১২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

বাগুইআটিতে বার ড্যান্সারের রহস্যমৃত্যু, ধন্দে পুলিশ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 15, 2016 3:50 pm|    Updated: September 15, 2016 3:52 pm

Unnatural death of a Bar dancer, mystery 

স্টাফ রিপোর্টার: মধ্যরাতে ফোনটা বেজে উঠতেই ধরলেন থানার ডিউটি অফিসার৷ এক নারীর মাদকাসক্ত গলা, “আমি মরতে যাচ্ছি৷” বুধবার রাতে এমন ফোনে চমকে উঠেছিলেন অফিসার৷ বলে কী? রাতের রসিকতা? না কি সত্যি কারও জীবন সম্পর্কে সমস্ত আগ্রহ শেষ! তাই নিজেকে শেষ করে ফেলার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত৷ তাও পুলিশকে জানিয়ে৷ যাই হোক, কোনও ঢিলেমি না দেখিয়ে পুলিশ জিপ ছুটল ফোনে জানানো সেই ঠিকানায়৷ বন্ধ দরজা৷ কোনও সাড়াশব্দ নেই৷ শেষে ভিতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই দেখা গেল গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন এক যুবতী৷ তিনি পেশায় বার ড্যান্সার৷ প্রাথমিক পরীক্ষায় অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার বুঝলেন, সব শেষ৷ এবং এবারও ঘটনাস্থল সেই বাগুইআটি এলাকা৷ যত কাণ্ড সেই ভিআইপি রোডের লাগোয়া এলাকায়৷

ওই বার ড্যান্সারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিমানবন্দরের অদূরে তেঘরিয়ায়৷ নিজের ঘরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ মিললেও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ খুনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না৷ এখানকার শীতলাতলায় একটি ভাড়াবাড়িতে আর এক ড্যান্সার যুবতীর সঙ্গে থাকতেন বছর পঁচিশের মামণি গায়েন৷ রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ বাড়িতে মিলেছে বেশ কিছু মদের বোতল৷ কোনওটা খালি, কোনওটা ভরা৷ একটি বোতলে আবার কিছুটা মদ ছিল৷ এর থেকে পুলিশের ধারণা, রাতে সেখানে এক বা একাধিক লোক হয়তো ছিল৷ প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, নিত্যনতুন মুখের আনাগোনা লেগেই থাকত ওই বাড়িতে৷ তবে গতকাল রাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি তাঁরা৷ রাতে পানশালায় নাচ ও গানের অনুষ্ঠান সেরে ফিরতেন মামণি৷ তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যেত গাড়ি৷ কোনওদিন সঙ্গে থাকতেন আরও এক যুবতী৷ কখনও একাই ফিরতেন৷ পৃথকভাবে ফিরতেন তাঁর রুমমেট৷ তবে এদিন সেই রুমমেট বার থেকে নাচের অনুষ্ঠান সেরে ফেরার আগেই ঘটনাটি ঘটে যায়৷ পুলিশ এখন সংশ্লিষ্ট বারের মালিক ও মামণির সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছে কাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল৷ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই যুবতীর৷ সেই সম্পর্কে ইদানীং চিড় ধরেছিল৷ তাই হতাশা চেপে বসেছিল৷ তবে ওই যুবকের ঠিকানা এখনও পাননি তদন্তকারীরা৷

বাগুইআটি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত একের পর এক পানশালা ঘিরে রোজ যেন ঘটনার ঘনঘটা৷ কখনও ভাঙচুর, কখনও গুলি, কোনওদিন আবার বার ড্যান্সার খুন৷ এলাকার পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে রাতের বাইক বাহিনীর দাপটে৷ হাজার চেষ্টাতেও যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না৷ পানশালাগুলি ঘিরে যে চক্র গড়ে উঠেছে তা নিয়েও কপালে ভাঁজ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের৷ কয়েকদিন আগেই একটি পানশালার মালিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে নারী পাচারচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে৷ জানা গিয়েছে, একাধিক পানশালার মালিক এই ব্যক্তি নাচ-গানে যুক্ত যুবতীদের বাড়তি পয়সার লোভ দেখিয়ে মুম্বই, এমনকী দুবাইতেও পাচার করতেন৷ তাঁকে জেরা করে অনেক তথ্য মিলেছে৷ চলছে আরও অভিযান চালানোর উদ্যোগ৷ তারই মধ্যে মামণির মৃত্যু এই চত্বরের অন্ধকার জগৎকে যেন আরও রহস্যবৃত করে তুলল৷

কে এই যুবতী? একাই থাকতেন৷ এবং এটা তাঁর আসল নাম নয়৷ যেমনটি হয়ে থাকে এই পেশায় আসা অন্য মেয়েদের ক্ষেত্রে৷ পিতৃদত্ত নাম থাকে আড়ালে৷ ফলে মামণির আসল নাম-ধাম খুঁজতে নামে পুলিশ৷ জানা যায়, এখানকারই যাত্রাগাছি এলাকায় আদি বাড়ি তাঁর৷ এবার এটি আত্মহত্যা না খুন সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ৷ তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দেখেছে, তাঁর দেহে বেশ কিছু আঘাতের চিহ৷ ঘরে খাটের উপরে খাবারের কিছু টুকরো ছড়ানো৷ জলের বোতল, গ্লাস এবং কিছু জিনিস পুলিশ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু ঘর ভিতর থেকে বন্ধ ছিল এবং রাতে থানায় ফোন এসেছিল বলেই পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্বে জোর দিচ্ছে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে