BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ভালবাসা আর আস্থায় পঁচিশে পা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 9, 2016 2:52 pm|    Updated: August 10, 2016 4:12 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৯ আগস্ট, ১৯৯২৷ মর্নিং ওয়াক থেকে ফেরার পথে কাগজের স্টলের দিকে তাকিয়ে থমকে গিয়েছিলেন অনেকেই৷ চেনা অভ্যেসে কাগজের সারিতে চোখ বুলিয়েও চোখ ফেরাতে পারেননি৷ কেননা দৃষ্টি আটকেছিল নতুন এক নামে৷ সাজিয়ে রাখা সংবাদপত্ররা যখন একে অন্যের উৎকর্ষতার বিজ্ঞাপনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মশগুল, যে যার নিজের দঙ্গল থেকে এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়, তখন  সেই ভিড়েই স্বতন্ত্রতায় উজ্জ্বল হাজির এক নতুন সদস্য৷ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর৷ কৌতূহলে সেদিন সেই নতুন সংবাদপত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন কেউ কেউ৷ সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে৷ আজও সকাল হলেই সেই সংবাদপত্রই হাতে৷ শুধু এর মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ২৪টি বছর, কেটে গিয়েছে কয়েকটি প্রজন্ম৷ সময়ের সেই পট পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে, নানা অদলবদলে নিজেকে বদলাতে বদলাতে, আজ পঁচিশে পা রাখল ‘সংবাদ প্রতিদিন’ ৷

স্বপনসাধন বসু যেদিন বাংলা সংবাদপত্রের দুনিয়ায় হাত রাখলেন, সেদিন অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন৷ বাঙালি ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে জাহাজের ব্যবসায় বসু পরিবারের সুনাম অক্ষুণ্ণ৷ তা ছেড়ে কাগজে কেন- ভুরু কুঁচকেছিলেন অনেকেই৷ ময়দানে তাঁকে যাঁরা টুটু বসু হিসেবে চেনেন তাঁরাও ঠিক মেলাতে পারেননি৷ অনেকে আন্দাজ করতে না পারলেও পেরেছিলেন কেউ কেউ৷ আসলে ঝুঁকি নেওয়া যে তাঁর মজ্জাগত৷ সে ব্যবসা হোক কিংবা ময়দানের জন্য দল নির্বাচন- বরাবরই নতুন কিছু করার প্রয়াস তাঁর৷ ঠিক সেরকমই এক নতুনের খোঁজে প্রবেশ সংবাদপত্রের দুনিয়ায়৷

৯ আগস্ট ১৯৯২, প্রথম কাগজ৷ ২৩ ২০০২, প্রথম রঙিন মাস্টহেড৷
৯ আগস্ট ১৯৯২, প্রথম কাগজ৷ ২৩ অক্টোবর ২০০২, প্রথম রঙিন মাস্টহেড৷

তবে সেটাই সব নয়৷ বাংলা সংবাদপত্রের দুনিয়া সেদিন নতুন এক দৃষ্টি ও প্রকাশভঙ্গীর অপেক্ষাতেই ছিল৷ কথায় ও কাজে যখন বেজায় অসংগতি, প্রচার-বিজ্ঞাপন যখন বাজারি বিষয় মাত্র, তখন প্রয়োজন ছিল এক নির্ভীক তরুণ সংবাদপত্রের, খবর বলতে যা বুঝবে খবর শুধুই৷ পাঠকের সে চাহিদা প্রথমদিন থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল সংবাদ প্রতিদিন৷ আর তাই সেদিন সম্পাদক জানিয়েছিলেন, ‘সংবাদ প্রতিদিন হতে চায় নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী৷ … সংবাদ প্রতিদিন প্রকাশ্য ও প্রছন্ন সাম্প্রদায়িকতা, আঞ্চলিকতাবাদ ও বিছিন্নতাবাদের বিরোধিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠন করার চেষ্টা করবে৷ তারা যাতে দেশ ও জাতিকে দুর্বল করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখবে৷’ আর তাই প্রথম দিন থেকেই নির্ভীক ও সৎ সংবাদ পরিবেশনাকেই পথচলার পাথেয় করেছিল৷ বাকিটা তো ইতিহাস৷

পঁচিশের পথচলায় অনেক উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়ার সাক্ষী হয়েছে ‘সংবাদ প্রতিদিন’৷ কিন্তু কোনও অবস্থাতেই মাথা ঝোঁকায়নি৷ সংবাদ পরিবেশনার ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়নি৷ নানা সমালোচনা এসেছে, আলো-কালোয় হাত ধরাধরি করে এসেছে ভালো-মন্দ দিন৷ কিন্তু শিরদাঁড়া সোজা রেখেছে সংবাদ প্রতিদিন৷ যেদিন কাগজ আত্মপ্রকাশ করেছিল অর্থাৎ ৯ আগস্ট ছিল দেশের আগস্ট বিপ্লবের অর্ধশতবর্ষপূর্তির দিন৷ সেদিন সম্পাদকের সঙ্কল্প ছিল, ‘পরিবর্তনের-ব্যক্তি ও গোষ্ঠীজীবনের পরিবর্তন৷ দৃষ্টিভঙ্গী ও মানসিকতার পরিবর্তন৷ তিল তিল পরিবর্তন একদিন বিপ্লবের আকারে প্রকাশ পায়৷ সেদিক থেকে মৌল পরিবর্তনের প্রয়াস এক রকমের বিপ্লব প্রচেষ্টা৷’ আজও প্রতিদিন প্রতিটি কর্মী তাঁদের ভাবনায়, শ্রমে, মেধায় জারি রেখেছেন সে বিপ্লব প্রয়াস৷ আর কে না জানে, বিপ্লবের আগুন কখনও নেভে না! পঁচিশে পা দিয়ে তা আরও পরিশীলিত ও দৃঢ় সংকল্প হয়ে আগামীর লক্ষ্যে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement