Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
কলকাতা পুলিশ

বাঁশদ্রোণীতে কুয়োয় পড়ে যুবকের মৃত্যু, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নিন্দা করায় ক্ষুব্ধ কলকাতা পুলিশ

নিজেদের ফেসবুক পেজে ক্ষোভের কথা জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯, ১৭:৪৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯, ১৭:৪৬

options
link
বাঁশদ্রোণীতে কুয়োয় পড়ে যুবকের মৃত্যু, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নিন্দা করায় ক্ষুব্ধ কলকাতা পুলিশ zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাঁশদ্রোণীতে কুয়োয় পড়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কলকাতা পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের ব্যর্থতা নিয়ে যেভাবে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ কলকাতা পুলিশ। নিজেদের ফেসবুক পেজে সমালোচকদের একহাত নিল পুলিশ। জানাল, এতে কলকাতা পুলিশ বিস্মিত ও ব্যথিত। পেজের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘বাঁশদ্রোণীতে এক যুবকের কুয়োয় পড়ে গিয়ে মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেভাবে কলকাতা পুলিশের ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ’-কে কাঠগড়ায় তুলেছে, তাতে আমরা বিস্মিত এবং ব্যথিত।’

কলকাতা পুলিশ আরও লিখেছে, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ডিএমজির যে কর্মীরা টানা সাত ঘন্টা ধরে নিরলস চেষ্টা চালিয়েছিলেন যুবককে উদ্ধারের, তাদের কটাক্ষ করা, বিদ্রুপ করাও কোন দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের পক্ষে শোভন নয় বলেই মনে হয় আমাদের।’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে বাঁশদ্রোণীর ওই কুয়োর পাশে গিয়েছিলেন সম্রাট সরকার ওরফে বাপি। বছর আঠাশের ওই যুবকের মৃগী রোগ রয়েছে। তাই চাকরি পাননি তিনি। সম্ভবত নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে বিয়েও করেননি বাপি। ওই যুবক সেদিন দুপুরে গিয়েছিলেন স্নান করতে। আবার কারও দাবি, তিনি গিয়েছিলেন বাসন মাজতে। তখন প্রায় ৫০ ফুট গভীর কুয়োও পড়ে যান বাপি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে দমকলে খবর দেওয়া হয়। তিনটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় মেলেনি সাফল্য।

Advertisement

[আরও পড়ুন: দক্ষতার পুরস্কার, ৪৫ মিনিটে যুবকের দেহ উদ্ধার করে চাকরি পেলেন পাতকুয়ো মিস্ত্রি]

ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর খবর দেওয়া হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। হাজারও আধুনিক যন্ত্রপাতি তা সত্ত্বেও দেহ উদ্ধার করতে পারেনি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পাতকুয়োর দিকে কাটিয়ে দুশ্চিন্তার রাত কাটান বাপির পরিজনেরা। শনিবার সকালে জোরকদমে আবারও শুরু হয় উদ্ধারকাজ। তবে প্রথম কয়েকঘণ্টার চেষ্টা পরেই দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী হাল ছেড়ে দেয়। তবে ততক্ষণে কেটে গিয়েছে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। ডেকে আনা হয় পাতকুয়ো মিস্ত্রি মেঘনাদ সরকারকে। তিনি শুধুমাত্র একটি অক্সিজেন মাস্ক এবং বেল্টের সাহায্য নিয়ে নেমে পড়েন কুয়োয়। পাতকুয়োর জল ছেঁচে ফেলাও শুরু হয়। এছাড়াও মাটি কেটে যুবক বাপির দেহ উদ্ধার করা হয়। গোটা অপারেশনে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট। তার মধ্যেই বাপির দেহ উদ্ধারে সমর্থ হন মেঘনাদ। নিহত বাপির পরিজনদের দাবি, দমকলের পরিবর্তে পাতকুয়ো মিস্ত্রিকে আগে কাজে লাগানো গেলে হয়তো এমন অঘটন হত না।

এই ঘটনায় অনেকেই কলকাতা পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে। সঠিক সময়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ব্যর্থ হলে তাদের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমালোচনার জবাবে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, যে কোন বিপর্যয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ডিএমজি-র সদস্যরা কাজ করেন, এটা সবারই জানা। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। ওঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কুয়োটি খুবই সরু ছিল। তাতে সমস্যা হচ্ছিল। তার উপর ছিল আলোর অভাব। এ জাতীয় উদ্ধারকার্যের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) অনুযায়ী, সন্ধের পর পর্যাপ্ত আলোর অভাবে উদ্ধারকার্য সাময়িক স্থগিত রাখতে হয়। নাহলে আরও প্রাণহানি হতে পারত। বিশ্বের সর্বত্রই বিপর্যয় মোকাবিলার সময় উদ্ধারকারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা হয় SOP অনুযায়ী। সব অপারেশন সফল হয় না। এ ক্ষেত্রে যুবকটিকে জীবিত অবস্থায় তুলে আনা যায়নি বলে তারা মর্মাহত। কিন্তু চেষ্টায় কোন ত্রুটি ছিল না, সেটা সবাই দেখেছেন।

মেঘনাদ নামের যে স্থানীয় এবং অভিজ্ঞ পাতকুয়ো মিস্ত্রি যুবকের দেহ তুলে আনেন কুয়ো থেকে, তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে নিয়োগ করার কথা ভাবা হয়েছে। কলকাতাবাসীর প্রতি পুলিশের আশ্বাসবাণী, ‘শহরের নাগরিকদের পাশে আছি আমরা, যেমন থাকি সারা বছর। ভুলভ্রান্তি-ব্যর্থতা আমাদেরও হয়, অন্য যে কোনও পেশার মতোই। কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা থাকে, এবং থাকবে যে কোনও সমস্যায় মানুষের পাশে থাকার।’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.