গৌতম ব্রহ্ম: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবার মিটতে পারে পেনশনভোগীদের দুর্ভোগ। শেষ হতে পারে ব্যাংকে গিয়ে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার দিন। পরিবর্তে পেনশনভোগীরা জীবিত রয়েছেন কিনা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তা খতিয়ে দেখবেন ব্যাংক কর্মীরা। কেন্দ্র সরকার এবং রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে এমনই দাবি জানাতে চলেছে রাজ্য সরকার।
প্রতি বছর নভেম্বরে ব্যাংকে গিয়ে পেনশনভোগীদের লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হন বয়স্ক পেনশনভোগীরা। কারণ, বহু বয়স্ক পেনশনভোগী এতটাই অসুস্থ যে তাঁরা হাঁটাচলা করতেও পারেন না। সেক্ষেত্রে ব্যাংকে যেতে বহু কষ্ট করতে হয় তাঁদের। যদিও চিকিৎসক অথবা গেজেটেড অফিসারের সই সম্বলিত লাইফ সার্টিফিকেট ব্যাংকে জমা দিতে হয়। অনেক সময় কোনও ব্যাংক কর্মী ওই অসুস্থ পেনশনভোগীকে বাড়িতে দেখতেও যান। করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাংকে না গিয়ে ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমেও জীবিত থাকার প্রমাণ দিয়েছেন বহু পেনশনভোগী।
[আরও পড়ুন: ‘বঁ জু’, ‘বঁ সোয়া’, ফরাসি ক্লাসে পাঠ নিচ্ছেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা! কিন্তু কেন?]
তবে পেনশনভোগীদের দুর্ভোগ মেটাতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। দাবি, আর ব্যাংকে গিয়ে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে না পেনশনভোগীদের। পরিবর্তে বাড়ি গিয়ে পেনশনভোগীদের দেখে আসতে হবে ব্যাংক কর্মীদের। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র এবং রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে এমন দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার ১০০টি ব্যাংক কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং উপদেষ্টা অমিত মিত্র। ওই বৈঠক চলাকালীন একথা জানান তাঁরা। অমিত মিত্র জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও রাজ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গই পথ দেখাবে। অন্য রাজ্যেও ভবিষ্যতে লাইফ সার্টিফিকেট জমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি চালু হবে বলেই আশা তাঁর।
এদিকে, ব্যাংকের কেওয়াইসি ব্যবস্থারও সরলীকরণ করার দাবিতে সরব রাজ্য সরকার। এদিনের বৈঠকে রাজ্যের তরফে বলা হয়, সমস্তরকম প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরেও ই-মেল আসছে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে। তার ফলে বহু মানুষ অসুবিধায় পড়ছেন। অমিত মিত্রর দাবি, ভারতের কোনও রাজ্য আজ পর্যন্ত কেওয়াইসির অসুবিধা নিয়ে সরব হয়নি। এছাড়া এদিনের বৈঠকে প্যান কার্ড তৈরির সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। রাজ্যের তরফে বলা হয়, তাঁতিদের এবং হস্তশিল্পীদের জন্য আলাদা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কারণ, আবেদনকারীদের অনেকেরই প্যান কার্ড নেই। তাই আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। তাই প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক হওয়ার নিয়মে বদল আনার দাবি করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: বন্দে ভারত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ, হাওড়ায় তৈরি ত্রিস্তরীয় প্ল্যাটফর্ম]
সর্বশেষ খবর
-
‘দাবির প্রশ্ন নেই, তৃণমূল আমরাই’, জ্ঞানেশের কাছে সওয়াল ঋতব্রতদের, দলের তহবিল হারাবেন মমতা?
-
পদ নেই, তবু দল নির্বাচনী বৈঠকে হাজির মদন! সিএবির প্রাক্তন যুগ্মসচিবকে ঘিরে জোর বিতর্ক
-
জনরোষে তৃণমূল নেতারা, পাথরপ্রতিমায় জুতোপেটা, গণধোলাই! বারাসতে পা ধরে চাইলেন ক্ষমা
-
অস্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল! ফ্রিজই থাকছে অ্যাকাউন্ট, ব্যাঙ্ক-পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
-
‘ডিম থেরাপি’র শিকার মহুয়া, ‘রাজনৈতিক শত্রু’র পাশে বিকাশরঞ্জন, সমর্থন অখিলেশেরও