তারাতলায় তিনতলা গোডাউন নির্মাণের পুরো প্রকল্পের জন্য মাত্র বরাদ্দ হয়েছিল ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার লোহার রড। অথচ গোয়েন্দারা হিসাব করে দেখেছেন, এই খাতে তার থেকে অনেক বেশি টাকা বরাদ্দ করার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই লোহার রড-সহ নিম্নমানের সামগ্রী নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয় বলে সন্দেহ লালবাজারের ‘সিট’-এর। এটি তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। এদিকে, কত দেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ ধন্দে। লালবাজার জানিয়েছে, কত শ্রমিক কাজ করতেন, তার কোনও রেকর্ড ছিল না। কোনও খাতা থাকলেও তা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়েছে। তাই সেই সংখ্যা জানার কোনও রাস্তা নেই।
এই বিষয়ে আরও খবর

গোডাউন নির্মাণ সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স নির্মাণের জন্য বন্দর এলাকার আয়ান ট্রেডার্সকে বরাত দিয়েছিল। সেই সংস্থারই কর্ণধার ছিলেন আসগর, যাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে। তাঁর নাম এফআইআরে রয়েছে। এছাড়াও আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার বিমের পরিকাঠামোর ফ্যাব্রিকেটর কমল সামন্ত, মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভাণ্ডারী, পুরসভার যে দালাল প্ল্যান অনুমোদনের ভার নেন, সেই আবদুল হামিদকে আটক করার পর পুলিশ বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে তোলে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুন ও ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এদিন গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল আগরওয়াল জানান, এই গোডাউনের অনুমোদিত প্ল্যান পাওয়ার জন্য ‘সিট’ কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। শম্ভুনাথ বেহরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে ৩০ বছরের লিজে জমি নিয়েছিলেন, সেই নথিও দেখা হচ্ছে। বেহরা ব্রাদার্সে শম্ভুনাথের সঙ্গে তাঁর দুই ভাই ও স্ত্রীর অংশীদারত্ব রয়েছে। ক্রমে তাঁদেরও জেরা করা হতে পারে। এদিকে, পুলিশ জেনেছে, অভিযুক্ত সংস্থা আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজারের বিরুদ্ধে একবালপুর থানায় একটি ও ঠিকাদার আসগর হোসেনের বিরুদ্ধে দু’টি পুরনো মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ বন্দর এলাকায় একটি মামলা ও একবালপুরে অপহরণের মামলাও রয়েছে আসগরের বিরুদ্ধে। আগে আসগর খিদিরপুরের বাবুবাজার ও হাইড রোডে পার্কিং থেকে টাকা তুলতেন। পরে প্রাক্তন মন্ত্রীর সহযোগিতায় নির্মাণের ব্যবসায় নামেন। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ধৃতদের আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল আবেদনে জানান, এই গোডাউন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্ল্যান পরীক্ষা না করেই ইস্যু করা হয়। লোহা ও অন্যান্য নির্মাণের সামগ্রী ছিল নিম্নমানের। যে টাকার মধ্যে কাজ করা সম্ভব নয়, সেই টাকায় কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। অভিযুক্তরা জানতেন যে, নিম্নমানের লোহা ও সামগ্রী ব্যবহার করলে নির্মাণ ভেঙে পড়তে পারে। আর ঠিক সেটাই হয়। আয়ান ট্রেডার্সের এই ধরনের কাজের কতটা অভিজ্ঞতা রয়েছে,তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
আইএসএল থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, হাইতির হয়ে ইতিহাস গড়লেন ডিউকেন্স নাজন
-
তারাতলার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আত্মীয়কে ফোন, উদ্ধারেও হল না শেষ রক্ষা! মৃত্যু সেই মন্নুর
-
‘ইহুদিরাও তোমার উপর বিরক্ত’, যুদ্ধের মাঝেই নেতানিয়াহুর উপর তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ট্রাম্প!
-
পরিবারের মধ্যে প্রজননে বদলে যাচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গলের রং! জিনগত সমস্যা রুখতে ‘সাফারি’তে নাগমণি
-
‘বাঁচতে পারবে না’, বিয়ে ভাঙার কথা বলতেই সিয়াকে হুমকি কেতনের! হবু স্বামী খুনে বিস্ফোরক তথ্য



