ছাব্বিশের ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এই মুহূর্তে চর্চা তুঙ্গে বঙ্গ রাজনীতিতে। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে কি আইএসএফ, কংগ্রেসের হাত ছেড়ে স্রেফ হুমায়ুন কবীরদের সঙ্গে জোট গড়ছেন লাল পার্টি? এসব নিয়ে হাজার প্রশ্নোত্তরের মাঝে সেলিম-হুমায়ুনের এই সাক্ষাতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বাম শরিক মহলে। ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র স্পষ্ট বক্তব্য, হুমায়ুনের সঙ্গে বামপন্থীদের আলোচনা অবাঞ্ছিত ঘটনা। এই ধরনের আলোচনা অনুচিত। আর এই সাক্ষাৎ নিয়ে দুই বিরোধী দলকে খোঁচা দিয়ে নতুন প্যারোডি গান বাঁধলেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। ডুগডুগি বাজিয়ে তিনি গেয়েছেন, ‘আমার এই ছোট্ট ঝুড়ি/ এতে রাম-বাম আছে/ দেখে যা নিজের চোখে/ সেলিমদা কেমন নাচে’।
অতীতে বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে শরিকদের কম আপত্তি ছিল না। তা সত্ত্বেও ‘বড় দাদা’ সিপিএমের সিদ্ধান্ত নিমরাজি হয়েই মেনে নিয়েছিল বামেদের অন্যান্য শরিক দলগুলি। ফরওয়ার্ড ব্লক অবশ্য নিজেদের শক্তিশালী গড়ে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বহু দূর নিয়ে গিয়েছিল। এবারও সেলিম-হুমায়ুন ‘জোট’ বৈঠকে তারাই সবচেয়ে ক্ষুব্ধ। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন কারও সঙ্গে জোট নয়। এককভাবে সিপিএমের সিদ্ধান্ত হবে না।” আরএসপিও ক্ষুব্ধ। দলের রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ের প্রতিক্রিয়া, ”হুমায়ুনের সঙ্গে বামপন্থীদের আলোচনা অবাঞ্ছিত ঘটনা। এই ধরনের আলোচনা অনুচিত। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন:
সেলিম-হুমায়ুনের সাক্ষাৎ নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন কারও সঙ্গে জোট নয়। এককভাবে সিপিএমের সিদ্ধান্ত হবে না।” আরএসপিও ক্ষুব্ধ। দলের রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ের প্রতিক্রিয়া, ”হুমায়ুনের সঙ্গে বামপন্থীদের আলোচনা অবাঞ্ছিত ঘটনা। এই ধরনের আলোচনা অনুচিত। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
যদিও এই সাক্ষাৎকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইছেন না খোদ মহম্মদ সেলিম। সমালোচনার মুখে পড়ে সেলিমের দায় এড়ানো প্রতিক্রিয়া, “সেলফি তোলা মানেই প্রেম নয়। কারও মুখে ঝাল না খেয়ে আমি চেখে দেখি না।” যারা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে, সবার সঙ্গেই আলোচনা চান বলেই জানান তিনি। কে কী চাইছে তা বুঝে তারপর দলে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্ত তারও পরে। তাঁর আরও বক্তব্য, “সিপিআইএমের বৈঠক হয় আলিমুদ্দিন দপ্তরে। রাজনৈতিকভাবে সমঝোতা, আসন সমঝোতা, ভাগাভাগি, এগুলো সব আলিমুদ্দিনে হয়। অন্য রাজনৈতিক দল যদি থাকে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। এখন আমরা সেই পর্যায়ে রয়েছি।” মাস দুই পর বিধানসভা ভোট। আর তার আগে বিরোধীদের জোট জট যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাস্তায় সরকারি বাস বাড়ানোই লক্ষ্য, দায়িত্ব নিয়ে সুভাষ চক্রবর্তীকে মনে করলেন অর্জুন
-
এখনই সরাসরি যোগ নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে সর্বস্তরে জোট চান মমতা
-
মমতা সঙ্গী হলে ‘হাত’ ছাড়বে বাম, প্রভাব পড়বে ইন্ডিয়া জোটেও
-
মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার, ইরানে রাতভর গোলাবর্ষণ আমেরিকার! পালটা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা তেহরানের
-
বেসরকারি স্কুলের সিকরুমে কন্ডোম! উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা, কাঁচরাপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য