মলয় কুণ্ডু: খাদ্য ও পানীয়ে ভেজাল রুখতে আরও কড়া নজরদারি চালাবে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে সঠিক খাদ্যাভাস গড়ে তোলার জন্য জোর দেওয়া হবে সচেতনতা প্রচারেও। এর জন্য প্রতিটি জেলায় খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা, ভ্রাম্যমান পরীক্ষাগারগুলোকে বেশি করে কাজে লাগানো-সহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বাধীন ‘স্টেট লেভেল অ্যাডভাইজারি কমিটি অন ফুড সেফটি’-র বৈঠক হয়। রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রীয় সংস্থাও বৈঠকে ছিল। গুণমান সম্বলিত খাদ্যের ক্ষেত্রে এ রাজ্য এখন দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। রাজ্য সরকার চায়, এ ক্ষেত্রেও রাজ্যকে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে। তার জন্য কি কি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, এদিন বৈঠকে তার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
নবান্ন সূত্রে খবর, এর জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মূলত দু’টি বিষয় রয়েছে, প্রথমত কড়া নজরদারি। যাতে খাবার ও পানীয়ের গুণমানে কোনওরকম আপস করা না হয়। এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। নজরদারির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পরিকাঠামো পুরোদমে ব্যবহার করবে রাজ্য সরকার। খাবার ও পানীয় পরীক্ষা করার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সার্বিক করে তুলতে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোকে আরও গতিশীল করা হবে। রাজ্যের হাতে ল্যাবরেটরি অন হুইল বা ভ্রাম্য্যমান পরীক্ষাগার রয়েছে প্রায় ৩০টি। সেগুলো রাস্তায় নেমে পরীক্ষা চালাবে।
এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশাপাশি প্রাণী সম্পদ বিকাশ, জনস্বাস্থ্য কারগরির মতো দপ্তরগুলোর নিজস্ব পরীক্ষাগারও ব্যবহার করা হবে। জেলায় জেলায় সেই পরীক্ষাগারে খাবার ও পানীয়ের পরীক্ষা করা হবে। খাদ্যের গুণগত মান যেমন বজায় রাখা কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে, তেমনই পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস যাতে শরীরে কোনও সমস্যা তৈরি না করে, তার জন্য সচেতনতা প্রচারেও জোর দেওয়া হবে। এছাড়াও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিয়ে চলবে প্রচার। অনলাইনে খাবার, ক্লাউড কিচেনের মতো ব্যবস্থায় কিভাবে খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হবে, তাও থাকবে প্রচারে।
খাদ্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স ও একাধিক ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক সহজ হয়েছে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ চালু করায়। আরও যাতে সহজে ব্যবসায়ীরা তা পেতে পারেন, তা দেখা হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ‘এফএসএসএআই’-এর প্রতিনিধিরাও এদিন বৈঠকে ছিলেন। ‘এফএসএসএআই’-এর পূর্বাঞ্চলীয় দপ্তরও রয়েছে কলকাতায়। এই সংস্থার সঙ্গে যাবতীয় সমন্বয় রেখেই কাজ হয়। আরও দ্রুত যাতে শংসাপত্র মেলে খাদ্য ও পানীয় সংক্রান্ত ব্যবসা করার ক্ষেত্রে, তা নিয়েও এদিন বৈঠকে একপ্রস্থ আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
দাঁড়িয়ে পুজো করছেন? বাস্তুর ভুলে রুষ্ট হতে পারেন ইষ্টদেবতা, জানুন শাস্ত্রের নিয়ম
-
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, কাটমানির দাবি! বাগনানে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ মহিলাদের
-
এবার অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা বিজিবির! রুখল বিএসএফ
-
লাথি খেয়ে কচুবনে, বাড়ি দখলের অভিযোগে এবার ডিম খেলেন জয়প্রকাশ
-
‘চুপ থাকব না শেষ দেখে ছাড়ব’, বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় স্বামী-শ্বশুরের জোড়া আইনি নোটিসকে চ্যালেঞ্জ সেলিনার