সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট প্রায় ৩৩ শতাংশ। রাজনীতিবিদদের ভাষায় ‘কনসলিডেটেড ভোট ব্যাংক’ যা ‘ব্যক্তি নির্দেশে’ সঞ্চালিত হয়। ফলে ফুরফুরা শরিফ বঙ্গ রাজনীতিতে মক্কার সমগোত্রীয়। সেইমতো রাজনীতির নিয়ম মেনেই ক্ষমতায় এসে ইমাম ভাতা চালু করে তৃণমূল সরকার। তবে বাদ পড়েছিলেন ব্রাহ্মণরা। এদিকে, বাংলায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত কিছুটা আঁচ করতে পেরেই লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের আগের দিন পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সেই মতো সোমবার পুরোহিতদের হাতে ভাতা তুলে দিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷ কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্তর্গত শ্মশানগুলিতে যেসব পুরোহিতরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাই এই ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷
সোমবার এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ভাতা তুলে দেওয়া হয় ২৭ জন ব্রাহ্মণের হাতে। প্রত্যেককে ৯ হাজার ৫০০ টাকার চেক দেওয়া হয়। ফিরহাদ হাকিম বলেন, কলকাতার শ্মশানের অগ্রদানী ব্রাহ্মণদের হাতে ভাতা তুলে দিয়েছে পুরসভা। সোমবার পুরভবন থেকে ব্রাহ্মণদের হাতে চেক তুলে দেন মেয়র ফিরহাদ হকিম। কলকাতা মেয়র এই মর্মে বলেন, “রাজ্যে ধর্মের জিগির তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। তাঁদের সেই অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। আমরা মানবতার জন্য কাজ করি, তাই করে যাব।” সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে। প্রবল উত্থান হয়েছে বিজেপির। এক লাফে দুই থেকে বেড়ে, বাংলায় তাদের সাংসদ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। ফলে রাজ্যের শাসকদলের ঘাড়ে একপ্রকার নিঃশ্বাস ফেলছে গেরুয়া শিবির। বাম জমানার শেষের দিকের কথা মনে করিয়ে বাড়ছে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক। বিশ্লেষকদের মতে, বিভক্ত হিন্দুরা এখন ভোট ব্যাংক। বঙ্গে মোদি ম্যাজিক কাজ করেছে, তার উপর প্রভাব ফেলেছে অমিত শাহর মেরুকরণের তাস।
এদিকে, ক্ষমতার দ্বিতীয় ইনিংসে এসে ‘কাটমানি’ থেকে শুরু করে ‘দাদাগিরি’ তৃণমূলের উপর জনগণের বিশ্বাসকে দুর্বল করেছে। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘ভোট করানো’ নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। সবচেয়ে বড় কথা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘মুসলিম তোষণের’ জিগির বেশ ভালই তুলতে পেরেছে বিজেপি। ফলে, প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, এবার হিন্দুদের ‘পাইয়ে দিয়ে’ সেই তকমা ঘোঁচাতে মরিয়া শাসকদল। এদিন পুরোহিতদের হাতে ভাতা তুলে দিয়ে সেই ‘উন্নয়ন’ ও ‘অসাম্প্রদায়িক’ ভাবধারাই ফের তুলে ধরতে চেয়েছে শাসকদল।
[আরও পড়ুন: টেকনিশিয়ান স্টুডিও প্রাইভেট লিমিটেড সংশোধনী বিল আনছে রাজ্য সরকার]