দীপংকর মণ্ডল: রাজ্যে স্কুল শিক্ষকদের সমস্ত ধরনের বদলি স্থগিত হয়ে গেল। শুক্রবার সরকারিভাবে একথা ঘোষণা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে গুলিতে দুই ছাত্রর মৃত্যু ও তার পরবর্তী অধ্যায়ে উত্তেজনার জেরেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
[প্রেসিডেন্সি হস্টেল বিতর্কে হস্তক্ষেপ রাজ্যের, কর্তৃপক্ষকে বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা]
ইসলামপুরের দাড়িভিট স্কুলে উর্দু ও সংস্কৃতের শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলন হয়। ওই দুই বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিকস্তরে কোনও শূন্য পদ ছিল না বলে পরে জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে জেলা স্কুল পরিদর্শককে সাসপেন্ডও করেছে সরকার। ২০ সেপ্টেম্বর দুই শিক্ষক কাজে যোগ দিতে যান। ছাত্রছাত্রীরা বাধা দেয়। প্রচুর পুলিশ যায়। এসবের মাঝে গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন নামে দাড়িভিটের দুই প্রাক্তন ছাত্র। সেদিনের পর শুক্রবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ। দফায় দফায় রাজনৈতিক নেতারা গিয়েও পরিস্থতি শান্ত করতে পারেনি। এলাকা এখনও অশান্ত। ঘটনার জের গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য জুড়ে নানা অভিযোগ আছে। শিক্ষকদের অসন্তোষে নতুন করে কোনও বিতর্ক চাইছে না সরকার।
[মমতার ব্রিগেডে আমন্ত্রণ সিপিএমকেও, ডাকা হচ্ছে রাহুল-সোনিয়াকে]
বদলি স্থগিত রাখার যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে তা স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কারও স্বাক্ষর নেই। কোনও মেমো নম্বর বা তারিখ উল্লেখ করেনি দপ্তর। সাধারণ, আপস এবং বিশেষ বদলির জন্য হাজার হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের প্রশ্ন, কেন এমন হল? সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দপ্তরের আধিকারকিরাও এর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, রাজ্যজুড়ে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে তারমধ্যে বদলি প্রক্রিয়া চললে সমস্যা। কোনও নির্দিষ্ট স্কুলে শূন্যপদের নিরিখে নতুন শিক্ষক পাঠাচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকরা দেখছেন অন্য স্কুল থেকে সেই পদে ইতিমধ্যে কেউ বদলি নিয়ে চলে এসেছেন। বদলির মাধ্যমে শূন্যপদ ভরে যাওয়ার খবর সবসময় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের কাছে আসছে না। এখানেই বিপত্তি বাধছে। এই কারনে মাধ্যমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকস্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ প্রসঙ্গে বলেন, “এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক বদলি স্থগিত রাখা ছাড়া সরকারের কোনও পথ নেই। শিক্ষক বদলিতে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।”
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ