Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
Nabanna

বারবার নবান্ন অভিযানে স্তব্ধ জনজীবন! হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলার পথে পরিবেশ কর্মী সুভাষ

বৃহস্পতিবার সুভাষবাবু রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২৫, ০৯:০০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২৫, ০৯:০০

options
link
বারবার নবান্ন অভিযানে স্তব্ধ জনজীবন! হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলার পথে পরিবেশ কর্মী সুভাষ zoom
Advertisement

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক সংগঠন হামেশাই নবান্ন অভিযান করছে। বারবার এই নবান্ন অভিযানের জেরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে হাওড়া শহরের জনজীবন। হাওড়া শহরের বাসিন্দা ও শহর দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাই এবার নাগরিকদের স্বার্থে নবান্ন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করতে চলেছেন হাওড়ার বাসিন্দা তথা পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত।

এই জনস্বার্থ মামলা করার আগে বৃহস্পতিবার সুভাষবাবু রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, হাওড়ার জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন সুভাষবাবু।
প্রশাসনিক কর্তাদের দেওয়া চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই নবান্ন অভিযান রুখতে রাস্তায় ব্যারিকেড করা, তা সারানো ও পুলিশ মোতায়েন করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, জনগণের হয়রানি হচ্ছে আর জনগণকেই এই খরচ বহন করতে হচ্ছে। তাই এই খরচ এবার যে রাজনৈতিক দলগুলি নবান্ন অভিযান করবে তাদেরই বহন করতে হবে বলে চিঠিতে দাবি তুলেছেন সুভাষবাবু।কিন্তু নবান্ন অভিযান নিয়ে কেন স্মারকলিপি দিয়ে জনস্বার্থ মামলা করতে চলেছেন সুভাষবাবু?

Advertisement

সুভাষবাবুর অভিযোগ, ২০১৩ থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন হাওড়ার নবান্নতে হওয়ার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক নবান্ন অভিযান করছে। যার জেরে হাওড়া ব্রিজ, জিটি বোড়, ফরশোর রোড, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে-সহ হাওড়া শহরের মূল রাস্তাগুলিতে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে সারাদিন বন্ধ করে রাখছে। ওই দিনগুলিতে পায়ে হেঁটেও যাতায়াত করতে পারছেন না নাগরিকরা। এমনকী অ্যাম্বুল্যান্সও চলতে পারছে না। হাওড়া শহরের বুকে থাকা বহু স্কুলের পড়ুয়ারা ছুটির পর স্কুল থেকে বেরিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ছে। সাধারণ নাগরিকদের এই অসুবিধার কথা তুলে ধরেই তিনি জনস্বার্থ মামলা করতে চলেছেন।

এই প্রসঙ্গে সুভাষবাবু আরও বলেন, “এই নবান্ন অভিযানের জন্য হাওড়া স্টেশন, শালিমার, সাঁতরাগাছি ও হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশনে মানুষ পৌঁছতেই পারেন না। ২৫ লক্ষ নিত্যযাত্রী ও ১৫ লক্ষ বসবাসকারীর জীবন নবান্ন অভিযানের জেরে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। এইভাবে চলতে পারে না। এটা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এজন্যই আমি আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করছি।”

সুভাষ দত্তর কথায়, এমনিতেই অপরিকল্পিত এবং অবৈজ্ঞানিকভাবে বেড়ে চলা অতি প্রাচীন হাওড়া শহরে জনজীবন বিপর্যস্ত। শহরের মূল অংশ অর্থাৎ হাওড়া ময়দান চত্বরে তৈরি হওয়া নানা প্রতিবন্ধকতায় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ভুগছেন। বেআইনি টোটোর দখলে সব রাস্তা। জমা জল, ভাঙা রাস্তায় যানবাহন গতি হারিয়েছে। অবৈধ পার্কিং, হকার রাজ কায়েম হওয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকরা জর্জরিত। তার উপর বর্তমানে হামেশাই নবান্ন অভিযান মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই মঙ্গলাহাট বন্ধ করে নবান্ন অভিযানের প্রতিবাদে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন হাট ব্যবসায়ীরা। হাই কোর্ট নবান্ন অভিযানের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবারও সেই নবান্ন অভিযানের প্রতিবাদেই মামলা দায়ের করতে চলেছেন পরিবেশ কর্মী। তার আগে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন সুভাষ দত্ত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.