১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

খাচ্ছি-দাচ্ছি দিব্যি আছি, বললেন সুদীপ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 5, 2017 9:59 am|    Updated: January 5, 2017 9:59 am

Special CBI court sends TMC MP Sudip Bandyopadhyay to six day CBI remand

তরুণকান্তি দাস, ভুবনেশ্বর: এই ঘরটায় দুটো খাট পাতা৷ সিঙ্গল বেড৷ জোড়া লাগালে ডবল৷ সাফসুতরো করা পর্দা৷ আসবাব আহামরি না হলেও নিত্য চাহিদা মিটে যায়৷ গদি আঁটা বিছানায় বসে সকালে লাল চায়ে চুমুক দিয়ে একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে চোখ বোলাচ্ছিলেন তিনি৷ সেটি রেখেই আরেকটি কাগজ হাতে তুলে নিয়ে চোখ রেখেই হেসে ফেললেন তিনি৷ এ ভাষা তাঁর বোধগম্য নয়৷ হোক না তিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা এ তারই প্রতিবেশী রাজ্যের ভরকেন্দ্র ভুবনেশ্বর৷ সেই কাগজের হরফ তাঁকে যেন আরও বেশি করে চোখে আঙুল দিয়ে উস্কে দিল সবকিছু৷ তিনি বন্দি৷ সিবিআইয়ের অতিথিশালায় মঙ্গলবার মধ্যরাতেই ঠাঁই হয়েছে তাঁর৷ ভুবনেশ্বরে৷

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতা৷ যাঁকে তাঁর ঘনিষ্ঠরাও বিশেষ রাগতে দেখেননি কখনও৷ যিনি দলের বড় অংশের কাছে ক্যাপ্টেন কুল, তিনি সিবিআইয়ের হাতে আটক হওয়ার পরেও সেই ঠান্ডা মাথার চরিত্র৷ সকালে ফ্রেশ হয়ে গুছিয়ে এক কাপ চা খেলেন৷ তাঁকে কলকাতা থেকে উড়িয়ে যখন ভুবনেশ্বর আনলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা, তখন সেখানে হামলে পড়েছিল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম৷ মুখে হাসি ঝুলিয়ে তিনি বলেছিলেন, “সংসদে বেশি সরব হওয়ার শাস্তি৷ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই৷”

সকালে পরখ করতে চেয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমগুলিতে কী লেখে৷ কী বলে৷ সেই কারণেই চায়ে চুমুকের মাঝে সংবাদপত্রে চোখ৷ যদিও এ তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাসও বটে৷ যে অভ্যাস সামান্য হোঁচট খেল বুধবার৷ যখন ওড়িয়া সংবাদপত্র হাতে পেলেন তিনি৷ এরইমধ্যে সিবিআইয়ের চিকিৎসক এসে হাজির৷ চেক-আপ হল৷ সমস্ত ওষুধপত্র যা তাঁকে নিতে হয়, সেইসব তালিকা তুলে দিলেন তিনি৷ লম্বা লিস্ট৷ সিবিআইয়ের চিকিৎসকও সেগুলি নোট করে দিলেন তাঁর প্রেসক্রিপশনে৷ আদালতে পৌঁছে নিজেই বললেন, “ওদের চিকিৎসক তো দেখল আমার শরীর খারাপ৷ ওষুধ নিতে হয়৷ তবে আমি ঠিক আছি৷ ভাল আছি৷”

কলকাতা থেকে তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুগামী ছিলেন আদালতে৷ তাঁদের ডেকে মজা করলেন৷ “আচ্ছা এই যে সংবাদমাধ্যম সব বলছে আমায় টানা জেরা চলছে, কোথায় কী? খাচ্ছি-দাচ্ছি, দিব্যি আছি৷ যে যা খুশি বলছে৷ একজন বললেন, “দাদা তাপস পালের সঙ্গে দেখা হয়েছে?” ফের হেসে ফেললেন৷ “কোথায় তাপস, কোথায় আমি৷ না না৷ দেখা হবে কেন?” সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা জানান, “বুধবার কোনও জেরা হয়নি৷ তাপস পালের সঙ্গেও দেখা হওয়ার কথা নয়৷ দু’জন আলাদা ঘরে রয়েছেন৷”

গতকাল তিনটে নাগাদ সুদীপবাবুকে আদালতে পেশ করা হয়৷ তার আগে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সিবিআই অফিসের সামনে৷ সেই ঢেউ বিকেলে আছড়ে পড়েছে খুরদা আদালতেও৷ দুপুর নাগাদ রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি সিবিআই অফিসে যান৷ বাইরে থেকে দেখে আসেন সুদীপবাবুকে৷ অখিলবাবু বলেন, “ সিবিআই হেফাজতে দাদার কোনও বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না৷” সুদীপবাবু আদালতে তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে নিজেই শলাপরামর্শ করে বলে দেন, সওয়ালে কী বলতে হবে৷ পাঞ্জাবির উপর জওহর কোট এবং স্নিকার৷ তখনও শুনানি শুরু হয়নি৷ চেয়ারে বসে স্বগতোক্তি করলেন, “কাল রাত দুটো নাগাদ গেলাম৷ ঘুমই হল না৷ সকালে সামান্য তন্দ্রা৷ ব্যস৷ রাজনীতি করি৷ অভ্যাস আছে৷” বলেই সেই হাসি৷ আলতো৷ ব্র্যান্ড সুদীপ৷ যাঁকে বিশেষ আদালত ৬ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বুধবার৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে