সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এর মধ্যেই অন্তত চার, পাঁচদিনের বাজার করে রাখতে হবে। রবিবার রাজ্যজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা শোনার পর থেকে এই ভাবনাতেই বুঁদ সাধারণ মানুষ। বিকেল ৫টা থেকে ঘরবন্দি হয়ে পড়বেন। তাই সকলেরই লক্ষ্য, সোমবার সকালে বাজার খুললে আগে গিয়ে জিনিসপত্র কিনে ফেলতে হবে। কারণ, আবার কতদিন পর এভাবে সময় নিয়ে ব্যাগ হাতে ঝুলিয়ে বাজার যেতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। আগামিদিনে বিকিকিনি বন্ধ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও, দিনের শুরুতে ক্রেতা সমাগম দেখে মুখে হাসি বিক্রেতাদেরও।
রবিবার লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়ে দিয়েছেন, এর মানে শুধুই বাড়িতে থাকা। ‘জনতা কারফিউ’এর মতো তাঁর এই পরামর্শও মেনে চলতে চান দেশবাসী। তারই প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার সকাল থেকে বাজারমুখো হয়েছেন সাধারণ মানুষজন। দক্ষিণে লেক মার্কেট, উত্তরে মানিকতলা বাজারে সবজি, মাছ মাংস কেনার জন্য কার্যত লাইন দিতে হল ক্রেতাদের।

কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়াও এ রাজ্যের সবকটি পুরশহর লকডাউনের আওতায়। আগামী কয়েকদিনের রসদ মজুত করার জন্য জেলাগুলির বাজারেও ভিড় দেখা গেল। ৩১ মার্চ রাত বারোটার আগে যে ঘর থেকে বেরনো নিষেধ।
[আরও পড়ুন: আজ বিকেল থেকেই রাজ্যে লকডাউন, জানেন আইন ভাঙলে কী শাস্তি হতে পারে?]
এই বাজার করার প্রস্তুতি অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছিল রবিবার বিকেল থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ‘জনতা কারফিউ’ কেমন হল, তার হালহকিকত জানতে সারাদিন টিভিতে চোখ ছিল কৌতুহলী জনতার। দুপুরের দিকে ঘোষণা হয় লকডাউনের। তারপরই বিস্তারিত খবর দেখে অনেকেই বসে যান ঘরে কী কী আপৎকালীন জিনিস নেই, তার তালিকা তৈরি করতে। বাজারের থলি, ওষুধের প্রেসক্রিপশন, পরিমাণমতো নগদ টাকা সবই তৈরি করে রেখেছিলেন। শুধু রাত কাটার অপেক্ষায় ছিলেন।
[আরও পড়ুন: লন্ডন ফেরত তরুণের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শাস্তি, বাবা-মা ও পরিচারিকাও করোনা আক্রান্ত]
সরকার আশ্বাস দিয়েছে এটিএম, ব্যাংক, সবজি বাজার, মাছ বাজার, ওষুধের দোকানের মতো অত্যন্ত জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। কিন্তু তাতে বিশেষ আশ্বস্ত হচ্ছেন না তাঁরা। চিন্তা একটাই, যেভাবে দু’-তিনদিনের মধ্যে ‘কমিউনিটি স্প্রেড’ কলকাতায় শুরু হয়েছে, তাতে কবে কী হয়, ঠিক নেই। হয়ত দেখা গেল, সরকারি নির্দেশিকা সত্ত্বেও এটিএমে টাকা এসে পৌঁছল না। তখন তো আর প্লাস্টিক মানি দিয়ে মুদিখানা দোকান বা সবজির বাজারে কেনাবেচা করা যাবে না। তাই সময় থাকতে থাকতেই গুছিয়ে নেওয়া।

সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক