স্টাফ রিপোর্টার: ‘ডায়মন্ডহারবার মডেল’ নিয়ে চলতি বিতর্কে খানিকটা ইতি টেনে দিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। গত দু’দিন এনিয়ে বিবৃতির লড়াইয়ের পর শুক্রবার দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) টুইট করেন, “চ্যাপ্টার ক্লোজড।” দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) বলেন, “এবিষয়ে যে বা যারা বিবৃতি দিচ্ছেন, সকলকেই বলা হচ্ছে তা না করতে। কিছু বলার থাকলে দলে বলুন। দল বা সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়, এমন কোনও কাজ করা যাবে না।”
সূত্রের খবর, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) যেভাবে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সমালোচনা করেছেন, তার প্রেক্ষিতে উদ্ভুত বিতর্ক থামাতে হস্তক্ষেপ করেন স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলে দেন, এনিয়ে কোনও বিবৃতি চলবে না। এরপর কুণাল টুইট করেন, “চ্যাপ্টার ক্লোজড।” তারপর ফোনে কল্যাণ এবং কুণালের বিস্তারিত কথা হয়। এদিকে সকালেই কল্যাণের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি বলেন, “মুখ্য সচেতক হয়ে কল্যাণ কেন দলের সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করবেন? উনি ঘরশত্রু বিভীষণ। উনি ইস্তফা দিন।”
[আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে নিজের ইচ্ছা চাপাবেন না, রাজ্যপালকে আরজি শিক্ষামন্ত্রীর]
এরপর অপরূপাকে মেসেজ পাঠিয়ে লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কল্যাণের বিরুদ্ধে বলার জন্য তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অপরূপা সবটা জানান অভিষেককে। সূত্রের খবর, এরপর সুদীপের কাছে অভিষেক জানতে চান কল্যাণ যখন তাঁর বিরুদ্ধে বলছিলেন তখন সুদীপ নীরব ছিলেন কেন? এই প্রশ্নে বিড়ম্বনায় পড়ে যান সুদীপ। এদিকে পার্থবাবু সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোন করে করে বলেন যে নতুন করে কোনও বিবৃতি দেওয়া চলবে না। পাশাপাশি ক্রমশ সামনে আসতে থাকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ঠিক কী কী বলেছিলেন কল্যাণ। জানা যায়, ঘরোয়াভাবে কল্যাণ তখন শুধু অভিষেক নন, আইনজীবী সঞ্জয় বসুর বিরুদ্ধেও তোপ দেগে বলেন, আইন নিয়ে তাঁর কথা ইদানিং শোনা হচ্ছে না।
এদিকে একই সময়ে দিল্লির খবর, একাধিক সাংসদ আলোচনা করেন কল্যাণ ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর কাজ করছেন। এর বিহিত হওয়া দরকার। এপাশে শ্রীরামপুরের বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত রায় টুইটে অভিষেকের প্রতি সমর্থন জানান। বিকেলে আরেকপ্রস্থ কথা হয় কল্যাণ এবং কুণালের। ঠিক হয় ‘যুদ্ধবিরতি’ বহাল থাকবে। সন্ধেবেলা হঠাৎ দেখা যায় কল্যাণ ফেসবুক পোস্ট করে শ্রীজাতর ‘তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়’ লাইনগুলি লিখেছেন। কিছুক্ষণ পরেই কুণালের পোস্ট দেখা যায় শিরদাঁড়া নিয়ে আরেকটি কবিতা, যেখানে বলা হয়েছে হাড় থাকলেই তাকে শিরদাঁড়া বলা যায় না। কারুর পোস্টেই অবশ্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা ছিল না। এরপর নাকি দু’জনের আবার ফোনে কথা হয়। এদিকে সোশাল মিডিয়ায় কল্যাণের কিছু পুরনো অসংলগ্ন ভিডিও ভাইরাল হতে থাকে। তবে রাত দশটা পর্যন্ত খবর, বিষয়টি ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’ মোড়কেই আছে। বিবৃতির লড়াই নিয়ে কী করা যায় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবেচনা করছেন। যে সব যুবনেতা টুইট করছিলেন, তাঁদেরও বারণ করা হয়েছে এসব করতে। বস্তুত নেত্রী স্বয়ং হস্তক্ষেপ করাতেই শুক্রবার প্রকাশ্য কোনও বাগযুদ্ধ হয়নি। পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
[আরও পড়ুন: WB Civic Polls: পুরভোট ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পিছনো সম্ভব? কমিশনকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ হাই কোর্টের]
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ