Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Mamata Banerjee

বিধানসভার পর ভাঙছে তৃণমূলের সংসদীয় দলও! প্রতীক-তহবিল কি হাতছাড়া হবে মমতার? জানুন নিয়ম

এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে 'নতুন'রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আগামী দিনে সংসদীয় দলেও সেটাই হতে চলেছে। কিন্তু তারপরও কি স্বস্তিতে ঋতব্রতরা?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৫, ২০২৬, ১৭:৩২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৫, ২০২৬, ১৭:৩২

options
link
বিধানসভার পর ভাঙছে তৃণমূলের সংসদীয় দলও! প্রতীক-তহবিল কি হাতছাড়া হবে মমতার? জানুন নিয়ম zoom
ফাইল ছবি।

বিধানসভায় ভরাডুবির পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরেছে। যা খবর তাতে এরপর সংসদীয় দলে ভাঙনও অবধারিত। যা শোনা যাচ্ছে, তাতে লোকসভার দুই তৃতীয়াংশ সাংসদও তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যেতে চলেছেন। বাংলায় যে বিদ্রোহ হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, সেই একই বিদ্রোহ দিল্লিতে হতে পারে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নেতৃত্বে। বিধানসভার মতো লোকসভাতেও যদি দুই তৃতীয়াংশ সাংসদ বেরিয়ে যান, তাহলে তাঁদেরও দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়তে হবে না।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, লোকসভার সাংসদরাও যদি মমতা-অভিষেকদের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে ঋতব্রতদের সঙ্গে হাত মেলান, তাহলে কি তাঁরাই তৃণমূলের প্রতীক-নাম এবং তহবিলের চাবির মালিকানা পাবেন? বস্তুত, দলের প্রতীক-নাম এবং তহবিল যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক কেরিয়ারের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হল শুধু সংসদীয় এবং পরিষদীয় দলের সিংহভাগ বিধায়কের সমর্থন পেলেই কি ঋতব্রত-কাকলিরা মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ পাবেন?

Advertisement

কী বলে নিয়ম?

১। শুধু সংসদীয় এবং পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরালেই হবে না। ‘আসল’ তৃণমূল হিসাবে নিজেদের দাবি করতে হলে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের। নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে লিখিত আকারে সেই আবেদন জমা দিতে হয়।

২। কীসের ভিত্তিতে ওই আবেদন করা হচ্ছে, লিখিত সমর্থনের চিঠি প্রমাণ হিসাবে জমা দিতে হয় কমিশনে। এক্ষেত্রে শুধু যে বিধানসভা এবং লোকসভার সাংসদ-বিধায়কদের সিংহভাগের সমর্থন দরকার তাই নয়, একই সঙ্গে দলের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদেরও সিংহভাগের সমর্থন দরকার পড়ে।

আবেদন পেলে কমিশন কী করতে পারে?

১। ঋতব্রতরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন তাহলে নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সেক্ষেত্রে শুধু বিধায়করা নন, হিসাবের মধ্যে আসবেন দলের সাংসদরা, এমনকী দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীরাও। নির্বাচন কমিশন সেক্ষেত্রে দলের সব বিধায়ক-সাংসদ এমনকী পদাধিকারীদের মতামত জানতে চাইবে-আসল তৃণমূল হিসাবে তারা কাকে স্বীকৃতি দিতে চায়। সেই মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

২। যে পক্ষের হাতে বেশি সাংসদ-বিধায়ক এবং পদাধিকারীদের সমর্থন থাকবে তাঁরা দলের আসল নাম-প্রতীক এবং তহবিলের চাবি পাবে। অন্য পক্ষকে নতুন দল হিসাবে রেজিস্টার করার সুযোগ দেবে কমিশন।

৩। যদি সঙ্গে সঙ্গে কোন শিবিরের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সেটা নির্ধারণ করা সম্ভব না হয় তাহলে কমিশন মূল দলের প্রতীক এবং নাম ফ্রিজ করে দেয়। দুই শিবিরকেই বলা হয় নতুন নাম এবং প্রতীক নিয়ে রাজনীতি করতে। দলের তহবিল ভাগ করে দেওয়া হয় আনুপাতিক হারে।

এখন প্রশ্ন হল, তৃণমূলের ক্ষেত্রে কী হবে? এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ‘নতুন’রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আগামী দিনে সংসদীয় দলেও সেটাই হতে চলেছে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেটা বোঝার উপায় নেই। সেক্ষেত্রে লড়াই যদি কমিশনে যায়, তাহলে খানিকটা এগিয়ে থাকবে নতুন শিবির। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই। আবার কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার রাস্তাও খোলা থাকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.