ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: মুখ্যসচিব (Chief Secretary) পদ থেকে অবসর নিলেন বটে। কিন্তু ‘নিজের চেয়ার’ রাজীব সিনহার সঙ্গেই থাকল। অবসরের দিনে প্রোটোকল মেনে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে পদ ও দায়িত্ব হস্তান্তর করে দিয়েছেন পরবর্তী মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Alapan Banerjee)। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু কাকতালীয় হলেও নিজের চেয়ারটি তিনি ছাড়েননি। এবং তা আগেই তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন ক্যামাক স্ট্রিটে শিল্পোন্নয়ন নিগমের অফিসে। বৃহস্পতিবার থেকে যার চেয়ারম্যান হয়ে তাঁর বসার কথা। মজার ছলে নিজেই আবার বলেছেন, “আমি কোনওদিন চেয়ার-হারা হইনি। হবও না। আমার চেয়ার আমার সঙ্গেই যাবে।” আজ নয়, ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরের দায়িত্ব তিনি যেদিন নিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই এই চেয়ার তাঁর সঙ্গী। তাঁর সঙ্গেই এ চেয়ার স্বাস্থ্যদপ্তর ঘুরেছে। বসেছে মুখ্যসচিবের সরকারি চেয়ারের পাশেও।
কিন্তু ব্যাপারখানা কী? চেয়ারের মাহাত্ম্যই বা কেমন? জানা গেল, একেবারে ব্যক্তিগত কারণেই ২০১৩ সালে নিজের জন্য একটি চেয়ার তিনি কিনেছিলেন নিজের বেতন থেকে। সেই থেকেই এই চেয়ার তাঁর সঙ্গী। সরকারি চেয়ার থাকলেও নিজের কেনা সেই চেয়ারেই এতদিন বসেছেন। শিল্পোন্নয়ন নিগমের অফিসেও এই অভ্যাসের কোনও বদল তাঁর হবে না। টানা ৩৫ বছরের কর্মজীবন। সেরা কোনও কাজের জন্য গর্বিত হন? সাংবাদিকদের প্রশ্নে সটান জবাব, “আবেগ দিয়ে কাজ করি। কোনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করি না। রোজই আমার কাজের দিন। আমি কারও জন্য কাজ করিনি। নিজের আনন্দে কাজ করেছি। সব কাজই আমার কাছে সমান দামী।”

[আরও পড়ুন: চার হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসার অভাবে শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ বাবা]
কাজের প্রতি এই ভালবাসার জন্য মুখ্যমন্ত্রী উত্তরকন্যাতেই রাজীব সিনহার (Rajiva Sinha) ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, “আমি নিজে মনে করি, অবসর বলে কিছু হয় না। আমরা কাজের মানুষকে অবসর নিতেও দিই না। মুখ্যসচিব হিসাবে কোভিড পর্বে রাজীব সিনহা যেভাবে কাজ করেছেন তার তুলনা হয় না। ওনার নতুন জীবন শুরু হল। ওনাকে এবং আলাপন, দু’জনকেই শুভেচ্ছা। কাজ করুন এবং ভাল থাকুন। নতুন ও পুরনোর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা একসঙ্গে কাজ করব। কাজ করাটাই কাজ।”

এদিকে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালের বিমানেই ফের শিলিগুড়ি উড়ে যাচ্ছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা। স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্বও আলাপনবাবুর কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন প্রাক্তন অর্থসচিব এইচ কে দ্বিবেদী।

[আরও পড়ুন: কোভিড চিকিৎসায় বেলাগাম বিল, উপসর্গহীন রোগীর থেকে দিনে ৩৫ হাজার টাকা নিল হাসপাতাল]
সর্বশেষ খবর
-
প্রতীক ভাঙায় বামেদের নিশানা এবিভিপির, ছাত্র-সংঘাতে থানায় অভিযোগ যাদবপুর কর্তৃপক্ষের
-
২ মাস আগে ফর্ম ভরেও মিলছে না ‘অন্নপূর্ণা’, সরাসরি অগ্নিমিত্রার কাছে নালিশ মহিলাদের
-
‘এখন কে মহানায়ক বা ইন্ডাস্ট্রি জানতে চাই না’, দেব-প্রসেনজিৎকে ‘খোঁচা’ দেবশ্রীর!
-
ফাঁকফোকর নেই তো? কলকাতায় ‘জঙ্গি’ ধরা পড়তেই ভিক্টোরিয়ার নিরাপত্তায় নজরদারি
-
বিমানের টিকিট সমস্যায় শিলংয়ে চরম ভোগান্তি মোহনবাগানের, ডুরান্ড ডার্বির আগে নেই রিকভারির সুযোগও!