সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দোতলা ঘরটির সব কামরার দরজাই তালা দিয়ে আটকানো। বন্ধ সদর। উপরের তলায় এসি আছে। কিন্তু তাঁর জন্য বরাদ্দ একতলার একটা চিলতে ঘর। প্রায় গুদাম বা স্টোররুমই বলা যায়। সংলগ্ন বাথরুমও অপরিসর ও নোংরা। সেখানেই কার্যত তিনদিন বন্দি হয়ে আছেন ৯৬ বছর বয়সি সবিতা নাগ। কী করবেন? বাইরে থেকে তাঁকে তালাবন্ধ করে যে আন্দামান ভ্রমণে বেরিয়েছে তাঁরই ছেলে!
[ নগ্ন ছবিতে চেনা মহিলাদের মুখ, জগাছায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত ]
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা আনন্দপুরের চৌবাগা এলাকার। ঘরের মধ্যেই বন্দি ছিলেন নবতিপর বৃদ্ধা। রবিবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়। শুনতে পায় ‘উদ্ধার করো’ রবে কাতর চিৎকার। তারপরই সচকিত হয় পাড়া। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশাল বাড়িটায় ওই মহিলা ছাড়া আর কেউই নেই। কোথায় গিয়েছে বাকিরা? উত্তরে জানা যায়, দিন তিনেক আগে ছেলে সপরিবারে গিয়েছে আন্দামান ভ্রমণে। তাঁকে রেখে গিয়েছে তালাবন্দি করে। সদর দরজাও বন্ধ। একজনকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল। তিনিই এসে দুপুরে খাবার দিয়ে যেতেন। কখনও তালা খুলতেন। কখনও আবার বাইরে থেকেই খাবার দিয়ে সারা। এইভাবেই চলছিল। কিন্তু শেষমেশ এই দমবন্ধ করা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সবিতা দেবী।
[ কাশ্মীরে ‘আজাদি’র দাবি তুলে বীরদের অপমান করেছে কংগ্রেস: মোদি ]
জানা যাচ্ছে, বিকাশ নাগ নামে ওই ব্যক্তি ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্মী। ঘরে বিলাসের কোনও অভাব নেই। দোতলায় বৈভবের চিহ্নস্বরূপ বেরিয়ে আছে এসি-র ভেন্টিলেটর। তাঁর আর এক ভাই মদন নাগ। বোনও আছে। কিন্তু তাঁরা এখানে থাকেন না। পালা করে মাকে দেখার কথা ছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, সবিতা দেবীর থেকে জমিজমা নিজের নামে লিখিয়ে নেন বিকাশ। তারপর মাকে নিজের কাছেই রাখতে মনস্থ করেন। কিন্তু মায়ের জন্য বিলাসের সব দরজা বন্ধ করে দেন। রীতিমতো অমানবিক হয়েই মাকে বন্দি করে রেখে সপরিবারে পাড়ি দেন আন্দামানে।
[ দোরগোড়ায় নোটবন্দির বর্ষপূর্তি, বাতিল নোট নিয়ে এখনও নাজেহাল RBI ]
রবিবার সকালে প্রতিবেশীরাই বৃদ্ধার করুণ অবস্থার কথা জানতে পারেন। খবর যায় পুলিশে। পাঁচিল টপকে পুলিশ ও প্রতিবেশীরা এসে সবিতা দেবীকে উদ্ধার করেন। নবতিপর বৃদ্ধা জানাচ্ছেন, এর আগেও ঘরের বাইরে বেরনো নিয়ে অশান্তি করতেন ছেলে। সামনের দোকানে বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে রীতিমতো চমকে ধমকে শাসনে রাখতেন। বেড়াতে যাওয়ার সময়ও তিনি যাতে বাইরে না বেরতে পারেন সে জন্যই বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে রেখে গিয়েছিলেন। খাবার বলতে শুধু কয়েকটা বিস্কুট। ফুরিয়ে এসেছিল জলও। শেষমেশ প্রতিবেশীরা গিয়ে আজ সকালে জল দিতে তবে সুস্থ বোধ করেন সবিতা দেবী। সভ্য সমাজের এই বর্বরোচিত আচরণ আবারও যেন প্রশ্ন তুলে দিল মানবিকতা নিয়ে।
সর্বশেষ খবর
-
হাসপাতালে রোগীকে পরপর লাথি! ভিডিও ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী
-
বর্ষায় বেহাল রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স দূর, হাঁটাই দুষ্কর! রোগীকে চটের বস্তায় ঝুলিয়ে হাসপাতালে পরিবার
-
সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা, জোর করে আনা হত লোক! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি
-
টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে অস্থায়ী কমিটি পাপিয়ার, ‘কনফেডারেশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই’, জানালেন শমীক
-
শেষ ষোলোয় উঠে মাঠেই নৌকো বাইলেন হালান্ডরা, ভাইকিং রো’র নেপথ্যে লুকিয়ে কোন ইতিহাস?