সাধারণ মানুষের কথা শুনতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সপ্তাহে একদিন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হয় দ্রুত সমস্যার সমাধানও। এবার সরকারি আধিকারিকদেরও শুনতে হবে মানুষের কথা। শুধু শুনলে হবে না! দ্রুত তা সমাধানও করতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই এবার খোদ সরকারি দপ্তরে বসবে ‘জনতার দরবার।’ ইতিমধ্যে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি আধিকারিকদের সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে। আর তা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন। শুধু শহরেই নয়, জেলাস্তর থেকে ব্লকস্তর পর্যন্ত বিভিন্ন দফতরের ফিল্ড-লেভেল অফিসারদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই সময়সীমা থাকছে। এক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে কোনও আগাম অনুমতি কিংবা অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন:
মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে কোনও সমস্যার হাল পেতে সাধারণ মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এজন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুটো দিন-সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই সময়সীমা থাকছে। এক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে কোনও আগাম অনুমতি কিংবা অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না। নির্দিষ্ট দিনে দপ্তরে গেলেই সরাসরি নিজের সমস্যার কথা আধিকারিককে জানানো যাবে। এই উদ্যোগে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও, পুরসভার কমিশনার, পুলিশ আধিকারিক-সহ বিভিন্ন দপ্তরের ফিল্ড-লেভেল অফিসারদের এই উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য যাতে আধিকারিকরা সময় দিতে পারেন, সে জন্য ওই সময়ে যতটা সম্ভব বৈঠক, সরকারি সফর বা অন্য কর্মসূচি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আধিকারিকদের ইমেল, মোবাইল নম্বরও দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এমন জায়গা এই তথ্য রাখতে হবে যাতে সবাই তা দেখতে পান। একইসঙ্গে সরকারি ওয়েবসাইটেও এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি কোন দপ্তরের কোন দিন এবং কখন আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন, তা নোটিস দিয়ে আগাম জানাতে হবে বলেও নবান্নের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ শুনে যে দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে তা কখনই নয়! তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হল, তারও হিসাব রাখতে হবে আধিকারিকদের। এজন্য ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালে অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপ নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং অগ্রগতির বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগে অনলাইন পরিষেবার পাশাপাশি সরাসরি আধিকারিকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থায় এখনও স্বচ্ছন্দ নন, এমন সাধারণ মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, অভিযোগের নিষ্পত্তি কতটা এগোল—সবটাই নিয়মিত নজরে রাখবে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর আদলে এবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছনোর বদলে তাঁদের জন্য সরকারি দপ্তরের দরজাই খুলে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?
-
হাওড়া স্টেশনে আকাশি রঙের ট্রলি দেখেই চিৎকার স্নিফার ডগ ‘মার্কো’র! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ
-
ভোটকোশীতে চোখের সামনে মৃত্যু! চালকের বুদ্ধিতে বেঁচে বাড়ি ফিরলেন সিউড়ির সন্দীপরা
-
পৃথিবীর বাইরেও আছে প্রাণের অস্তিত্ব! রহস্য উন্মোচনে মহাশূন্যে পাড়ি নাসার টেলিস্কোপের