সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কোথাও প্রতিবন্ধী শিশুদের ডাকে সাড়া দিয়ে মনোবিকাশ কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন মা, তো কোথাও চাইলেও মাকে ধরা যাচ্ছে না। এভাবেই ভিন্ন ভাবনা ফুটে উঠছে শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে। শিল্প-শৈলীর মিশেলে জন্ম নিয়েছে অভিনব ভাবনা। যা কখনও থিম তো কখনও তকমা পেয়েছে কনসেপ্টের। এই প্রতিবেদনে থাকল তেমনই কিছু মণ্ডপের অভিনব ভাবনার কাহিনি।

৯৫ পল্লি: দক্ষিণ কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজোর এবারের থিম অধরা। দেবী দুর্গার অস্তিত্ব সর্বত্র। সাধারণ মানুষের মনেও মায়ের বাস। কিন্তু তাঁকে কি সহজে ধরতে পারেন কেউ? না। বাধা একটা থেকেই যায়। আর এ মণ্ডপে শিল্পী সুশান্ত পাল ফুটিয়ে তুলেছেন সেই ভাবনাকেই। ঘণ্টা, কাচের স্লাইডার ও লোহার আয়না দিয়ে সাজানো মণ্ডপে আলো-আঁধারির খেলা ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে।
[উৎসবের দিনগুলো কেমন কাটছে তারকাদের? দেখুন ছবি]

আলিপুর সর্বজনীন: ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া। টিভির পর্দায় চোখ রাখলে এমন বিজ্ঞাপনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সৌন্দর্যের ছবি নিশ্চয়ই দেখতে পান। কিন্তু ভাবুন তো, শহরে বসেই যদি সে সব সৌন্দর্য চাক্ষুস করা যায়, তবে কেমন হয়? হ্যাঁ। শিল্পী অনির্বান দাসের প্রয়াস এবার তেমনটাই। এ মণ্ডপে দিল্লির কুতুব মিনার থেকে রাজস্থানের উট, সাঁচী স্তূপ থেকে দক্ষিণী কথাকলি, চারমিনার থেকে রবীন্দ্রনাথ সবই রয়েছে এক ছাদের নিচে। রঙিন এই উপহার দর্শকরা দারুণ উপভোগ করছেন।

চোরবাগান সর্বজনীন: শহরের ভিতরে শহর। তারও আছে আত্মজীবনী। কখনও রঙিন তো কখনও ধূসর। নগরভেদে পালটায় বৈচিত্র। শহরে এক মুঠো আকাশ খুঁজে ফেরে পথিক মন। যন্ত্রণার গুরুভার লাঘব করতে পারে সেই উন্মুক্ত আকাশই। তারা ঝলমলে রাতে সে লেখে নাগরিক ক্লান্তির খতিয়ান। এমনই এক নগর সার্কাসে এবার নিয়ে ফেলার বন্দোবস্ত করেছে চোরবাগান সর্বজনীন।

নলিন সরকার স্ট্রিট: তাদের পুজোর কটাদিন কাটে চার দেওয়ালের মধ্যেই। সমস্ত জাঁকজমক আর হুল্লোড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে যাদের কান্না, মায়ের মন পড়ে আছে তাদের কাছেই। এবার সেই বিশেষ মানুষের কাছেই পুজোয় এসেছেন দেবী। কারণ, মাকে যে চিঠি লিখেছে ওরা। এবার যেন পুজোর চারদিন তাদের হোমেই আসেন দেবী। অপটু হাতে কৈলাসের ঠিকানায় সেই চিঠি লিখে পোস্টবাক্সে ফেলেছে তারা। শুরু হয় স্বপ্ন দেখা। অবশেষে মা আসায় হোমের চার দেওয়ালে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো ফের রঙিন ডানা মেলে ওড়ে। থিমমেকার রিন্টু দাসের ভাবনায় ৮৫তম বর্ষে তাদের নিবেদন- ‘মা তুমি কার!’
[থিম ভাবনায় পিছিয়ে নেই জেলার পুজোও, দেখুন ছবি]

রাজডাঙা নব উদয় সংঘ: সম্প্রীতি, সমন্বয় জাতীয় শব্দগুলির আজ বড় বেশি ঘেরাফেরা। তার নির্দিষ্ট কারণও আছে। কিন্তু কেমন হবে যদি এ শব্দগুলো না থাকে? থাকবে না তখনই, যখন মুছে যাবে বিভাজন। সম্প্রীতির কথা এলেই প্রচ্ছন্নভাবে অস্তিত্ব রয়ে যায় বিভাজনেরও। এবার এই বিভাজনহীন এক ভাবনাই তুলে ধরেছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। আর তাই এখানে জয়গান হচ্ছে কেবল নারীশক্তির।

এসবি পার্ক সর্বজনীন: মানুষ মজে নিজেকে নিয়েই। যার পোশাকি নাম হতে পারে ‘সেলফি’। দুর্গাপুজোর মতো একটা মঞ্চে এবার এই আত্মকেন্দ্রিকতার বেড়া ভাঙার স্বপ্ন নিয়ে হাজির শিল্পী ভবতোষ সুতার। কবীর সুমনের আবহ সংগীত যে মণ্ডপকে আরও সম্বৃদ্ধ করেছে।


দমদম পার্ক তরুণ সংঘ: প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক চিত্রশৈলী জীবন্ত হয়ে আছে গুজরাটের ভার্গিস জনজাতির হাত ধরে। আদ্যন্ত যাযাবর সেই জনজাতির চিত্রকলার নাম ‘মাতা-নি-পাছেড়ি’। একসময় যখন জাতপাতের দোহাই দিয়ে তাদের মন্দিরে প্রবেশ থেকে বিরত রাখে সমাজের উচ্চবর্ণের ধ্বজাধারীরা তখনই এই চিত্রশৈলীর আশ্রয় নেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিল্প অস্তিত্ব সংকটের মুখে। চিতারা উপাধিধারী জনজাতির হাত ধরেই বেঁচে রয়েছে এই শিল্প। সেই তিন শতকের পুরনো চিত্রশৈলীই জীবন্ত হয়ে উঠেছে শহরের পুজোয়।


ত্রিধারা সম্মীলনী: কংক্রিটের জঙ্গলে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতি। ভুল খাদ্যাভ্যাস। লাগামছাড়া জীবনযাপন। সবুজ ছেঁটে একের পর এক বহুতল গড়ে নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে নৈশ-জীবন। আর এসবের প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে প্রকৃতি। মায়ের হাত ধরেই সবুজকে ফেরানোর প্রয়াস করছেন শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা।


সর্বশেষ খবর
-
অঘটনের বিশ্বকাপে জারি ফরাসি বিপ্লব, সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় এমবাপেরা
-
দুই ‘সেরা’ গোলের ম্যাচে বাজিমাত ‘গোলদস্যু’ হালান্ডের, প্রি কোয়ার্টারে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়