সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাহাড়ে গুরুংপন্থীদের গুলিতে শহিদ এসআই অমিতাভ মালিকের শরীরে বুলেটের ক্ষত এখনও দগদগে। এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় রাজনীতির রং চড়াতে আসরে বিরোধীরা। কিছুদিন আগেই পাহাড়ে গোর্খাদের হাতে নিগৃহীত হতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। বেধড়ক মার খেতে হয়েছিল তাঁর অনুগামীদের। এবার এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুললেন সেই দিলীপ। পাশাপাশি, পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বিমল গুরুংকে দেশদ্রোহী বানানোর চেষ্টা চলছে বলে নয়া ধুয়ো তোলেন তিনি।
পাহাড়ে গ্রেপ্তার গুরুংপন্থী নেতা দীপক তামাং, উদ্ধার বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার
শনিবার সল্টলেকে বসে বিজেপির বর্ধিত রাজ্য কার্যকারিণী সমিতির বৈঠক। সেই বৈঠকে গিয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি তোপ দেগে বলেন, অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর জন্য শাসকদলের পাহাড় দখলের রাজনীতি দায়ী। দিলীপের দাবি, পাহাড়ে বিনয় তামাংকে মুখ করে পাহাড় দখলের রাজনীতি করছে তৃণমূল কংগ্রেস। গুরুংকে দেশদ্রোহী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গুরুংকে বাদ দিয়ে পাহাড় সমস্যা মিটবে না।’ তাঁর মতে, পাহাড়ের মানুষ গুরুংয়ের পক্ষেই। তার মানে প্রকারন্তরে গুরুংকে হিরো বানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। অথচ কিছুদিন আগে এই পাহাড়েই নিগৃহীত হতে হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। আজ তিনিই আবার গুরুংকে সার্টিফিকেট দিলেন। তবে কী পাহাড়ে গুরুংয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদ আন্দোলনকে সমর্থন করছে বিজেপি? এমনটাই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। দিলীপের আরও দাবি, পাহাড়ে এত অস্ত্র উদ্ধারের পিছনে পুলিশের হাত রয়েছে। তবে কী মোর্চার গুরুংপন্থীদের সঙ্গে এই অস্ত্রর কোনও সম্পর্ক নেই বলতে চাইছেন বিজেপি সভাপতি। ইঙ্গিত কিন্তু সেইরকমই। শহিদ এসআই অমিতাভ মালিক অল্প প্রশিক্ষিত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ। পুলিশের অদূরদর্শিতার বলি হতে হয়েছে অমিতাভ মালিককে, এমনটাই জানিয়েছেন দিলীপ।
[ছোট ছেলেও ফৌজে যাবে, বলছেন গর্বিত শহিদের বাবা]
অন্যদিকে, দিলীপের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি পালটা বলেছেন, ভুল কথা বলছেন দিলীপ। পাহাড় নিয়ে ফের রাজনীতি করছেন। প্রসঙ্গত, এদিন পাহাড়ে একটি নেপালি ভাষায় লেখা নয়া পোস্টারকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কালিম্পংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নামে সেই পোস্টারে লেখা, ‘শান্তির পাহাড়কে কাশ্মীর বানাতে দেব না। গোর্খারা দেশভক্ত, তাতে যেন কলঙ্কের দাগ না লাগে। হিংসাকে আমরা সমর্থন করি না। আমাদের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ যেন খারাপ করা না হয়। পাহাড়ে বনধ হতে দেব না। জনতাকে দুঃখ পেতে দেব না। সুন্দর পাহাড় বানাতে হবে। গোর্খাল্যান্ড গণতান্ত্রিক দাবি। হিংসা নয়, গণতান্ত্রিক পথেই ওই দাবি আদায়ে আন্দোলন হবে।’ পাহাড়ে এই পোস্টারের নেপথ্যে বিনয় তামাংপন্থীদের হাত দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে অশান্তির মাত্রা বেড়ে যাওয়া তদুপরি পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় পাহাড়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা গোর্খাদের।

[বাংলাকে ভাগ হতে দেব না, সংকল্প ছিল শহিদ অমিতাভের]
সর্বশেষ খবর
-
হাসপাতালে রোগীকে পরপর লাথি! ভিডিও ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী
-
বর্ষায় বেহাল রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স দূর, হাঁটাই দুষ্কর! রোগীকে চটের বস্তায় ঝুলিয়ে হাসপাতালে পরিবার
-
সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা, জোর করে আনা হত লোক! অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের থানায় ববি
-
টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে অস্থায়ী কমিটি পাপিয়ার, ‘কনফেডারেশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই’, জানালেন শমীক
-
শেষ ষোলোয় উঠে মাঠেই নৌকো বাইলেন হালান্ডরা, ভাইকিং রো’র নেপথ্যে লুকিয়ে কোন ইতিহাস?