এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নজরে বামেদের মার্কসীয় সাহিত্য পত্রিকার স্টল। সনাতন ধর্ম এবং গেরুয়ার বিরোধিতা করলে আগামী দিনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বামেরা পুজোর সময় মণ্ডপের বাইরে যে বইয়ের স্টল দেন, সেটির অনুমতি পেতেও এবার সনাতন সংস্কৃতি মেনে স্টলের বাইরে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটি।
পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন, “একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করতেন। সমস্ত দুর্গাপূজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেবেন না।”
আরও পড়ুন:
আসলে বঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনে দুর্গাপুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডি থেকে বের করে সার্বিকভাবে বাঙালির ‘উৎসবে’ পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকী, বামেরা নিজেদের পত্রপত্রিকায় দুর্গাপুজো শব্দটি ব্যবহার না করে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করা শুরু হয়ে। বঙ্গে পালাবদলের পর সেই শারদোৎসব লেখা নিয়ে প্রবল আপত্তি শুরু করেছে শাসকদল। আগেই দিলীপ ঘোষ-সহ একাধিক মন্ত্রী ‘শারদোৎসব’ লেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামেদের সেই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন। পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন, “একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করতেন। সমস্ত দুর্গাপূজো কমিটির কাছে আবেদন করব কমিউনিস্টরা যে বুকস্টল করেন, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে স্টল করতে দেবেন না।” অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী সাফ বার্তা, পুজোয় বইয়ের স্টল দিতে হলে, মানতে হবে দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়। বরং হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
এমনিতে তথাকথিত বামপন্থীরা ধর্ম মানেন না। সরাসরি দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকে না লালপার্টি। কিন্তু পুজোর ভিড়ে জনসংযোগের সুযোগও ছাড়ে না বামেরা। বাম জমানার ৩৪ বছরে পুরো মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল দেওয়ার সংস্কৃতির বিস্তর চাষবাস হয়েছিল। লাল শালুতে মোড়া মার্কসবাদী সাহিত্যের স্টল পুজোর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ত। পুজো যত বড় হত, সিপিএমের স্টলও তত বড় হত। সরাসরি পুজো মণ্ডপের ভিতরে গিয়ে বসার ক্ষেত্রে লোকাল কমিটির নেতাদের কুণ্ঠা থাকত। পার্টির নিষেধাজ্ঞাও ছিল। বইয়ের স্টলই ছিল ভরসা। ২০১১-এর পর ছবিটা বদলেছে। অধিকাংশ মণ্ডপের বাইরে আর সেই লাল শালুতে মোড়া চিরাচরিত সিপিএমের বইয়ের স্টল খুঁজে পাওয়া যায় না। অল্প কয়েকটি বাছাই করা জায়গায় এখনও স্টল দেওয়া হয়।
১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে প্রথম পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়া হয়েছিল। পার্ক সার্কাসে স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য এখনও সিপিএম নেতারা ধরে রেখেছেন। এখনও ওই স্টলগুলিতে বিভিন্ন মার্কসীয় সাহিত্য পত্রিকা, বই বিক্রি করা হয়। উদ্দেশ্য, সাহিত্যের আড়ালে নিজেদের আদর্শ প্রচার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, বই বিক্রিতে আপত্তি নেই। কিন্তু আগে মানতে হবে ধর্মীয় উৎসবেই বই বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
মমতার জোটের ডাক উপেক্ষা! উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি