপেক্ষে বা শর্ত ছাড়াই।
- প্রয়োজনে বন্ড নিতে পারে।
- সরকার পরে সেই সাময়িক মুক্তি বাতিলও করতে পারে।
- নির্দিষ্ট সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আবার গ্রেপ্তার করে আটক করা যাবে।
এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
যদি জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, বা সরকার অনুমোদিত ডিআইজি পদমর্যাদার বা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার মনে করেন যে কোনও ‘গুন্ডা’ অসামাজিক কাজে জড়িত বা জড়াতে চলেছে, তাহলে তাকে শুনানির সুযোগ দিয়ে নির্দেশ দিতে পারবেন।
- নির্দিষ্ট এলাকা, জেলা বা জেলার অংশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।
- নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই এলাকায় ফিরতে বা ঢুকতে পারবে না।
- এই নিষেধাজ্ঞা এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
চলাফেরার ওপর নজরদারি
- অভিযুক্তকে নিজের গতিবিধির খবর দিতে বলা হতে পারে।
- নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দিতে বলা যেতে পারে
আপিলের সুযোগ
এই আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করা যাবে।
আদেশ ভাঙলে শাস্তি
- এই নির্দেশ অমান্য করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে।
- অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলে আশ্রয়দাতার ২ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।
তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তর ক্ষমতা
রাজ্য সরকার বা অনুমোদিত আধিকারিক পুলিশকে ক্ষমতা দিতে পারে। যে কোনও জায়গায় ঢুকে তল্লাশি চালাতে পারেন তদন্তকারী। যে কোনও ব্যক্তি, যানবাহন, নৌ যান ইত্যাদি থামিয়ে তল্লাশি করতে পারেন। এমন নথি, টাকা, সম্পত্তি, বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে, যা কোনও অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, হচ্ছে, বা হতে চলেছে বলে পুলিশ মনে করে।
- অপরাধ হবে জামিন অযোগ্য এবং পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা যাবে অপরাধীকে।
এই বিলের মূল ক্ষমতাগুলো কী?
- কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে অপরাধ করতে পারে এই আশঙ্কায় আগাম আটক করার ক্ষমতা।
- কাউকে একটি এলাকা বা জেলা থেকে বের করে দেওয়া এবং সেখানে ঢোকা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা।
- তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত করার বিপুল ক্ষমতা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইতিহাসের একমাত্র ফাইনালহীন বিশ্বকাপ, নেপথ্য কারণে জড়িয়ে ভারতের নাম!
-
‘টুইঙ্কল আমাকে যে কোনও সময়ে মেরে ফেলতে পারে…’, বিস্ফোরক দাবি অক্ষয় কুমারের!
-
দু’ঘণ্টার দুর্যোগে শয়ে শয়ে বজ্রপাতের সাক্ষী কলকাতা, নেপথ্যে কোন অশনি সংকেত?
-
অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর এই নিয়মগুলি না মানলে সর্বনাশ, সংসারের ক্ষতির আশঙ্কা!
-
১ জুলাই থেকে বাড়ছে পাসপোর্ট তৈরি ও রিনিউর খরচ, হারালেও গুনতে হবে মোটা টাকা!