কৃষ্ণকুমার দাস: এতদিন তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে গাইডলাইন দিয়েছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের বর্ধিত কর্মসমিতির বৈঠক থেকে শুরু করে জাগো বাংলার উৎসব সংখ্যা প্রকাশেও হাজির থেকেছেন তিনি। তাঁরই পরামর্শে এবার তিন উপনির্বাচনে স্থানীয়স্তরে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে পৃথক ইস্তাহার প্রকাশ করছে মা-মাটি-মানুষের দল। কিন্তু এবার সরাসরি পুরসভার কাউন্সিলর পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ক্লাস নিতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর। শনিবার দক্ষিণ কলকাতার জয়হিন্দ ভবনে কলকাতা পুরসভার ১১৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলরকে নিয়ে বৈঠকে বসছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। থাকবেন তৃণমূল পুর দলের রাজ্য সভাপতি তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে আগামী এপ্রিল-মে মাসে কলকাতা পুরভোটের রুটম্যাপ চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।
দলের তরফে ফিরহাদ ও অভিষেক বক্তা থাকলেও প্রশান্ত কিশোরই ভোটের আগে শেষ ছয় মাসের কর্মসূচি ও দায়িত্ব কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মসূচি ও পুরসভার পরিষেবাকে সামনে রেখে এপ্রিলের শেষে কলকাতা ভোট সম্পূর্ণ করে অভাবনীয় ভাল ফল করতে চায় তৃণমূল। আর কলকাতায় জোড়াফুলের সাফল্যের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের অন্য সমস্ত পুরসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের বিজয় ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। নিয়ম মেনে কলকাতা পুরভোটের এখনও ৬ মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই দলের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসে শনিবার থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল।
প্রথমে ১৯৯৪ সালের সংরক্ষণ আইন মেনে কলকাতার ওয়ার্ড ভিত্তিক আসন সংরক্ষণ নিয়ে একটি খসড়া প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু সেই সংরক্ষণ নিয়ে দলের মধ্যেই একাংশ ক্ষুব্ধ হওয়ায় ফের ২০১৫ সালের সংশোধনী ধরে ওয়ার্ড ভিত্তিক আসন সংরক্ষণের খসড়া তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেই সংরক্ষণও চূড়ান্ত নয়। কারণ, পুরো তালিকা স্বয়ং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না দেখা পর্যন্ত কিছুই সম্পূর্ণ হবে না বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন। আসলে যে ফর্মূলাই চূড়ান্ত হোক না কেন, তাতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কাউন্সিলরের আসন মহিলা বা তফশিলি হয়ে যাওয়ায় নিজের ওয়ার্ডে ভোটে লড়তে পারছেন না। চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন কাউন্সিলরা শুক্রবার পুর অধিবেশনে এসেও লবিতে এই নিয়ে অনুসন্ধানে ব্যস্ত ছিলেন।
[আরও পড়ুন: ‘আমার মতো সামান্য শিক্ষিকার বিজেপিতে দরকার নেই’, চমকের ইঙ্গিত বৈশাখীর]
মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যে পুরভবনে দলের সমস্ত কাউন্সিলরকে নিয়ে বৈঠকে বসে ৩১ মার্চের আগে সমস্ত উন্নয়ন-কর্মসূচি সম্পূর্ণ করতে বলেছেন। কারণ, লোকসভা ভোটের নিরিখে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬০টির মতো ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনজন মেয়র পারিষদ, চারজন বরো চেয়ারম্যান ও ৫৩ জনের মতো কাউন্সিলরের ওয়ার্ডে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। বস্তুত এই কারণে অনেক আগে থেকেই সতর্ক হয়ে মাঠে নামছে তৃণমূল। আর সেই নির্বাচনী যুদ্ধের আগে প্রতিটি ওয়ার্ডেই দলের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে এবার সরাসরি কাউন্সিলরদের মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর নিয়োগ করা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর।
সর্বশেষ খবর
-
১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি সম্পত্তি, নাবালক বৈভবকে কি আয়কর দিতে হয়?
-
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, হরমুজ হাহাকার কাটিয়ে মিলবে জ্বালানি সমাধান?
-
প্রয়াত পদ্মশ্রী সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা
-
বিশ্বকাপের আগে ‘অমানবিক’ ফিফা! দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এই সিদ্ধান্তে
-
দাউদ ইব্রাহিমের হাড়হিম হুমকি, ‘তোর খেলা শেষ’, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত