BREAKING NEWS

০২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  বুধবার ১৮ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা খাচ্ছেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 18, 2016 1:42 pm|    Updated: September 6, 2019 6:02 pm

To keep themselves young, the workers are now consuming Asmagandha

গৌতম ব্রহ্ম: অশ্বগন্ধায় মজেছে সোনাগাছি! যৌনকর্মীদের একাংশ যৌবন ধরে রাখতে এই ভেষজকে পাখির চোখ করেছেন৷

যোগ্য সঙ্গত করছে আমলকী, জটামাংসি, ব্রাহ্মী, যষ্ঠীমধু, গুরুচির মতো ভেষজ৷ যৌনকর্মীদের একাংশের দাবি, এই ভেষজগুলি নিয়মিত খাওয়ার পর তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে৷ কমেছে সংক্রমণের প্রকোপ৷ তাছাড়া খদ্দেরদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আর বেদম হয়ে পড়ছেন না তাঁরা৷ বেড়েছে ঘোড়ার মতো শক্তি৷ ফলে ব্যবসাও কিছুটা হলে বেড়েছে৷

আগে নিষিদ্ধপল্লিতে ‘জিঙ্কো বাইলোবা’-র খুব চল ছিল৷ যৌনক্ষমতা বাড়াতে অনেক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক এখনও এই কোরিয়ান ঘাস প্রেসক্রাইব করেন৷ কিন্তু এই ওষুধের দাম অনেক৷ বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়৷ যৌনকর্মী মৌ দাস ও কিরন শর্মা (নাম পরিবর্তিত) জানিয়েছেন, “কন্ডোম ব্যবহারের ফলে যৌনরোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমেছে৷ কিন্তু চর্মরোগ সহ-অন্যান্য অনেক রোগের সম্ভাবনা বেড়েছে৷ তাছাড়া দেহব্যবসার ধরন বদলেছে৷ এখন আর শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে দেহব্যবসা আটকে নেই৷ যৌনকর্মীদের এখন হিন্দি গানের সঙ্গে টানা তিন-চার ঘণ্টা নাচতে হচ্ছে৷ খদ্দেরের বায়না মেটাতে এমন কিছু বিজাতীয় কাজ করতে হচ্ছে যাতে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে৷”

পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিট, গ্রে স্ট্রিট, গুলু ওস্তাগর লেনের যৌনকর্মীদের একাংশ আয়ুর্বেদের শরণাপন্ন হয়েছেন৷ সোনাগাছির গুলু ওস্তাগর লেনে রয়েছে বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত একটি দাতব্য চিকিৎসালয়৷ সেখানেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা বসছেন৷ বিনে পয়সায় ওষুধ দিচ্ছেন৷

প্রথমদিকে সেভাবে সাড়া মিলছিল না৷ যৌনকর্মীদের একাংশ ইচ্ছে না থাকলেও পয়সা বাঁচাতে যাচ্ছিলেন ওই চিকিৎসালয়ে৷ অনেকে নিজেদের পেশার কথা খুলে বলতেও পারছিলেন না৷ অবশেষে সঙ্কোচ ঝেড়ে নিজেদের সমস্যা ডাক্তারদের সামনে তুলে ধরতেই সাফল্য আসতে শুরু করল৷ ডাক্তাররাও বুঝলেন, যৌনকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার৷ বাড়ানো দরকার শারীরিক সক্ষমতা৷ রোগ প্রতিরোধ বাড়িয়ে ফেলতে পারলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷ জিঙ্কো বাইলোবা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না৷

বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. প্রদ্যোত্বিকাশ কর মহাপাত্র জানিয়েছেন, “পেট পরিষ্কার থাকলে, ঘুম ভাল হলে শরীর-মন চাঙ্গা থাকে৷ কিন্তু অত্যধিক ধকলের জন্য যৌনকর্মীদের এই দু’টোরই ঘাটতি হয়৷ তাই প্রথমে ‘ত্রিফলা’ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছিলাম৷ ত্রিফলা পেট পরিষ্কার করে৷ এরপর হরমোন ও উত্সেচকের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য জটামাংসী, ব্রাহ্মী, ষষ্ঠীমধু, গুরুচি দেওয়া হয়৷ সেই সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে দেওয়া হয় অশ্বগন্ধা৷ এতেই ‘ম্যাজিক’ হয়৷”

যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘দুর্বার’-এর অফিসেও একটি আয়ুর্বেদ ক্লিনিক খোলা হয়েছে৷ ‘দুর্বার’-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. স্মরজিৎ জানা জানিয়েছেন, “যৌনকর্মীদের ভাল থাকা নিয়ে কথা৷ আয়ুর্বেদ তো অনেক পুরনো চিকিৎসাশাস্ত্র৷ আমরাও খুলেছি একটি ক্লিনিক৷ দেখি কী হয়৷” সবথেকে বড় কথা, এই ভেষজগুলিতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে৷ ফলে সোনাগাছির আয়ুর্বেদ নির্ভরশীলতা ক্রমশ বাড়ছে৷ বাড়ছে মুগ্ধতা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে