কৃষ্ণকুমার দাস: রাজারহাট নিউটাউনের ইকো পার্ক, কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে উপড়ানো গাছের একটা বড় অংশই পুনরায় ওই উদ্যানেই দ্রুত বসিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত গাছ পাঁচ বছরের কম বয়সি এবং খুব দীর্ঘ নয় তাদের বর্ষার আগেই ‘রিপ্ল্যান্টেশন’ সম্পূর্ণ হবে। শহরের সবুজ অরণ্য বাঁচিয়ে রাখতে বিষয়টি নিয়ে উদ্ভিদবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিল কলকাতা পুরসভা। আলোচনা সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন কেএমডিএ ও হিডকো কর্তারা।
পরীক্ষামূলকভাবে এদিন রবীন্দ্র সরোবর লাগোয়া যতীন দাস পার্কে একটি হেলে পড়া বড় গাছ টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে তুলে অন্যত্র পুনঃস্থাপনের কাজ হয়েছে। ইকো পার্ক ও রবীন্দ্র সরোবরে এই ক্রেন দিয়েই উপড়ানো গাছ তুলে বসানো হবে। শহরের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য জানিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার বড় রাস্তায় পরিসর ও মাটির গুণমানের কারণে রিপ্ল্যান্টেশন সামান্য অসুবিধা হয়। কিন্তু ইকো পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে যত গাছ উপড়ে গিয়েছে সেগুলির অধিকাংশই ফের বসিয়ে দেওয়া হবে। উপড়ানো দামি গাছগুলি আগে ‘রিপ্ল্যান্টেশন’ হবে।” তবে এক শ্রেণীর পরিবেশপ্রেমীদের আবেদনের জেরে আদালতের রায়ে ইট দিয়ে বাধাই করা শহরের গাছের গুঁড়ি খুলে দিতে হয়। বস্তুত সেই কারণে অনেক গাছ বেশি পড়েছে বলে মনে করছে পুরসভা।
[ আরও পড়ুন: ‘এটা সংবাদমাধ্যমে বড় বড় কথা বলার সময় নয়’, মুখ্যমন্ত্রীকে ফের খোঁচা রাজ্যপালের ]
রাস্তায় উপড়ে বা ভেঙে পড়া বড় বড় গাছগুলি দ্রুত কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণের রবীন্দ্র সরোবর বা উত্তরের সুভাষ সরোবর অথবা ইকো পার্কে এখনও হাত দেয়নি রাজ্য সরকার। সবুজ সৌন্দর্যের অমরাবতী ইকো পার্কেও আমফানের তাণ্ডবে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় হাজার দু’য়েক গাছ হয় উপড়ে গিয়েছে, নয়তো ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছেন হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন। পুরমন্ত্রী জানান, “এবার ইকো পার্কে রিপ্ল্যান্টেশন করায় জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন গাছও লাগানো হবে।”
কেএমডিএ’র অফিসাররা উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গত তিন দিনে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবর পরিদর্শন করেছেন। শুধু ঢাকুরিয়া লেকের ভিতরেই প্রায় দুশো বড় গাছ হয় ভেঙে নয়তো উপড়ে গিয়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়েছে কেএমডিএ’র চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রীর কাছে। সবুজ সংকেত মিলতেই রিপ্ল্যান্টেশন কর্মসূচি শুরু করেছেন কেএমডিএ আধিকারিকরা। কলকাতার বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানেও প্রচুর পরিমাণে রিপ্ল্যান্টেশন হবে। বিষয়টি নিয়ে পুরভবনে পুরসভারই নিজস্ব ১৬ জন উদ্ভিদবিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রশাসক দেবাশিস কুমার।
[ আরও পড়ুন: লকডাউনের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কলকাতা! শর্তসাপেক্ষে শুরু অটো পরিষেবা ]
সর্বশেষ খবর
-
‘ভারত থেকে অনেক কামাচ্ছি’, নতুন শুল্ক ঘোষণার পরই ‘প্রিয় বন্ধু’ মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প
-
‘উচ্চতর মেধাকে নিম্ন পদে নয়’, উচ্চশিক্ষা গোপন করা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
-
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূলের সাংসদ ভাঙন? জল্পনায় আরও চাপে কালীঘাট!
-
‘সিনেমাতেই মনোযোগ দিতে চাই’, ‘ফুলপিসি’তে বিনির চরিত্রে প্রশংসিত হতেই ভবিষ্যৎ ভাবনা শ্যামৌপ্তির
-
৫ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন