অর্ণব আইচ: মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে একটি দেহ। লাশের পিঠে বিঁধে রয়েছে ছোরা। পাশে আধপোড়া সিগারেট। দেওয়ালে হালকা বাদামি ছোপ। তাই দেখে চলল চুলচেরা বিশ্লেষণ। গোয়েন্দার যুক্তির জালে ধরা পড়ল খুনি। রহস্যে গল্পে এমনটা আকছারই হয়। তবে বাস্তবেও গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড চোখ ছানাবড়া করার মতোই। প্রায় গল্পের মতোই, এক বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় বের করল পুলিশ। শুধু তাই নয়, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
[বাংলায় বামেদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত, সদস্য কমল ষাট হাজার]
১৮ এপ্রিল, বুধবার। গ্রীষ্মের দাপট কিছুটা এড়াতে গঙ্গার হরিপদ ঘাটের কাছে সাঁতার কাটছিল একদল যুবক। হঠাৎ তাদের নজরে পড়ে কিছু একটা ভেসে আসছে। কাছে যেতে দেখা গেল জলে ভাসছে একটি যুবকের মৃতদেহ। ঘটনায় মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায়। খবর দেওয়া হয় উত্তর বন্দর থানায়। ঘটনস্থলে পৌঁছে দেহ নিয়ে যায় পুলিশ। দেহের তল্লাশি চালিয়ে পরিচয় জানার মতো কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে পকেট হাতড়ে উদ্ধার হয় একটি সিম কার্ড। কিছুটা আশার আলো দেখতে পান তদন্তকারীরা। জলে ভেজা সিমটিকে শুকিয়ে একটি মোবাইলে ঢোকান গোয়েন্দারা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেজে উঠে ফোনটি। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন মৃতের নাম সৌরভ বাকুলি। বয়স ২১। বাড়ি এয়ারপোর্ট থানা এলাকার থলুয়া মণ্ডল পাড়ায়। ওই এলাকায় একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে তাঁর বাবার।
মৃতের পরিচয় উদ্ধারের পর এয়ারপোর্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বন্দর থানার অফিসাররা। জানা যায়, এপ্রিলের ১৫ তারিখ থেকে নিখোঁজ ছিলেন সৌরভ। ১৬ তারিখ এয়ারপোর্ট থানায় মিসিং ডায়েরি করে সৌরভের পরিবার। দুইয়ে-দুইয়ে চার করে ফেলেন তদন্তকারীরা। শুরু হয় সূত্রের খোঁজ। হত্যা না আত্মহত্যা? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর তখনই বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রকাশ্যে আসে একটি ‘জাদু আংটি’র কথা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, সদ্য বিয়ে ঠিক হয়েছিল সৌরভের। তবে এতে মোটেই খুশি হয়নি সে। কানাঘুষোয় জানা যায়, গোপন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। উপায় না পেয়ে জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হতে হয়েছিল তাঁকে। সৌরভ নিখোঁজ হওয়ার পর ওই জ্যোতিষীই নাকি বাড়ি এসে একটি ‘জাদু আংটি’ দিয়ে যান। এটাই নাকি সৌরভের সমস্যার সমাধান। তারপর বকেয়া টাকা দাবি করেন তিনি। তিনি জানান আংটি বানানোর বায়না করে সৌরভ নাকি আর তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত ওই জ্যোতিষীকে এয়ারপোর্ট থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রহস্যজনক মৃত্যুর সঙ্গে ওই জ্যোতিষীর কোনও যোগ রয়েছে। মৃতের কললিস্ট খতিয়ে দেখেছেন গোয়েন্দারা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও মজুত সূত্রে শীঘ্রই রহস্যের জট কাটবে বলেই ভরসা তদন্তকারীদের।
[মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ, যুবককে কুপিয়ে খুন করল ছেলে]
সর্বশেষ খবর
-
এখনও মেলেনি প্রতীক, নির্দল হিসাবেই নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে লড়ার প্রস্তুতি ‘ঋত’ তৃণমূলের
-
প্লাস্টিক, পুজোর ফুলে প্রাণের সঞ্চার! কলকাতার এই পুজোয় মেলবন্ধন ঘটবে মানব-পরিবেশের
-
বুকে নিখোঁজ মেয়ের ছবি, খোঁজ পেতে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে সিউড়ির অসহায় বাবা-মা
-
এক ছাদের তলায় বাসস্ট্যান্ড-পার্কিং জোন-মাল্টিপ্লেক্স! হাওড়ায় বিশ্বমানের বাস টার্মিনাসের পরিকল্পনা রাজ্যের
-
নড়তেই দেননি মনবীরদের, ডার্বি মাতানো তরুণ ডিফেন্ডারকে সিনিয়র দলে ডাকতে পারেন হাবাস